প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংবাদের সম্পাদকীয়
অবাধ লুটপাটের দরজা খুলে দেয়া হলো

গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল-২০১৭ পাস হয়। বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য এ আইনের বিরোধিতা করেন। তারা বিলটি জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও সেটা আমলে নেয়া হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াক আউট করে। বিল উত্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদে বলেন, বিদ্যমান আইনের পরিচালকসংক্রান্ত কয়েকটি ধারা সংশোধন করা না হলে ব্যাংকগুলোর গতি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে।

শুধু জাতীয় সংসদের বিরোধী দলই নয়, মুষ্টিমেয় কয়েক ব্যাংকমালিক ছাড়া বাকি সবাই উল্লিখিত সংশোধনীর বিরোধিতা করে আসছেন। অনেক বিশেষজ্ঞ স্পষ্ট করেই বলেছেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের উল্লিখিত সংশোধনী আনা আর্থিক খাতের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। সরকার কারো কথাই আমলে নেয়নি। অর্থমন্ত্রী বলছেন, সংশোধনী না আনা হলে ব্যাংকের গতি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু আমরা জানি না যে, দেশে এই মুহূর্তে ব্যাংকের কোন গতি বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে। পত্রপত্রিকার খবরে যতটুকু জানা যায় যে, রাষ্ট্রায়ত্ত্বের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকেও খেলাপি ঋণ বাড়ছে। নতুন পুরনো কোন কোন ব্যাংক ধ্বংস হওয়ার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করে বলেছেন, এ অবস্থায় একই পরিবার থেকে চারজনকে পরিচালক করা হলে এবং তাদের টানা দায়িত্ব পালনের মেয়াদ বাড়ানো হলে খেলাপি ঋণের ঘটনা বাড়বে। বেসরকারি ব্যাংকের একশ্রেণীর উদ্যোক্তা নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে বা দিয়ে তা খেলাপিতে পরিণত করছেন। সরকার কি খেলাপি ঋণের গতি বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করল কিনা সেটা স্পষ্ট করলে ভালো হতো।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের উল্লিখিত সংশোধনের আবদার করেছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। ব্যাংক মালিকদের এই সমিতি যোবে চেয়েছে সরকার হুবহু সেভাবেই আইন সংশোধন করেছে। একই পরিবার থেকে পরিচালক হওয়ার সংখ্যা বা মেয়াদ নির্ধারণে মাঝামাঝি কোন অবস্থান নিয়ে আইন পাস হলেও না হয় বলা যেত যে, সরকার একটু হলেও আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষা করেছে। কিন্তু সরকার যেভাবে বিএবির আবদার রক্ষা করছে তাতে আমানতকারীদের স্বার্থ পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হচ্ছে জনস্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন প্রশ্নে পুরোপুরি গোষ্ঠী স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হলে এই আইন সংশোধনে সরকার আগাগোড়া যে ভূমিকা পালন করেছে তাতে মনে হয়েছে, তার আমানতকারী সাধারণ মানুষের কাছে নয়, মুষ্টিমেয় উদ্যোক্তা, ব্যাংক মালিকের কাছে দায়বদ্ধ, যে কোন উপায়ে তারা এই দায় মেটাতে চায়। এখন আমরা শুধু এটুকুই বলতে পারি, উল্লিখিত আইন পাস করে বর্তমান সরকার জনস্বার্থ উপেক্ষা করার একটি মন্দ নজির স্থাপন করল।

ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের ফলে ব্যাংকগুলোতে চিরস্থায়ী পরিবারতন্ত্র কায়েম করা হলো। এর প্রেক্ষিতে ব্যাংক খাত বিপর্যস্ত হলে দেশের আর্থিক খাতে ধস নামতে পারে। অনাকাক্সিক্ষত এমন কিছু হলে সরকার তার দায় এড়াতে পারবে না। ব্যাংক খাতের দুর্গতি যে একটি দেশের অর্থনীতিকে কতটা দুর্দশাগ্রস্ত করতে পারে সেটার নজির সাম্প্রতিক বিশ্বে অনেক উন্নত দেশেও দেখা গেছে।

সূত্র: সংবাদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত