প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার বিধান

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম: আল্লাহ তায়ালা মানুষকে শেষ নবীর আগমনের পর ইসলামকেই তার একমাত্র ধর্ম হিসেবে মনোনিত করেছেন। তাঁর মনোনীত চূড়ান্ত জীবন বিধানই ইসলাম। যা বিশ্ববাসীর জন্য রহমত ও কল্যাণের জীবন ব্যবস্থা দিয়ে মনোনীত করেছেন। যে কারণে ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কাউকে জোর-জবরদস্তি করা যাবে না। বাধ্যও করা যাবে না। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারিমের ২৫৬নং আয়াতে সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়ে বলেছেন- দ্বীনের (ইসলামি জীবন-ব্যবস্থা গ্রহণের) ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। ভ্রান্ত মত ও পথ থেকে সঠিক মত ও পথকে ছাঁটাই করে আলাদা করে দেয়া হয়েছে। এ যে কেউ তাগুতকে অস্বীকার করে আল্লাহর ওপর ঈমান আনে, সে এমন একটি মজবুত অবলম্বন আঁকাড়ে ধরে, যা কখনো ছিন্ন হয় না। আর আল্লাহ সব কিছু শোনেন এবং জানেন।

ইসলাম হলো চিরন্তন, সুন্দর ও কল্যাণকর জীবন ব্যবস্থা। যারাই ইসলামকে সুদৃঢ়ভাবে গ্রহণ করে; তাঁরাই দুনিয়া ও পরকালের ধ্বংস ও প্রবঞ্চনা থেকে মুক্ত হয়ে যায়। হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার এক বৃদ্ধা নাসারা (খ্রিস্টান) মহিলাকে ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিয়েছিলেন। তখন সে মহিলা উত্তরে বলেছিল- আমি মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়ানো এক বৃদ্ধা। শেষ জীবনে নিজের ধর্ম কেন ত্যাগ করব? হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বৃদ্ধা মহিলার এ কথা শুনেও তাকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করেননি বরং এ আয়াত পাঠ করলেন- লা ইকরাহা ফিদ-দ্বীন অর্থাৎ ধর্মে বল প্রয়োগের কোনো নিয়ম নেই। (তাফসিরে মারেফুল কুরআন)

ইসলাম গ্রহণের (ঈমানের) সম্পর্ক বাহ্যিক অঙ্গ-প্রতঙ্গের সঙ্গে না হওয়ায় জোর-জবরদস্তি করে ঈমান গ্রহণ করানোর কোনো সুযোগই নেই। প্রকৃত পক্ষে ইসলাম গ্রহণে বল প্রয়োগ সম্ভবও নয়। কারণ ঈমানের সম্পর্ক বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঙ্গে নয়; তাহলো মনের সঙ্গে। তাই ইসলামের সৌন্দর্য ও উত্তম আদর্শগুলোই মানুষকে ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করে। এটাই ইসলামের প্রচার ও প্রসারের অন্যতম মাধ্যম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত