প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটারদের পরোয়া করছে না কেউ

রাশিদ রিয়াজ : যে কয়কটি নতুন ওয়ার্ড গঠিত হয়েছে সেখানে ভোটার তালিকা প্রস্তুত না হলে সেই এলাকা বাদ দিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচন হলে ভোটাররা অন্তত ভোট দেয়ার সুযোগ পেত। এক চিলতে আশা জেগে উঠেছিল ভোটারদের মনে। রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনী আয়োজনকে সামাল দিতে পারেনি। এখন যা হচ্ছে তা হচ্ছে পারস্পরিক দোষারোপ। এতে ভোটারদের মন থেকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচন করার ইচ্ছা আরো খানিকটা উবে যাবে।
হাইকোর্ট ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করার পর বিরোধী দল বিএনপি এমন পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিএনপি বলছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকার জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। এ ঝুঁকি বিএনপি কতটা নিয়েছে তাও বোঝা মুস্কিল। বিএনপি আগে ভাগে এধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বা নির্বাচন কমিশনের যে গাফিলতির কথা বলছে দলটি ভোটার তালিকা প্রস্তুত নিয়ে তা আগাম তৈরির জন্যে আদতেই দলটি সক্রিয় ছিল কি না তা বলছে না।

আওয়ামী লীগ এসব অভিযোগ নাকচ করেছে। দুটি দলই ঢাকা উত্তরের মেয়র উপনির্বাচনের জন্য তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। শক্তিশালী কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা হেভিওয়েট প্রার্থ আওয়ামী লীগের ছিল না, সেদিক থেকে বিএনপির প্রার্থী পূর্ব নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় এগিয়ে ছিলেন। ২৬শে ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, এখন তা কবে হবে অন্তত ভোটাররা তা বলতে পারেন না। তাদের জন্যেই এ নির্বাচনী আয়োজন অথচ রাজনৈতিক দল কিংবা নির্বাচন কমিশন ভোটারদের প্রতি দায়বদ্ধতার কোনো নজীর রাখতে পারেনে এ নির্বাচনকে ঘিরে।

বছরের শেষদিকে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন কয়েক আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন। এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন নিয়ে যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা, জল্পনার সৃষ্টি হয়েছিল তাতে ভাটা পড়ল। এর কি কোনো প্রভাব পড়বে জাতীয় নির্বাচনে ?

প্রথমত যে আশা ও উজ্জীবিত হয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি আওয়ামী লীগের আগেই প্রার্থী ঘোষণা করেছিল সেখানে একটা হোঁচট খাওয়ায় আস্থায় একটা ক্ষত সৃষ্টি করবে। মেয়র নির্বাচনের এ দশা হলে জাতীয় নির্বাচনের রুপরেখা কেমন হবে সে অঙ্ক কষতে শুরু করছেন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশন কি জানত না যে দুটি ইউনিয়নের ভোটর তালিকা এখনো সম্পন্ন করা হয়নি। তফশিল ঘোষণার আগে তাদের কি কোনো তাড়া ছিল ওই তালিকা সম্পন্ন করার। এ দায় কে নেবে?

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের বছরে ঢাকা উত্তরের উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে তারা ক্ষমতাসীন দলের সাথে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের লড়াইয়ে নামতে চেয়েছিলেন। সরকার সেই ঝুঁকি নিতে চায়নি। তাহলে রাজনৈতিক পরিপক্কতায় যে দল ঘাটটিতে থাকে ভোটার বা জনগণ সে দলকে সমর্থন দিয়ে কেন ঝুঁকি নিতে যাবে? ফখরুল আরো বলেছেন, জটিলতাগুলো দূর না করেই নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছিল। ফলে এখনকার পরিস্থিতির দায় নির্বাচন কমিশনের ওপরই বর্তায়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যে সরকারের তল্পিবাহক হয়ে কাজ করছে না সে বিষয়টি জনাব ফখরুল আগেভাগেই নিশ্চিত হলেন কিভাবে? কেন তার দলের ওপর থেকে নির্বাচন কমিশনের ওপর ভোটার তালিকা প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে তফশিল ঘোষণার আগেই প্রবল চাপ তৈরি করা হয়নি। নির্বাচনী আইন সম্পর্কে বিএনপির নেতারা তো পুরোপুরি ওয়াকিবহাল। ফখরুলের মতে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না, তাহলে বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে এব্যাপারে কোনো রাজনৈতিক সহায়তা সৃষ্টির নজীর কি উপস্থাপন করতে পেরেছে?

মাঝখান থেকে ভোটারদের আর বুঝতে বাকি নেই আগামী নির্বাচন কেমন হবে? অনেক ভোটার মনে করছেন, কষ্ট করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে হাঙ্গামা পড়ে কি লাভ। তারা না গেলেও তাদের ভোট রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ঠিকই দিয়ে দেবেন। ভোটারদের এধরনের অসহায়ত্বের জন্যে রাজনৈতিক দলগুলোই দায়ী। নির্বাচন কমিশনও ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

অবশ্য আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা এবং মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এসব অভিযোগ মানতে রাজি নন। তিনি বলেছেন, আমরা যদি নির্বাচন করতে না চাইতাম, তাহলে আমরা প্রার্থীই মনোনয়ন দিতাম না। আমরা গতকালই প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছি। সেখানে বিএনপির এসব বক্তব্য নিয়ে কথা বলার কিছু নেই। আর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অস্বীকার করে কমিশনের সচিব হেলাল উদ্দিন বলেছেন, সব জটিলতা দূর করেই নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা উত্তরের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল।

মোদ্দা কথা হচ্ছে ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ে আওয়ামী লীগের ইতিহাস সবার জানা। নির্বাচন নিয়ে যখন এত নাটক হচ্ছে তখন এ দলটিই ক্ষমতায়। ভোটারদের প্রত্যাশা তাই বেশি ছিল। অনেকদিন পর উৎসবমুখর নির্বাচনে তারা ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’ এমন পুরোনো স্লোগান ফের নতুন করে ভোটারদের মনে নির্ভয়ে পছন্দের প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ করে দেবে। কিন্তু সেই আশা কি কুহকে পরিণত হল কি না তা স্পষ্ট হতে আরো দিন কয়েক অপেক্ষা করতে হবে কেবল ভোটারকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত