প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অন্তরালে বিদেশে সৈন্য বিস্তার ট্রাম্পের

লিহান লিমা : নির্বাচনী প্রচারণা থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের সেনা ঘাঁটিতে ট্রিলিয়ন ডলার অপচয় ও হাজারো সৈন্যের মৃত্যুর জন্য নিজের বিরোধীদের সমালোচনা করেছিলেন।

ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তার আমেরিকা ফার্স্ট নীতির আওতায় বিদেশে সৈন্য বিস্তার নয় বরং কর এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর দিকে নজর দেয়া হবে। ট্রাম্পের এইসব কথায় ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্সির প্রথম বছরেই প্রচারণার সেই সুর পাল্টে তিনি বিশ্বজুড়ে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি আরো জোরদার করেন এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরোক্ষভাবে হুমকির কারণ হতে পারে এমন স্থানে সৈন্যবাহিনী মোতায়নের ওপর জোর দেন।

১৬ বছর ধরে আফগানিস্তানে যে যুদ্ধ হচ্ছে এবং যা প্রায় শেষ হওয়ার পথে চলে আসছিল ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে সেটি আরো ব্যাপক পরিসরে শুরু করেন। প্রথমবারের মত সিরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র মিসাইল নিক্ষেপ করে। এভাবে দুই মহাদেশে মার্কিন সেনা বাহিনীর যুদ্ধ শুরু করেন ট্রাম্প।

প্রচারণার সময় ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া এবং সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির সমালোচনা করলেও আইএসএর বিরুদ্ধে আরো কঠোরভাবে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সিরিয়া এবং ইরাকের আইএসএর প্রায় সব অধিভুক্ত অঞ্চল এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিজয়ের পর এখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সৈন্য প্রত্যাহার করার বিপরীতে উল্টো ইরাক ও সিরিয়াতে আরো ৭ হাজার সেনা বিস্তারের কথা বলেছে। আইএস ছাড়াও ট্রাম্প সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলে মধ্যপ্রাচ্যসহ আফ্রিকাতে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যেখানে আইএস কোন ইস্যুই নয়। সোমালিয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠি এবং ইয়ামেনে আল কায়দার বিরুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী য্দ্ধু করছে।

সবচেয়ে বড় কথা, ক্যাম্পেইন চলাকালে ট্রাম্প বৈদেশিক রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার যে বার্তা দিয়েছিলেন তাতে অনেকেই আশার প্রদীপ জ্বেলেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোতে নিশ্চিত, ট্রাম্প কখনোই হস্তক্ষেপ-বিরোধী প্রেসিডেন্ট নয়, যা তার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছিল। সিএনএন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত