প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাবিতে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কারের দাবি, ভিসি অফিস ঘেরাও, প্রক্টর অফিস ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত রাজধানীর সাত কলেজ বাতিলের দাবিতে করা আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা ও নারী নির্যাতনের বিচার চেয়ে প্রক্টরের কার্যালয় ভাঙচুর ও উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে রেখেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার শিক্ষার্থীরা সকাল ১১টায় অপরাজয় বাংলার পাদদেশে ‘নিপীড়ন বিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থী’দের ব্যানারে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল করে ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার বিচার দাবি করে কলাভবনে প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করতে যান তারা। কিন্তু তখন প্রক্টর অফিসের কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়ায় সেটি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। সেখানে তিনটি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কার্যালয় ত্যাগ না করার ঘোষণা দেন তারা। তাদের দাবিগুলো হচ্ছে ১. চিহ্নিত হামলাকারীদের সাময়িক বহিষ্কার করতে হবে, ২. তদন্ত কমিটিতে তিনজন ছাত্র নেতৃত্ব রাখতে হবে, ৩. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের বহিষ্কারাদেশ দিতে ব্যর্থ হলে প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে।

এসময় প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানি তাদের কাছে আধা ঘণ্টা সময় চান। সময় শেষ হলে প্রক্টর বলেন, ‘ সাত দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’ কিন্তু এরপরও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিক বহিষ্কারের দাবি তোলেন। এ বিষয়ে তিনি সুস্পষ্টভাবে কোনো উত্তর না দিতে পারায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করতে থাকেন এবং প্রক্টরকে টানা তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিকাল ৪টায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান প্রক্টর গোলাম রব্বানি। এরপর স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভকারীরাও উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে চলে আসেন। বর্তমানে তারা সেখানেই অবস্থান করছেন।

প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করার বিষয়ে বিক্ষোভকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের দাবি হচ্ছে হামলাকারীদের বহিষ্কার করতে হবে। কিন্তু, তিনি (প্রক্টর) বলেন তদন্ত করে দেখবেন। যারা হামলাকারী তারা তো চিহ্নিত। চিহ্নিত করতে হলে তদন্ত করতে হয়। এখনতো হামলাকারীরা চিহ্নিত। তিনি বহিষ্কারের কথা কেন বলছেন না?’

আন্দোলনকারী অপর শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন সুজন বলেন, ‘আগে আক্রমণকারীদের সাময়িক বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি। তারপরে তদন্ত কমিটি গঠন করার আহবান জানাচ্ছি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করতে হবে।’

ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীকে হামলাকারী দাবি করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা যে শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন এবং ছাত্রলীগের নামে খারাপ কথা বলছে তার জন্য আমরাও তাদের বহিষ্কার দাবি করছি। আন্দোলনকারীরাও ছাত্রলীগের ওপর আক্রমণ করেছে।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে তারা অনশনের ঘোষণা দিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে আন্দোলনকারীদের তুলে দেন। সেখানে অবস্থান নেওয়া ছাত্রীদের নানা ধরনের কটূক্তিসহ হয়রানি ও হামলার অভিযোগ তুলে আসছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বাংলা ট্রিবিউন অবলম্বনে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত