প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঘন কুয়াশা ও প্রচন্ত ঠান্ডার লেট ব্লাইট রোগে ৩০ লাখ টন আলু কম উৎপাদনের আশংকা

মতিনুজ্জামান মিটু : ঘন কুয়াশা ও প্রচন্ত ঠান্ডার লেট ব্লাইট রোগে চলতি মৌসুমে দেশে প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন আলু কম উৎপাদন হবে বলে অনেক চাষি ও কৃষিবিদরা আশংকা করেছেন। তবে কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এবং হর্টিকালচার উইং এর কর্মকর্তারা বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এতে আলুর ফলনের ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়বেনা। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর সাবেক পরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, লেট ব্লাট(নাবিধ্বসা রোগ) রোগের আক্রমণে ইতোমধ্যে দেশের আলু ফলনের ৩০ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। পুরো উত্তর বঙ্গ জুড়ে আলুর মড়ক রোগে(লেট ব্লাইট) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক আবাদি আলুর জমি ভেঙ্গে দিয়েছে। এবার দেশে আলুর ফলনের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ভাগ নষ্ট হতে পারে।

গত বছর অর্থাৎ ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে মড়ক রোগের কারণে এই ক্ষতির পরিমাণ ছিল শতকরা ১১ দশমিক ১১ ভাগ। গত বছর নাবিধ্বসা রোগের মড়কে দেশে ১ দশমিক ২৮৮৭৬ মেট্রিক টন আলু কম উৎপাদন হয়। এই নিয়ে ১৯৯১ সাল থেকে মোট প্রায় সোয়া ৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন আলু কম উৎপাদন হয়। এ সময়ে দেশে ৩৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়। ১৯৯১-১৯৯৫ অর্থবছরে আলুর মড়ক রোগে ক্ষতির পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি ২২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ওই সময়ে দেশে ২ দশমিক ১০ মিলিয়ন আলু উৎপাদন হয়েছিল। মড়কের কারণে কম উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৬৩ লাখ মেট্রিক টন আলু।

লেট ব্লাইট আলুর একটি ভয়াবহ রোগ। এই রোগ আয়ারল্যান্ডের দূর্ভিক্ষের একমাত্র কারণ ছিল। ১৮৪৫ সালে এই রোগে আয়ারল্যান্ডের সব আলু নষ্ট হয়ে যায়। এতে সেখানে ৫লাখ মানুষ না খেয়ে মারা যায়। আয়ারল্যান্ডের আগে ১৮৪০ সালে উত্তর আমেরিকায় আলুতে এ রোগটি দেখা দিলে যথেষ্ট ক্ষতি হয়। তখন কেউ ধারণা করতে পারেনি যে রোগটি আমেরিকা থেকে ইউরোপে আসতে পারে। মেক্সিকোতে রোগটি প্রথম দেখা দেয় বলে ধারণা রয়েছে। আলু ফসলের এ রোগটি ১৯১২-১৩ সালের দিকে ভারতের আসাম, বিহার ও বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের আলুর ফসলে দেখা দেয়। আলুর ফসল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের প্রকোপও বাড়তে থাকে। বাংলাদেশে প্রতি বছরই কিছু না কিছু আলু ফসল এ রোগে নষ্ট হয়। পুরো পরিসংখ্যান না থাকলেও গড়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ভাগ আলুর ফসল প্রতি বছর এ রোগে নষ্ট হয়। গত বছর দেশে মোট ১ কোটি ৩ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়। এবছর এই মড়কে অন্তত ২৫ ভাগ জমির আলুর ফসল নষ্ট হবে। আর তাতে ফলন কম হবে প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন আলু।

এবারের আলুর মড়কের ব্যাপারে কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, এবারে আলু ফসলের তেমন কোনো ক্ষতি হবেনা। উত্তর বঙ্গে যে কয় জায়গায় প্রথমিকভাবে এই রোগ দেখা দিয়েছিল তা স্প্রে করে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ডিএই হর্টিকালচার উইং এর পরিচালক কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান বলেন, সময় মতো পদক্ষেপ নেয়ায় এ রোগ বিস্তার করতে পারেনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত