প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানসিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ চেয়ার ‘আমলামুক্ত’ চান মানসিক চিকিৎসকরা

 

রিকু আমির : মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় যে অধিদপ্তর গঠনের কথা সাম্প্রতিক মন্ত্রী সভায় বলা হয়েছে, সে অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে কোনো আমলা চাচ্ছেন মানসিক চিকিৎসকরা।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে গত ৩ জানুয়ারি ‘অধিদপ্তর’ গঠনের বিধান রেখে মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দেয় মানসিক স্বাস্থ্য আইনের খসড়া।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের মানসিক চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। নাম না প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে তারা প্রত্যেকেই বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমলাদের জ্ঞান মানসিক চিকিৎসকের মতো নয়। কখন, কোথায় কী লাগবে, কেন লাগবে- সে সম্পর্কে সবচেয়ে ভাল বোঝার ক্ষমতা রাখেন মানসিক চিকিৎসকই। যদি আমলা দেয়া-ই হয়, সেক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার উদাহরণ দিয়ে ঢাকা মেডিকেলের একজন মানসিক চিকিৎসক বলেন, এতো বড় ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান নেতৃত্ব দিচ্ছেন একজন চিকিৎসক। সরকার সেখানে তো আমলা দিলেও পারতো। কিন্তু চিকিৎসক দেয়ার কারণই হলো, পরিচালনাগত দিক দিয়ে সবচেয়ে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া। যেটা আমলার কাছ থেকে সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একজন চিকিৎসক বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা একজন আমলা। সে সূত্র ধরে আমলারা মানসিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ চেয়ার দখল করার চেষ্টা করছে। এটা হলে মানসিক অধিদপ্তর তথা সরকারি ব্যবস্থাপনায় মানসিক চিকিৎসার জন্য খুব দুর্ভাগ্যজনক হবে।

এ প্রতিষ্ঠানের আরেকজন চিকিৎসক এ প্রতিবেদককে জানান, এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাকে কোনো কিছু অবহিত করা হয়নি। কিন্তু তাকে জানানো খুব জরুরি ছিল। কেননা, বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পরিচালিত হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেতৃত্বেই।

জানার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে বুধবার বিকালে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্য অধিপদপ্তরের একজন পরিচালক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, স্বাস্থ্য অধিপ্তরে মহাপরিচালক, অতিরিক্ত দুই মহাপরিচালকসহ যতো পরিচালক আছেন, প্রত্যেকেই চিকিৎসক। এতে কী অধিদপ্তরের কাজ হচ্ছে না? মানুষ কী সেবা পাচ্ছে না? চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন কী হচ্ছে না? স্বাস্থ্য সেক্টরের সব কাজের নেতৃত্বে থাকবেন চিকিৎসক। এটাই স্বাভাবিক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত