প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উড়োজাহাজ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন আরমান

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের নিভৃত গ্রামের কিশোর আরমানুল ইসলাম উড়োজাহাজ বানিয়ে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন । শুধু প্লেন দেখতে নয়, তাকে দেখতেও প্রতিদিন ভিড় করছেন আশেপাশের গ্রামের মানুষ।

আরমানুল ইসলাম জেলার কাশিয়ানী উপজেলার পুইশুর ইউনিয়নের মো: হাফিজুর রহমান সমাদ্দারের একমাত্র ছেলে। তিনি একই উপজেলার রামদিয়া এস কে কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও আরমানুল ইসলাম পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্ভাবনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে বলে জানালেন তার কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরমানের এ আবিষ্কার দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল প্লেন বানানোর। আর তাই তখন থেকেই সোলা দিয়ে ছোট ছোট প্লেন বানিয়ে উড়ানোর চেষ্টা করতেন আরমান। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন একটি প্লেন বানানোর মনস্থির করেন আরমান। এসএসসি পাস করার পর গ্রামের বাড়িতে চলে আসতে হয় তাকে। আর তাই বাড়ির পাশের রামদিয়া এস কে কলেজে ভর্তি হওয়া।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হয় আরমানুলের প্লেন বানানোর কাজ। সপ্তাহ দুয়েক চেষ্টার পর অবশেষে গত ৮ জানুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে আকাশে উড়ে তার প্লেন। ওই দিনই বাড়ির পাশের মাঠে উড়ানো হয় প্লেনটি। উড্ডয়নের পর প্রায় ১৫ মিনিট আকাশে উড়তে সক্ষম হয় তার প্লেনটি। এরপর একই মাঠে অবতরণ করা হয় এটি। বিপুল সংখ্যক মানুষ তার প্লেনটি আকাশে উড়া দেখতে ভিড় করেন। হতবাক হয়েছেন তারা এ কিশোরের আবিষ্কার করা প্লেন আকাশে উড়তে দেখে।

উদ্ভাবক আরমানুল ইসলাম দাবি করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে চীন ও আমেরিকার মতো উন্নত প্রযুক্তির মনুষ্যবিহীন প্লেন ও ড্রোন বানাতে পারবেন তিনি, যা গোয়েন্দা কাজে, সেনাবাহিনীর কাজের ক্ষেত্রে এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে।

তিনি আরো বলেন, আমার ইচ্ছা ভবিষ্যতে পাইলট বা ড্রোন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। তবে সরকারের সহযোগিতা আমার খুব প্রয়োজন। কারণ, আমার পরিবারের স্বচ্ছলতা নাই যে, আমাকে এ সব কাজে সহযোগিতা করবে।

তার আবিষ্কৃত প্লেনটির ওজন ৮’শ গ্রাম, দৈর্ঘ্য ৩৬ ইঞ্চি ও উইং ৫০ ইঞ্চি। প্লেনটিতে ব্র্যাশ লেস ডিসি মটর ব্যবহার করা হয়েছে। মটরের স্পিড কন্ট্রোল করার জন্য ইলেকট্রিক স্পিড কন্ট্রোলের সঙ্গে আরো ৪টি সারভো মটর লাগানো হয়েছে। ইলেকট্রিক স্পিড কন্ট্রোল মেইন মটরকে কন্ট্রোল করে। সারভো মটর এলোরন অ্যালিভেটর এবং রাডার কন্ট্রোল করে। প্লেনটিতে সিক্স চ্যানেলের একটি প্রোগ্রামেবল রিমোট সংযোজন করা হয়েছে। প্লেনটি দেড় কিলোমিটার রেঞ্জে চলতে পারে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহার করলে রেঞ্জ আরো বাড়ানো সম্ভব বলেও দাবি আরমানের।

কলেজের অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমরা অভিভূত। এ কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র আরমানুল ইসলাম প্লেন বানিয়েছে। আর সেই প্লেন একই কলেজ মাঠে উড়িয়েছে। সত্যিই অনেক ভাল লেগেছে। আমরা কলেজ থেকে যতটুকু সম্ভব তার পড়াশোনার পাশাপাশি তার বিভিন্ন উদ্ভাবনী কাজে সহায়তার চেষ্টা করব।সম্পাদনা: উমর ফারুক রকি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত