প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রাম্প ‘ক্লিয়ারলি রেসিস্ট’ এবং ‘ইটস্ জাস্ট নট কানাডা’

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে: আফ্রিকা, হাইতি ও এল সালভাদরের নাগরিকদের বসবাস নিয়ে হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অকথ্য ‘শিটহোল’ শব্দ সহযোগে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তারা এত বেশি সংখ্যায়? এতে সারা বিশ্বে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্বয়ং জাতিসংঘ বিষয়টিকে ‘বর্ণবৈষম্য’ আখ্যায়িত করে বলেছে, ‘পার্টিকুলারলি হার্স অ্যান্ড অফেনসিভ’। অর্থাৎ সুনির্দিষ্টভাবে তা রূঢ় ও অপরাধপূর্ণ। অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিমতকে পঞ্চান্নটি রাষ্ট্রভিত্তিক ‘আফ্রিকান ইউনিয়ন’ ‘ক্লিয়ারলি রেসিস্ট’ বা সুস্পষ্ট বর্ণবাদ বলেছে। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের সঙ্গে অভিবাসন সম্পর্কিত এক বৈঠকে শব্দটি ব্যবহার করেও পরদিন ট্রাম্প তা অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি ‘টাফ’ বা কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন। অথচ ওই সভার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ডেমোক্রেটিক দলীয় সিনেটর ডিক ডারবিন বলেছেন, ‘যা প্রকাশ পেয়েছে, তা পুরোপুরি সঠিক’। তার ভাষায় ‘দোওস হেইট-ফিলড্ থিংস অ্যান্ড ডিড সো রিপিটেডলি’। অর্থাৎ তিনি ঘৃণামিশ্রিত কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং নিশ্চিত করেই বলেছেন যে, ‘শিটহোল ওয়াজ দ্য একজেক্ট ওয়ার্ড ইউজড্ ওয়ান্স নট টোয়াইস বাট রিপিটেডলি’। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক মুখপাত্র রুপার্ট কলভিল জেনেভায় বলেছেন, “দেয়ার ইজ নো আদার ওয়ার্ড ওয়ান ক্যান ইউজ বাট রেসিস্ট। ইউ ক্যান নট ডিসমিস এন্টায়ার কান্ট্রিজ অ্যান্ড কন্টিনেন্টস অ্যাজ ‘শিটহোল’, হুজ এন্টায়ার পপুলেশনস, হু আর নট হোয়াইট, আর দেয়ারফর নট ওয়েলকাম”। অর্থাৎ বর্ণবিদ্বেষী ছাড়া এমনটা কেউ বলতে পারে না। আপনি একটি মহাদেশের অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে ‘শিটহোল’ বলে উপেক্ষা করতে পারেন না। অথচ রোববার হাউস মেজরিটি লিডার কেভিন ম্যাকার্থির সঙ্গে নিজস্ব গল্ফ ক্লাবের ডিনারে গিয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, ‘নো, নো। আই অ্যাম নট এ রেসিস্ট। আই অ্যাম দ্য লিস্ট রেসিস্ট পার্সন ইউ হ্যাভ এভার ইন্টাভিউড। দ্যাট আই ক্যান টেল ইউ’। অর্থাৎ না, না। আমি বর্ণবিদ্বেষী নই। আমি সবচেয়ে কম বর্ণবিদ্বেষী মানুষ যার অভিব্যক্তি আপনারা নিচ্ছেন। সে কথা আমি বলতে পারি।

ভেবে দেখুন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সমালোচনা ও চাপের মুখে নতি স্বীকার না করলেও কথার চাতুর্যে কীভাবে নিজেকে নিষ্কলুষ বোঝাতে চাইছেন। সম্ভবত তা তিনি করেই যাবেন। আদতে তিনি বর্ণবিদ্বেষী কি না এবং মিথ্যাচার করেন কি না, তার বহু প্রমাণ বিশ্ব অনেক আগেই জেনেছে। সেটা জেনে যাওয়ার পরিণতিটা কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তার বিশ্বময় উদাহরণ তুলে না ধরে একই সময়ে কানাডার টরন্টোয় সংঘটিত একটি উদাহরণ দিলেই বোধ করি বিষয়টি পরিষ্কার হবে। এতে ১৩ জানুয়ারি শনিবার বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক টরন্টো সান শুভ্র হিজাব পরিহিতা ১১ বছরের কিশোরী খওলান নোমানের ছবি সংবলিত প্রচ্ছদ কাহিনীর শিরোনাম করেছেÑ ‘ইটস্ জাস্ট নট কানাডা’। অর্থাৎ এটা যথার্থ কানাডা নয়। তাতে তার হিজাব কেটে ফেলায় কাঁচি হাতের এক হিংস্র পুরুষের অট্টহাসিপূর্ণ অপপ্রয়াসকে তুলে ধরেছে। পরে সেটাই গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরলে তা ‘কানাডা কাঁপানো ঘটনা’ হিসেবে চিত্রায়িত হয়েছে।

বাস্তবে সেটিকে ‘কানাডা কাঁপানো ঘটনা’ বলা হলেও হিজাব নিয়ে বয়স্কা নারীর উপর আক্রমণ এবং অকথ্য হুমকির ঘটনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবির্ভাবের পর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বহু দেশেই ঘটেছে। স্বয়ং ‘স্ট্যাটিসটিকস কানাডা’ তার ঊর্ধ্বমুখী পরিসংখ্যানে তা জানিয়েছে। তবে ওই কিশোরীর উপর আক্রমণের ঘটনাটি প্রথম বিধায় চিত্রটি সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। সেজন্যই তেমন অভিমত প্রকাশ।

এক্ষেত্রে সকলের ভাবনার বাইরে করণীয়টি নিয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের কর্ণধার রাজনীতিক ও নীতিপ্রণেতারা নিশ্চয়ই সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থাটি বের করবেন। তবে এ মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শিটহোল’ শব্দ প্রয়োগগত আচরণে তার পূর্বসূরি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে তীর্যক কথাটি নেটফ্লেক্স অনুষ্ঠানে ডেভিড লেটারম্যানের সঙ্গে বলেছেন, তা এক অমূল্য দিকনির্দেশনাই বটে! ওবামা বলেছেন, ‘পার্ট অব ইউর অ্যাবিলিটি টু লিড দ্য কান্ট্রি ডাসেন্ট হ্যাভ টু উইথ লেজিসলেশন, ডাসেন্ট হ্যাভ টু উইথ রেগুলেশনস, ইট হ্যাজ টু উইথ সেপিং অ্যাটিচিউডস, সেপিং কালচার, ইনক্রিজিং অ্যাওয়ারনেস’। অর্থাৎ দেশ পরিচালনার অংশ হিসেবে সংসদ কিংবা আইন নয় বরং নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও সংস্কৃতি রূপায়নের সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধিই সম্পর্কিত।

ই-মেইল : [email protected]

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত