প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তিতে যা রয়েছে

সজিব খান: মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তি সই হলো। দুই বছরের মধ্যে প্রত্যাবাসনের শর্ত রেখে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শেষে চুক্তি সই হয়।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তিতে এসব রোহিঙ্গাদের অধিকার ও তাদের ফিরে যাওয়ার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে সেকল নির্দেশনা থাকা দরকার তা উল্লেখ আছে। নিচে এর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

রোহিঙ্গাদের অধিকার

বাংলাদেশ সবসময় রোহিঙ্গাদের অধিকারের কথা জোর দিয়ে আসছে এবং গত ২৩ নভেম্বর দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত চুক্তি এবং ১৯ ডিসেম্বর যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যপ্রণালী ঠিক করার সময় রোহিঙ্গাদের অধিকারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তিতে বলা হয়, ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্টে তাদেরকে (রোহিঙ্গা) ‘ইন্টারনালি ডিসপ্লেসড পারসন (আইডিপি) ক্যাম্পে রাখা যাবে না। তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন এবং অন্যান্য বিষয়গুলোও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতি সপ্তাহে ফেরত যাবে ১৫০০ রোহিঙ্গা

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল— সপ্তাহে পাঁচ দিন করে প্রতি সপ্তাহে ১৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত যাবে। কিন্তু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ আয়োজন বিবেচনায় তারা প্রতি সপ্তাহে ১৫০০ করে রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার প্রস্তাব করলে বাংলাদেশ সেটি মেনে নেয়। এই সংখ্যা তিন মাস পর পুনর্বিবেচনা করে বাড়ানো হবে।

ট্রানজিট সেন্টার

রোহিঙ্গারা ফেরত যাওয়ার আগে বাংলাদেশ তাদেরকে পাঁচটি ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখবে। ঘুনদুন, কুতুপালং, টেকনাফসহ পাচঁটি জায়গায় বাংলাদেশ এই ট্রানজিট ক্যাম্পগুলো স্থাপন করবে।

অন্যদিকে, মিয়ানমার দুটি রিসিপশন সেন্টার স্থাপন করবে রাখাইনে। যেসব রোহিঙ্গা স্থলপথে ফেরত যাবে, তাদেরকে তং পিউ লেতওয়ে রিসিপশন সেন্টারে রাখা হবে। যারা নদীপথে যাবে, তাদেরকে নগয়া খো ইয়া রিসিপশন সেন্টারে রাখা হবে। এছাড়া, হ্লা পো কাওং জায়গাটিকে ট্রানজিট সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করবে মিয়ানমার।

একটি পরিবার একটি ফরম

যেসব রোহিঙ্গা ফেরত যাবে তাদেরকে একটি ফরম পূরণ করতে হবে। একটি পরিবারের জন্য একটি ফরম ব্যবহার করা হবে। আগে যেসব প্রত্যাবাসন হয়েছে, সেসময় এক ব্যক্তির জন্য একটি ফরম ছিল। কিন্তু এবার একটি পরিবারকে একটি ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই ফরমে একটি পরিবারের সব সদস্যের তথ্য থাকবে। মিয়ানমার এ ধরনের ফরম যাচাই-বাছাই করে দেখবে।

উল্লেখ্য, যেসব শিশু অনাথ এবং যারা এই পরিস্থিতিতে জন্ম নিয়েছে,ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্টের অধীনে তাদেরও ফেরত যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ

ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তির অধীনে দুটি টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। প্রথম টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত এবং দ্বিতীয়টি তাদের প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত।

জাতিসংঘের ভূমিকা

রোহিঙ্গাদের আত্মবিশ্বাসী করার জন্য জাতিসংঘের ভূমিকা রয়েছে এবং সে কারণে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থাকে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়ই জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

রাখাইন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ

এই চুক্তির অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে— রাখাইন পরিস্থিতি কী, সেটি বাংলাদেশের সরকার এবং এমনকি মিডিয়ারও দেখার বিষয়টি সংযুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত