প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জামায়াতের ‘একলা চল’ নীতিতে আ’লীগ বিএনপি’তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

মাইকেল : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির কাছ থেকে কোনো ছাড় না পেয়ে ‘একলা চল’ নীতি গ্রহণ করেছে তাদের জোট সঙ্গী জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় নির্বাচনের আগে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন থেকে এককভাবে করতে চায় সংগঠনটি। এতে খুশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, আর হতাশ বিএনপি।

সূত্র জানায়, ‘একলা চল’ নীতি গ্রহণ করায় ক্ষমতাসীনদের কাছে জামায়াতের রাজনৈতিক কদর অনেক বেড়েছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থীকে বসিয়ে দিতে বিএনপি চেষ্টা করলেও শাসক দল চাইছে জামায়াতের প্রার্র্থী নির্বাচনী দৌড়ে টিকে থাকুক।

সূত্র জানায়, বিএনপি-জামায়াতের বর্তমান টানাপোড়েন আওয়ামী লীগ কাজে লাগাতে চাচ্ছে। কেন্দ্রীয় আ’লীগের এক নেতার মতে, প্রতিটি নির্বাচনী বছরে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আদায়ে বিরোধী দল আন্দোলন-সংগ্রাম করে। কিন্তু বিএনপির এখন আন্দোলন করার সামর্থ্য নেই; অতীতে তারা জামায়াতের ঘাড়ে বসে আন্দোলনের সুবিধা নিয়েছে। এবার তাদের এই টানাপোড়েন কাজে লাগাতে পারলে আওয়ামী লীগ কিছুটা স্বস্ত্মিতে থাকতে পারবে। আর জামায়াত ছাড়া বিএনপি যদি আন্দোলন করতে চায় তা মোকাবেলা করতে কোনো বেগ পেতে হবে না বলে শাসকদলের নেতাদের ধারণা।

অন্য একটি সূত্র জানায়, বিএনপির অনেক কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা চান না জামায়াত জোটে থাকুক। তাই এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চান আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। এ ক্ষেত্রে জামায়াতকে কিছুটা ছাড় দেয়ারও চিন্ত্মা করছেন তারা। এ জন্য জামায়াতকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে বাধা না দেয়ার পক্ষপাতী দলের প্রভাবশালী নেতাদের একাংশ। তাদের বক্তব্য, বিএনপিকে ছেড়ে জামায়াত নিজের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করলে সমস্যা নেই। একই সঙ্গে তারা যাতে জাতীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেয় সে চেষ্টা করা। প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে নমনীয় আচরণ করা যেতে পারে। এ ছাড়া দলটির নেতাদের নামে দায়েরকৃত মামলাগুলো বেশি একটা অগ্রসর হবে না এবং ধরপাকড়ও কমে যাবে।

তবে এতে হিতে বিপরীত যেন না হয় সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছে আওয়ামী লীগ। বর্তমানে একক কর্মসূচি পালন করে জাতীয় নির্বাচনের আগে আবার বিএনপি-জামায়াত একত্রিত হওয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে এখনই কোনো চুড়ান্ত্ম সিদ্ধান্ত্ম নেবে না আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপিকে দুর্বল করতে জামায়াতকে ব্যবহার করতে চায় তারা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারম্নক খান বলেন, বিএনপি-জামায়াতকে বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। কারণ তারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। এখন হয়তো কোনো কারণে তারা আলাদা প্রার্থী দিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে ঠিকই মিলে যাবে। তবে তাদের টানাপোড়েন পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
এদিকে বিএনপির চিন্ত্মা, আগামীতে বড় আন্দোলন করতে হলে অবশ্যই জামায়াতকে পাশে রাখতে হবে। এ ছাড়া দলটির ১০ শতাংশ ভোট তাদের কাছে খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ। তাই জামায়াতের সঙ্গে টানাপোড়েনের সমাধান করতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জামায়াতের সঙ্গে তার কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে বলে সূত্র দাবি করেছে।

জামায়াত সূত্র জানায়, সংগঠনের সিদ্ধান্ত্ম জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিতব্য সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের সমর্থন না দিয়ে নিজেরাই প্রার্থী দেবে। ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ঢাকা উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, সিলেটে সিলেট মহানগর আমির এহসান মাহবুব জোবায়ের ও রাজশাহীতে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ সিদ্দিক হোসাইনকে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত্ম করেছে জামায়াত। অন্য সিটিগুলোতে কে প্রার্থী হবেন তা নিয়ে চলছে জরিপ। আর প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য তিনজন করে প্রার্থী বাছাই করছে দলটি।

সূত্র আরও জানায়, বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কের অবনতির কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে আলাপ না করা, তাদের গুরম্নত্ব না দেয়া, বিএনপি প্রার্থীর জন্য জামায়াত কাজ করলেও জামায়াতের প্রার্থীদের পক্ষে বিএনপির কাজ না করা। এছাড়া বিএনপির নেতারা জামায়াতের বিপক্ষে কাজ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে সংগঠনটির। সর্বশেষ রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপি কোনোরূপ যোগাযোগ না করায় বেশ ক্ষুব্ধ হয় জামায়াত। এরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত্ম নেয় তারা।

সূত্রের দাবি, ক্ষুব্ধ জামায়াত রংপুরে বিএনপি প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। এর আগে কুমিলস্নার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে জামায়াত আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ভোট দেয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মনিরম্নল হক বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপি তাদের বলেছে, জাতীয় নির্বাচন হবে জোটগতভাবে, কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনে নয়। তাই তারা সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত্ম নিয়েছেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের দায়িত্বশীল নেতা লস্কর মুহাম্মদ তাসনিম বলেন, জামায়াত স্থানীয় সরকার নির্বাচন এককভাবে করবে এটাই তাদের সর্বশেষ অবস্থান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নেতা বলেন, ‘এত দিন তো বিএনপি তাদের কোনো পাত্তা দেয়নি। কিন্তু তারাও হন্যে হয়ে তাদের খুঁজছে; পিছে পিছে ঘুরছে। তারাও তাদের গুরম্নত্ব বোঝাবেন।’

এদিকে বর্তমান কৌশলে খুশি জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, দলের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি হওয়ার সময়ও বিএনপি কোনো ধরনের সহযোগিতা ও সমর্থন করেনি জামায়াতকে। কিন্তু নির্বাচন, আন্দোলনের সময় জামায়াতের সুবিধা গ্রহণ করেছে তারা। তাই একক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত্মে সবাই খুশি।

সূত্র : যাযাদি

সর্বাধিক পঠিত