প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুলিশ নজরদারি করবে নির্মাণাধীন ভবনগুলো

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীতে নির্মাণাধীন ভবনগুলোয় মাদক গ্রহণ ও একে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এ ধরনের ভবনে বসে এক শ্রেণির তরুণ-যুবকরা আড্ডা দেওয়ার পাশাপাশি মাদক গ্রহণ করে থাকে। এই মাদক নেওয়াকে কেন্দ্র করে অনেক সময় মারামারি এমনকি খুনোখুনিরও ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ঠেকাতে নির্মাণাধীন ভবনগুলো নজরদারির আওতায় আনার নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

মঙ্গলবার ডিএমপির সদর দফতরে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এই নির্দেশনা দেন তিনি। এ বছরের প্রথম এই অপরাধ সভায় তিনি সবাইকে আরও বেশি আন্তরিক হয়ে অপরাধ দমনে কাজ করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে জঙ্গি ও মাদক নির্মূলে আরও বেশি কঠোর হয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি। মাসিক অপরাধ সভায় উপস্থিত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অনেক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মাদক ও জঙ্গি নির্মূলে আরও বেশি কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ডিসেম্বর মাসের অপরাধ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কমিশনার মাদক নির্মূলে আরও বেশি জোর দেওয়ার কথা বলেন। এ কারণে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনগুলো নজরদারির আওতায় আনার কথা বলেন। কারণ এসব ভবনের নিরাপত্তারক্ষীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন এলাকার উঠতি সন্ত্রাসী বা বখাটেরা মাদকের আসর বসায়। মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তারা ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়ায়। মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে অপরাধও কিছুটা কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন ডিএমপি কমিশনার।

সূত্র জানায়, মাসিক অপরাধ সভায় কমিশনার নাগরিকদের ডাটাবেজ তৈরি ও প্রত্যেক এলাকায় বেশি বেশি উঠান বৈঠক করার আহ্বান জানান। এতে এলাকার সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া সহজ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে ডিএমপির কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে প্রায় ২০ লাখ ভাড়াটিয়ার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব কারণে জঙ্গিদের বাসা ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য অপরাধও কমে এসেছে।

অপরাধ সভায় পুরস্কার পেলেন যারা:

মঙ্গলবারের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন ইউনিটকে ডিসেম্বর মাসে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৮টি ক্রাইম ডিভিশনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে তেজগাঁও। শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার হয়েছেন এবিএম জাকির হোসেন (পল্লবী জোন), শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক (অফিসার ইনচার্জ) হয়েছেন আবুল হাসান (শাহবাগ মডেল থানা), শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হয়েছেন সাজু মিঞা (কদমতলী থানা), শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস্) হয়েছেন মাহমুদুর রহমান (মিরপুর মডেল থানা), শ্রেষ্ঠ এসআই হয়েছেন যৌথভাবে এসআই বজলুর রহমান (লালবাগ ফাঁড়ি) ও ফরিদ উদ্দিন (তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা), শ্রেষ্ঠ এএসআইও হয়েছেন যৌথভাবে হেলাল উদ্দিন (মতিঝিল থানা) ও আব্দুল্লাহ আল মামুন (মিরপুর মডেল থানা)।

অপরাধ সভায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিভাগ হয়েছে ডিবি-পশ্চিম বিভাগ। শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার হয়েছেন নাজমুল হাসান ফিরোজ (ডেমরা জোনাল টিম, ডিবি পূর্ব)। চোরাই গাড়ি উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার রফিকুল আলম (ডিবি দক্ষিণ)। অস্ত্র উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদ নাসের জনি (ডিবি পশ্চিম)। জঙ্গি গ্রেফতারে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমান (ডিবি দক্ষিণ)। অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্য গ্রেফতারে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার নুরুল আমিন (শুটিং ইনসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম)। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতেও পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে ডিএমপি কমিশনার প্রত্যেকের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন।

এসময় ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আপনাদের কাজের মধ্যে আমি সততা, পেশাদারিত্ব, দেশপ্রেম ও জনদায়বদ্ধতা দেখেছি। নিজেদের পেশা, জনদায়বদ্ধতা ও নীতির ওপর অটল থেকে জনসেবা দিতে হবে। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে কিন্তু আন্তরিকতার কোনও ঘাটতি নেই। টিম ডিএমপির প্রতিটি সদস্য পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কাজ করে যাচ্ছে। সবসময় সরকারি সম্পত্তির সঠিক ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আজকে যারা পুরস্কৃত হয়েছেন, এই পুরস্কার আপনাদের কর্মজীবনে কাজের গতি বাড়াবে বলে আমি মনে করি। ডিএমপির কৃতিত্ব কোনও একক ব্যক্তির নয়। এই কৃতিত্ব টিম ডিএমপির।’বাংলাট্রিবিউন থেকে নেয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত