প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতি সপ্তাহে ফিরবে মাত্র ১৫শ রোহিঙ্গা
সাত লক্ষ রোহিঙ্গা ফেরত পাঠাতে সময় লাগবে নয় বছর

মাইকেল : সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে প্রাণভয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চূড়ান্ত হয়েছে। গতকাল মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়। টানা দুই দিনের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শেষে এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। আর মিয়ানমারের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থো।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ৩০০ রোহিঙ্গা এবং সপ্তাহে ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে যেসব রোহিঙ্গা ফেরত যাবে, তাদের জন্য একটি ফরমের রূপও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে ঠিক কবে থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। প্রতি সপ্তাহে ১৫০০ জন- এভাবে পাঠানো হলে দুই বছরে রোহিঙ্গা পাঠানো যাবে ১ লাখ ৫৬ হাজার। তবে তিন মাস পরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া দুই পক্ষ থেকেই ফের পর্যবেক্ষণ করা হবে। দুই বছরের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ করার কথা বলা হলেও কবে নাগাদ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে প্রথম দফায় ১ হাজার ২৫৮ জনকে ফেরত নিতে চায় মিয়ানমার। এর মধ্যে ৭৫০ জন মুসলমান এবং ৫০৮ জন হিন্দু। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শেষে মিয়ানমারের পক্ষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিয়ানমার সরকার ৭৫০ জন মুসলমান ও ৫০৮ জন হিন্দু রোহিঙ্গাকে ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই করেছে এবং তারা বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে যে, প্রথম দফায় যেন উল্লিখিত রোহিঙ্গারা থাকে।

এদিকে যদি চুক্তি অনুযায়ী প্রতিসপ্তাহে ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়, তা হলে ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে ৯ বছরের মতো সময় লাগার কথা। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা আছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য একটি ফরমও চূড়ান্ত করা হয়েছে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে। ঠিক হয়েছে, পরিচয় যাচাই ও প্রত্যাবাসনের কাজটি হবে প্রতিটি পরিবারকে একটি ইউনিট ধরে। অনাথ ও ‘অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায়’ জন্ম নেওয়া শিশুদের প্রত্যাবাসনের বিষয়েও বলা হয়েছে চুক্তিতে।

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য সীমান্তে পাঁচটি ট্রানজিট ক্যাম্প খুলবে বাংলাদেশ। সেখান থেকে তাদের নিয়ে প্রাথমিকভাবে রাখা হবে মিয়ানমারের দুটি অভ্যর্থনা ক্যাম্পে। পরে সাময়িকভাবে তাদের থাকার ব্যবস্থা হবে হ্লা পো কুংয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পে। পাশাপাশি ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ভিটামাটিতে দ্রুততার সঙ্গে বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা নেবে মিয়ানমার। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাচাই ও প্রত্যাবাসন কাজের সুবিধার জন্য দুটি টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করার সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের প্রায় ৯ লাখ ৯৯ হাজার বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করেছে সরকার। তবে এখানে থাকা তথ্য যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশকে আবারও নতুন করে বৈঠকে চূড়ান্তকৃত ‘ফর্ম’ অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের পর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জীবন-জীবিকার বিষয় নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত আছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু জটিল এবং এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে, সেই সঙ্গে সমস্যার ব্যাপ্তি অনেক বড়, গতকাল পর্যন্ত ৯ লাখ ৯৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কার্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে সে জায়গায় শঙ্কা থাকতে পারে। এটা অমূলক নয়।

তিনি বলেন, গত সোমবার ও মঙ্গলবার একেবারে মাঠপর্যায়ের এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে মূল বিষয়টি সামনের দিনে হলো, রোহিঙ্গারা গিয়ে একটি অস্থায়ী স্থানে থাকবে এবং যথাশিগগির নিজ নিজ স্থানে পুনর্বাসন করা হবে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, প্রথম থেকেই আমরা নিশ্চিত করেছি যাতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন স্বেচ্ছায় সম্মানের সঙ্গে নিরাপদভাবে হয়। বাংলাদেশের উদ্যোগে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা হলো খুব শিগগির প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ২৩ জানুয়ারিতেই যদি শুরু না হয়, তবে খুব একটা সমস্যা হবে না। বড় জোর এক সপ্তাহ পেছাতে পারে।
এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। লাখ লাখ রোহিঙ্গার ঢলে সৃষ্ট সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা জানিয়ে গত সোমবার জোটের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। একই দিন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন করে ৫০ লাখ ইউরো মানবিক সহায়তার অনুমোদন দেয় ইইউ।

সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত