প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চালের দাম বেড়েছে ১৭ টাকা, কমেছে ৭ টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট : সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দেশের বাজারে সব ধরনের চালের দাম কমা বাড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সম্প্রতি দেশে চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১৭ টাকা। আর কমেছে ৭ টাকা। জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্বয়ং খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এখনও জনসাধারণকে প্রতি কেজি চাল কিনতে অতিরিক্ত ১০ টাকা গুনতে হচ্ছে। তাহলে চালের দাম কমেনি। এমন দাবি ক্রেতা সাধারণের।

গত ২০১৭ সালের মার্চের শেষ দিকে দেশের হাওরাঞ্চলের অকাল বন্যার অজুহাতে বাড়তে থাকে চালের দাম। সেপ্টেম্বরে তা ভয়ানক আকার ধারণ করে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত আমদানি ও শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে চালের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও এখন আবার অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। গত মার্চে ৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মোটা চালের দাম এক সময়ে ৫৫ টাকায় ওঠে। সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে কিছুটা কমে এখন তা আবার ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে , চালের দাম কমেছে। অঙ্কের হিসেবে দেখা গেছে, চালের দাম বেড়েছিল কেজিতে ১৭ টাকা। আর কমেছে ৭ টাকা। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী এখনও প্রতি কেজি চাল কিনতে ক্রেতাকে অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ১০ টাকা। তাহলে প্রশ্ন, চালের দাম আসলে কি কমেছে?

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাসদ দলীয় সংরক্ষিত সদস্য লুৎফা তাহেরের এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমানে খাদ্যশস্যের দাম স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেও খাদ্যশস্যের দাম কমেছে। বর্তমানে চালের দাম প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৭ টাকা কমেছে।

একই দিন আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য এম আবদুল লতিফের অপর এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যশস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকার কোনও ভর্তুকি দেয় না। ধান, চাল ও গম সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকার স্ব স্ব পণ্যের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ধান, চাল ও গমের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে বাজেটে অভ্যন্তরীণভাবে ১৬ লাখ মেট্রিক টন চাল ২ লাখ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিলো। কিন্তু গত বোরো মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চাল সংগ্রহের অনিশ্চয়তা থাকায় খাদ্যশস্য আমদানির লক্ষ্যে বাজেটের নির্ধারিত ৬ লাখ মেট্রিক টনের অতিরিক্ত ৯ লাখ মেট্রিক টন অর্থাৎ সর্বমোট ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত বাজেটের আওতায় অভ্যন্তরীণভাবে ১৩ দশমিক ৩৭ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ মেট্রিক টন গম ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বাজেটের ১৩ দশমিক ৩৭ লাখ মেট্রিক টন চাল ক্রয়ের লক্ষ্যে এরইমধ্যে ৫ দশমিক ৩৪ লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়। আগামী জুনের মধ্যে অবশিষ্ট চাল চলতি আমন মৌসুম ও আগামী বোরো মৌসুমে সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া ১ লাখ মেট্রিক টন গম আগামী এপ্রিল-জুন পর্যন্ত সময়ে সংগ্রহ করা হবে বলেও জানান খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চের শেষে হাওর অধ্যুষিত দেশের ৬ জেলায় পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতির মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেশে চাল সংকট। হাওরের বন্যাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে ব্যবসায়ীরা চালের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেয়। সেই থেকে শুরু হওয়া চালের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা এখনও পর্যন্ত স্থিতিশীল হয়নি। হাওরের বন্যার পানি কমতে থাকলেও এরই মধ্যে শুরু হয় দেশের ৩২ জেলায় বন্যা। এই বন্যা চালের সংকটকে ক্রমান্বয়ে তীব্রতর করেছে। এর ফলে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরের গরিবের মোটা চালের দাম তখন ৫০ থেকে ৫২ টাকায় উঠে। সরু চালের কেজি এখন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। চালের বাড়তি দাম ঠেকাতে এর আগে চালের আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতংশে নামিয়ে আনার পর প্রতিকেজি চালের দাম কমেছিল মাত্র ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা। অথচ দাম বেড়েছিল কেজিতে গড়ে ১০ টাকা। বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত