প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টেলিযোগাযোগ খাতে লুটপাটের অডিট রিপোর্ট প্রকাশের দাবি

মতিনুজ্জামান মিটু: টেলিযোগাযোগ খাতে লুটপাটের অডিট রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ।

মঙ্গলবার(১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ২৩/২ তোপখানা রোডের নির্মলসেন মিলনায়তনে ‘টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতে নৈরাজ্য-লুটপাট বন্ধ ও ফোর-জি খাতের কতিপয় প্রতিবন্ধকতা নিরসনে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দফা দাবি তুলে ধরে মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, টেলিকম খাতে আজ পর্যন্ত কি পরিমাণ লুটপাট হয়েছে তার অডিট রিপোর্ট এবং অবৈধ ভিওআপি ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। প্রযুক্তি ও টেলিকম সেবা খাতের গ্রাহ দের স্বার্থ রক্ষায় একটি আলাদা সুরক্ষা আইন ও নিষ্পত্তির জন্য আলাদা সংস্থা তৈরী করা সময়ের দাবী। ৪-জি সংবলিত হ্যান্ডসেটের উপর আমদানী শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে। নেট সমতার নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। ইন্টারনেটের মূল্য ও টকটাইমের উপর কর হ্রাস করে মূল্য কমাতে হবে এবং মধ্যস্বত্ত্বভোগী অপারেটর তুলে দিয়ে কলরেট কমাতে হবে। এম এনপি’র চালুর সিদ্ধান্ত ও বিটিএসের তেজষক্রিতা নিয়ন্ত্রণের জন্য মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তরঙ্গ নিরপেক্ষতা দিতে হবে। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে যে সব সিম বিক্রি করা হয়েছে তা বন্ধ করতে হবে। অপারেটরদের কাছ থেকে যত্রতত্র অফারের ম্যাসেজ ও শর্টকোড নাম্বার থেকে ফোন করা বন্ধ করতে হবে। রিটেইলারদের কার্যক্রম তদারকির জন্য মনিটরিং সেল চালু করতে হবে। আইএসপি লাইসেন্স ধারীদের ব্যান্ডউইথ বিক্রি ও ব্যবহারের

ইন্টারনেটের মূল্য কমানো, গতি বাড়ানো ও প্রযুক্তির সব কাজ বাংলায় পরিচালনার ঘোষণাকে স্বাগত এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমরা টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতের গ্রাহকদের ভোগান্তি ও প্রতারণা নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ও দাবী দাওয়া উপস্থাপন করে আসছি। বাংলাদেশে ১৯৯০ সাল থেকে টেলিযোগাযোগ শুরু হলে মনোপলী বাজার তৈরী করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ লুটপাট করা হয়। পরর্বীতে ১৯৯৬ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এলে বাজার উন্মুক্ত করলে অতি সাধারণ লোকদের হাতেও টেলিকম সেবা পৌঁছে যায় সত্য, কিন্তু সেই সঙ্গে দিনে দিনে সৃষ্টি হয় নৈরাজ্য, প্রতারণা, হয়রানী, সন্ত্রাসী কাজ ও অপারেটরদের লুটপাট। ২০১২ সালে টেলিটক থ্রী জি প্রযুক্তি বাজারে আনে। পরের বছর ২০১৩ সালে অন্যান্য অপারেটররাও থ্রী জি প্রযুক্তি বাজারে আনে।

তিনি বলেন, ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে দেশকে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চায়। প্রত্যান্ত গ্রামেও সরকার ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে কাজ শুরু করে। বাস্তবে বাংলাদেশ এখনও ইন্টারনেট ব্যবহারকারী পিছিয়ে পড়ার দেশের মধ্যে ৫৭ তম। আর গতির দিকে বাংলাদেশ ১২২তম দেশ। ইন্টারনেটের মূল্যও অনেক বেশী। সরকারিভাবে ব্র্যান্ড উইথের দাম ৫৬ হাজার থেকে কমিয়ে ৬ শত টাকা করলেও অপারেটররা আজ পর্যন্ত দাম কমায়নি। ইতোমধ্যে সরকার ৪র্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট সেবা চালু করার জন্য নীতিমালা অনুমোদন করেছেন। কিন্তু এই খাতে রয়েছে বিরাট চ্যালেঞ্জ। অপারেটরদের চরম নৈরাজ্য, ব্রড ব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসার নেই কোন নীতিমালা, ই-কমার্স ব্যবসারও একই অবস্থা। মানহীন নকল মোবাইল হ্যান্ড সেট আমদানী নিম্নমানের সফটওয়্যার, মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা, গ্রাহকদের হয়রানী সহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি সাইবারক্রাইম, হ্যাকিং, পর্নোগ্রাফী, পাইরেসি, ফেইক ফেইসবুক আইডি খুলে মানহানি, ধর্মীয় উসকানি বন্ধসহ ইউটিউব, ভাইভার, ইমো, ওয়াটসআপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সমাজে ও রাষ্ট্রে ব্যাপক নৈরাজ্য বিরাজ করছে। এসব নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে সরকার ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু এই পদ্ধতিতে কিছু ত্রুটি থাকায় অপারেটর ও রিটেইলাররা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সিম নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। দেশে বর্তমানে সক্রিয় সিমের সংখ্যা প্রায় ১৪ কোটি। এই বিশাল সংখ্যক গ্রাহককে সেবা দেওয়ার জন্য দেশে সক্রিয় অপারেটর আছে ৪টি। ইতোমধ্যে সিটিসেল গ্রাহকদের বিনিয়োগের অর্থ ফেরত না দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। এই চার অপারেটর দফায় দফায় নানা অফার ও স্বয়ংক্রিয় টেকনোলজির মাধ্যমে অপারেটরদের ফাদে ফেলে টকটাইম ও ডেটা বিক্রির নামে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। অফার দেবার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার দুর্বলতায় অপারটেররা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে। কল ড্রপের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা থাকলেও তা সঠিক ভাবে ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না। ইন্টারনেটের গতি শর্ত না থাকায় শুধু ডেটা বিক্রির ফলে ধীরগতির ডেটা ক্রয়ের ফলে গ্রাহকরা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছে। অন্য দিকে এদের সহযোগী রিটেইলাররা গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলেও প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত