প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কারাগারের ভেতরেও জঙ্গি তৎপরতা

হ্যাপী আক্তার : কারাগারে ভেতরেও উগ্র মতাদর্শ ছড়াতে সুযোগ নিচ্ছে জঙ্গিরা। কারা মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, বন্দিদের মধ্যে কে বা কারা জঙ্গি সেই তালিকা পাঠাতে অন্তত এক মাস সময় নেয় পুলিশ। তাই বাধ্য হয়ে সাধারণ বন্দিদের সঙ্গেই রাখতে হয় বিপথগামীদের।

বর্তমানে কারাগারে আছে জেএমবি, নব্য জেএমবি, আনসার আল ইসলাম, হুজিসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের অন্তত সাড়ে ৭’শ সদস্য। একজন আসামি যখন কারাগারে যায় তখন তার সঙ্গে যে নথি থাকে তাতে লেখা থাকে শুধু মামলার ধারা। যা দেখে বোঝার উপায় নেই কে জঙ্গি আর কে সাধারণ বন্দি। এই তথ্যের অভাবে সাধারণ বন্দি আর জঙ্গিদের একসঙ্গে রাখতে বাধ্য হচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ান জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেছেন, কারাগার কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কে জঙ্গি আর কে সাধারণ কয়েদি তা শনাক্ত করা। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। অপরাধীদের কারাগারে পাঠানোর এক মাসে কোনো ধরনের শনাক্ত করা হয় না। যার কারণে জঙ্গিরা সাধারণ মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকছে। কে জঙ্গি আর সে সাধারণ কয়েদি তার জন্য তালিকা তৈরি করার জন্য এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিদের শনাক্ত করে তাদেরকে সঠিক একটি শ্রেণীবিভাগ করে তাদের আলাদা রাখা হবে।

সকল কয়েদি একসাথে থাকার সুযোগে কারাগারের ভেতরেও উগ্র মতাদর্শ ছড়াতে পারছে জঙ্গিরা। মগজ ধোলাইয়ের শিকার কেউ কেউ ছাড়া পেয়ে জড়িয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠনে, পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এই তথ্য।

কারাগারে পাঠানোর সময়ই জঙ্গিদের পরিচয় করা কর্তৃপক্ষকে জানানোর দায়িত্ব পুলিশের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক বছর ধরে অন্তত এক মাস দেরিতে জঙ্গিদের তালিকা সরবরাহ করছে পুলিশ।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলেছেন, জঙ্গিদের তালিকা প্রস্তুতে কেন এতো সময় লাগছে তার কারণ ঠিক জানা নেই। অপরাধীদের কারাগারে নেবার পরেই তাদের পরিচয় ঠিক হয়ে যায়। তার পরেও একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে যাতে কোনো অপরাধীদের কোনো ধরনের ফাঁক না থাকে। তালিকা তৈরিতে সময় লাগছে , তবে এই সময়টিকে কাছাকাছি নিয়ে আসে কোনো সমস্যা নেই।

এছাড়া, সাধারণ বন্দি ও জঙ্গিদের আদালত ও কারাগারে আনা-নেয়ার সময় আলাদা রাখার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের। সূত্র: ডিবিসি নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত