প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশের জন্য বড় কিছু করতে চাই

আদম তমিজি হক  : আমার একটা পরিচয় আছে, আমি ব্যবসায়ী। তবে পারিবারিক সূত্রে আমি এই পরিচয়টা পেয়েছি। আর আমার এই পরিচয়টা সকলে জানে। এই ব্যবসা ক্ষেত্রে নিজেকে সফল ভাবতে আমার মধ্যে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করে না। কেননা, যে কোনো আত্মতুষ্টি হচ্ছে সফলতার মূলমন্ত্র। তবে, তারপরেও মনে হয়- আমার যেন কিছু একটা করতে বাকি। মন যেন কিছু একটা করতে চায়। সেই কারণে সবসময় চেষ্টা করি বিপদে আপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু তাতেও আমার মন ভরে না। তাই আমি নতুন একটা পরিচয়ের চাঁদর গায়ে দিয়ে রাজধানীবাসীর সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমার এই নতুন পরিচয় নিয়ে সকলের মাঝে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। রাজধানীবাসী জানতে চাচ্ছে, কেনো আমি রাজনীতিতে এসেছি? সবার কৌতুহল ভেঙে দিতে যদি ছোট করে এক কথায় বলি কেনো রাজনীতিতে এসেছি, তাহলে বলব- দেশের জন্য বড় কিছু করতে চাই।

ব্যক্তিগত জীবনে প্রাপ্তিতে আমি পরিপূর্ণ। সেই ধারা বজায় রাখার পাশাপাশি এখন দেশের জন্য কিছু করতে চাই। দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। সবধরনের অনিয়ম আর অস্থিরতা ভেঙে দুঃখি মানুষের পাশে থেকে একটা আধুনিক রাজধানী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমি রাজনীতিতে পা দিয়েছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ব্যানারে, আমি ঢাকার মেয়র হয়ে রাজধানীবাসীর সেবা করতে চাই। সেই কারণেই ঢাকা উত্তর সিটি করর্পোরেশনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থনের প্রত্যাশায় আছি এবং সেই সাথে প্রতিনিয়ত জনগণের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে, আমি আশা করি নৌকা মার্কার জয় হবেই হবে। মেয়র নির্বাচিত হলে, আমি দুই ভাগে কাজ করার পরিকল্পনা করেছি। এক স্বল্প মেয়াদী, দুই দীর্ঘ মেয়াদী। প্রাথমিক স্তরে আমি ঢাকা শহরের যানজটের দিকে নজর দিতে চাই। কেননা, যানজট নগরবাসীর জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। দেশের উন্নয়ন হলেও যানজটের কারণে মানুষ সেই সুফল ঘরে বইতে পারছে না। সেই সাথে আধুনিক ও আগামী প্রজন্মের নগরী গড়ে তুলতে প্রধান অন্তরায় ঢাকার এই অসহনীয় যানজট।

সে কারণেই এই অসহনীয় যানজট নিরসনই হবে আমার প্রথম কাজ। সেই সঙ্গে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নগরবাসীর স্বপ্নদ্রষ্টা সদ্যপ্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে চাই। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে কিছু কাজ করতে চাই, যে কাজ ঢাকাকে আগামী প্রজন্মের বাসযোগ্য অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলবে। একটা বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যায়, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের রাজধানীতেও বড় বড় বস্তি রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় হয়েছে। মানুষ ধনি হচ্ছে, গাড়ি-বাড়ির মালিক হচ্ছে কিন্তু বস্তিতে বাস করা মানুষের জীবনের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। সংবিধানে রয়েছে, সকল নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পূরণের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিয়েছে কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। চোখ রাখলে দেখা যায়- বস্তিতে বাস করা মানুষের একটি মৌলিক চাহিদাও পূরণ হচ্ছে না।

তাদের দেখার যেন কেউ নেই। সে কারণে বাংলাদেশ যতই সামনে এগিয়ে যাক না কেনো একটি বোঝা কিন্তু কাধে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যা উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়, এত বিপুল সংখক মানুষকে অশিক্ষিত রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকাবাসী যদি আমাকে একটি সুযোগ দেয়, তাহলে আমি বস্তি উন্নয়নে দীর্ঘ মেয়াদি কাজ করার পরিকল্পনা করেছি। সেই সঙ্গে আধুনিক ঢাকা গড়ার জন্য যা যা করণীয় তার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। এখন শুধু একটি সুযোগের অপেক্ষায় আমার সময় কাটছে। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী একটিবারের জন্য আমাকে জনগণের সেবা করার সেই সুযোগটি দেবেন।
পরিচিতি : মেয়র পদপ্রার্থী, ঢাকা উত্তর সিটি
মতামত গ্রহণ : লিয়ন মীর
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত