প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলামী বীমার রূপরেখা

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ; ইসলামের আলোকে জীবন-জীবিকায় সফলতা ও বিফলতা: তোমরা কল্যাণ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে অপরকে সহযোগিতা করবে এবং পাপ ও সীমা লংঘনের কাজে সহযোগিতা করবেনা। [সুরা মায়িদা -২]

রাসূলের যুগে নবী মোহাম্মাদ (সা.) সামাজিক কুসংস্কার তথা সূদ, ঘুষ, জেনা,ব্যাভিচার, জুয়া, লটারী, মিথ্যাচার, প্রতারণা, ক্ষমতার লিপ্সা, স্বৈরাচারি আচরণ ইত্যাদি অপনীতির বিরুদ্ধে জীবনবাজি রেখে লক্ষ লক্ষ সাহাবী নিয়ে সংগ্রাম করেছেন। অবশেষে বিজয় লাভ করেন ইসলাম সারা বিশ্বে আলোর জ্যোতি ছড়িয়ে বিশ্ব হান্ডের মানচিত্র একে একে দখল করতে থাকে। সে আলোর মর্যাদা টেকসই করার জন্য সাহাবিদের নানা ভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
ব্যক্তি সমাজ রাষ্ট্রে যাতে দুর্ভিক্ষ না আসে সে জন্য দারিদ্র্যতাকে কুফরের সাথে তুলনা করা হয়েছে। দারিদ্র্যতাকে জয় করে সুখি সমৃদ্ধশালী অর্থনৈতিক ভিত মজবুতকরণে বার বার নানাভঙ্গিতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যেমন রাসূল (সা.) বলেন, নিচের হাতের চেয়ে উপরের হাত মর্যাদাবান। একথায় বোঝা যায় যে আমাদের অর্থনৈতিক সফলতা ছাড়া ইসলামের মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনে যতবার সালাতের কথা উল্লেখ করেছেন সাথে সাথে জাকাতের কথাও উল্লেখ করেছেন। তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও।
রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের উত্তরাধিকারিদের নিঃস্ব পরমুখাপেক্ষী ও অপর লোকদের উপর নির্ভর করে রেখে যাওয়া অপেক্ষা তাদের স্বচ্ছল ধনী ও সম্পদশালী রেখে যাওয়া তোমাদের জন্য অনেক ভালো। [বুখারী শরীফ]
জনপদ সমূহের অধিবাসিদের নিকট থেকে স্বীয় রাসূল (সা.) কে যা প্রত্যাবর্তন করেছেন, বস্তুত আল্লাহ ও রাসূল (সা.) এর জন্য এবং আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন দারিদ্র্য ও পথিকদের জন্য দান জাতের সম্পদ পর্যায়ক্রমে তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়। [সূরা হাসর :৭]
রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কাজ কর্ম আমাকে চিন্তান্বিত করে রেখেছে যে, আমার পরে তোমাদের উত্তরসূরিরা কিভাবে জীবন-যাপন করবে, অর্থাৎ আমি কোন উত্তরাধিকার সম্পত্তি রেখে যাচ্ছিনা। আর তোমরা দুনিয়ার উপর আখিরাতকে প্রাধান্য দিচ্ছো।
স্বামী-স্ত্রী সন্তান-সন্ততিদের নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরি করার বিষয়টি ইসলাম বিভিন্নভাবে উৎসাহিত ও অনুপ্রেরনা করেছে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি পরিবার ও সমাজের অনিশ্চিত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা বিষয়টি টেকসই করার জন্য ইসলামি বীমা ব্যবস্থা মূলত একটি আর্থসামাজিক কৌশল মাত্র। রাসূল (সা.) বলেছেন, বিবাহের পূর্বে আর্থিক সংগতি না হলে রোজা রাখ। এক্ষেত্রে দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক সামর্থের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেন, হে ইমানদারগণ! তোমরা জেনে রাখ, মদ, জুয়া, মুর্তি পুজার দেবী, ভাগ্য জানার জন্য ব্যবহৃত শলাকা সমূহ শয়তানি কাজের অপবিত্রতা মাত্র অতএব তোমরা এর প্রত্যেকটি কাজই সম্পূর্ণরূপে পরিহার কর। তাহলেই আশা করা যায় যে, তোমরা সফলকাম হবে। [সূরা মায়িদা-৯০]
সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাজ কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর [আল ইমরান- ১৫৯]
আল্লাহ তাআলার ইবাদত যেমন ফরজ, ইসলামে জীবিকা উপার্জন করাও তেমন ফরজ করা হয়েছে, এ প্রসঙ্গে কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে- যখন সালাত আদায় শেষ হবে তখন তোমারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করবে এবং আল্লাহর বেশি বেশি যিকির করবে; এতে তোমরা সফল হবে [আল-কুরআন, ৬২:১০]
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমরা উত্তম ও পবিত্র বস্তু আহার করো, যা আমি তোমাদের জীবিকারূপে দিয়েছি এবং কৃতজ্ঞতা আদায় কর আল্লাহর, যদি তোমরা একন্তই তাঁর ইবাদত কর। [আল-কুরআন -০২:১৭২]
আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, হারাম সম্পদের তৈরি গোশত ও রক্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং হারাম সম্পদের তৈরি প্রতি টুকরো গোশত ও প্রতি ফোটা রক্তের জন্য জাহান্নামই যথোপযুক্ত আবাস। তিনি আর বলেন, পবিত্রতম উপার্জন হল মানুষের নিজের হাতের পরিশ্রম। মূলত আল-কুরআন এর মৌলিক বিষয় হলো- মুসলিমদের আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য মানব উন্নয়ন ও মানব সম্পদ গঠন।
মূলত দৈনন্দিন জীবনাচরণের উপরই নির্ভর করে পরকালের জান্নাত-জাহান্নাম। যেহেতু সকল মানুষকেই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর না দেয়া পর্যন্ত এক পা নড়তে দেয়া হবে না, সেই পাঁচটি প্রশ্নের মধ্যেও অর্থনৈতিক বিষয়ে দুটি প্রশ্ন বিদ্যমান। যেমন: সামগ্রিক জীবন, যৌবনকাল, আয়, ব্যয় ও অর্জিত জ্ঞানের ব্যবহার কিভাবে সম্পাদিত হয়েছে। এক্ষেত্রে হালাল উপায়ে উপার্জিত একটি অংশ বীমা এর মাধ্যমে সঞ্চয় করে ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে তা ব্যবহার করা যেতে পারে। জীবনকে সুন্দরভাবে সাজাতে হলে অর্থের প্রয়োজন আর অর্থ আসে পরিশ্রমে। সে পরিশ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ সঞ্চয় করা হলে মৃত্যু, বৃদ্ধ, অসুখ, দুর্ঘটনা ইত্যাদি ঝুঁকি ও আপদকালীন দুর্যোগে অসাধারণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত