প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেশিরভাগেই যাচ্ছে এনজিওগুলোর পকেটে
রোহিঙ্গাদের ত্রাণের নামে এনজিওগুলোর বাণিজ্য

তারেক : মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়েছে। শুধু আশ্রয় নয়, নতুন করে আসা সাত লাখ মানুষের খাওয়া, স্বাস্থ্যসেবারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের একার পক্ষে লোকবল দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে বিভিন্ন এনজিওর সহায়তা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ত্রাণের নামে রীতিমতো ব্যবসা করছে।

রোহিঙ্গাদের ঠকিয়ে রমরমা বাণিজ্য করছে কিছু দেশি-বিদেশি এনজিও। এসব এনজিও খোলাবাজার থেকে কম দামে পণ্য কিনে প্যাকেটে ভরে বেশি খরচ দেখিয়েছে। এর ফলে রোহিঙ্গাদের জন্য বিদেশ থেকে আসা অর্থ গেছে এনজিওগুলোর পকেটে। এর পাশাপাশি কিছু এনজিওর বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী প্রচারণা, জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দ্বিতীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া, রোহিঙ্গা শিশুদের বাংলা ভাষায় পাঠদানসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম করায় এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন গত ৪ জানুয়ারি এনজিওগুলোর ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম নিয়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক বরাবর এক প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

বেশ কয়েকটি এনজিওর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এনজিওগুলো কেবল আর্থিকভাবেই অনিয়ম করছে না, তারা এখতিয়ার বহির্ভূত কার্যক্রমও পরিচালনা করছে। দোষী এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছেও প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে ত্রাণ বিতরণে সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল, অগ্রযাত্রা বাংলাদেশ, কাতার চ্যারিটি, আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন, সোশ্যাল এজেন্সি ফর ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট ইন বাংলাদেশ (ছওয়াব), প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, নেটওয়ার্ক ফর ইউনিভার্সেল সার্ভিসেস অ্যান্ড রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট (নুসরা), দুস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনাইটেড সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্টের (ঊষা) বিরুদ্ধে অনিয়ম পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ৯টি এনজিওর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। সাতটি এনজিওর বিতর্কিত কার্যক্রমের প্রমাণ গোয়েন্দা নজরদারিতে পাওয়ার পর তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে আরো একটি সুপারিশ পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে এসব এনজিও’র কার্যক্রমের বিষয়েও জানানো হয় ব্যুরোকে।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের হাকিমপাড়ায় রোহিঙ্গাদের মাঝে কাজ করে এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সার্ভিস (ইডিএএস) নামে একটি এনজিও। কিন্তু ওই এনজিওটি সেবার আড়ালে সরকারবিরোধী প্রচারণা এবং জামায়াত-শিবিরের প্রচারণা ও রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তথ্য মিলেছে। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করাসহ নানা অভিযোগে সেভ দ্য চিলড্রেন, মোয়াস (এমওএএস), এমডিএস, কোডাক (সিওডিইসি), এসআরপিবি, শেড’র কার্যক্রমের ওপরও নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন মনে করে এ নিয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে ব্যুরোতে।

প্রতিবেদন সূত্রে আরো জানা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য কোনো ক্যাম্প নেই। ফলে ১০ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপত্তা ও তাদের কার্যক্রম, গতিবিধি, চলাচল, নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা সহজে জানার উপায় নেই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসাইন বলেন, কিছু এনজিও বিতর্কিত কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এদের তদারকি দরকার। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে খুব দ্রুত সেখানে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, এনজিওগুলোর কার্যক্রমের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করে ব্যুরোতে পাঠানো হয়েছে ৪ জানুয়ারি। প্রতিবেদনে সাতটি এনজিও’র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। যেসব এনজিও বিতর্কিত কাজে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইত্তেফাক, বাংলাদেশ প্রতিদিন, জাগোনিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত