প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পার্বত্য অঞ্চলের গহীনে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র!
মেজবাই কি জঙ্গি নেতা ডন?

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ার জঙ্গি আস্তানা রুবি ভিলায় নিহত তিন জঙ্গির মধ্যে একজন মেজবা উদ্দিন (২৫)। ২০১৭ সালের ২৮ মে শারমিন আক্তার (১৮) নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরই বউকে পার্বত্য অঞ্চলের গহীন অঞ্চলে গিয়ে থাকার প্রস্তাব দেন তিনি। রাষ্ট্র বিরোধী নানা ধরনের কথা বলতেন স্ত্রীকে। কিন্তু তাতে রাজি হননি শারমিন। এক পর্যায়ে হিযরতের জন্য একাই ঘর ছাড়েন মেজবা। বর্তমানে তিন মাসের অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী শারমিন র‌্যাবকে এসব তথ্য জানিয়েছে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলের গহীন অঞ্চলে নতুন এই জঙ্গি গ্রুপটির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণে যাওয়ার সময় স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চেয়েছিল মেজবা। পরে তিনি একাই গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

এদিকে গত বছর রাজধানীর মিরপুরে জঙ্গি বিরোধী অভিযানের সময় নিহত হন জঙ্গি নেতা আব্দুল্লাহ। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের আরেক নেতা ডনের সন্ধান পায় র‌্যাব। এরপর ছদ্মনামধারী ডনের খোঁজে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সর্বশেষ র‌্যাবের অভিযানে নিহত মেজবার পরিচয়পত্রের সঙ্গে জঙ্গি নেতা ডনের পরিচয়পত্রের মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র। তবে এই মেজবাই কি সেই ডন কিনা সেটি নিশ্চিত হতে অনুসন্ধান শুরু করেছে র‌্যাব।
এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, মেজবা ডন কিনা সেটি এখন পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

র‌্যাব জানায়, অভিযানের পর জঙ্গি আস্তানাটিতে নিহত তিন জঙ্গির মধ্যে জাহিদ নামের একজনের ছবি দিয়ে বানানো দুটি পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। সেখানে একজনের নাম সজিব, অন্যজনের নাম জাহিদ। জাহিদ পরিচয়েই বাসাটি ভাড়া নেয় জঙ্গিরা। তবে ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলিয়ে প্রাথকিভাবে র‌্যাব নিশ্চিত হয়, জাহিদ নামের ওই জঙ্গির প্রকৃত নাম মেজবা উদ্দিন। এরপর তার গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় আনা হয় মেজবার বাবা-মা, স্ত্রী ও ভাইকে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাখা মেজবার লাশ সনাক্ত করেন তারা।

মেজবার পরিবার র‌্যাবকে জানায়, মেজবা বাবা স্থানীয়ভাবে মাওলানা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় একটি মসজিদের মোহাদ্দেস তিনি। ৪ ভাই, ৩ বোনের মধ্যে মেজবা বড়। স্থানীয় মনোহরগঞ্জের আলী নকিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেন তিনি। ২০০৭ সালে জীবিকার সন্ধানে ঢাকা আসে মেজবা। সায়েদাবাদে একটি মোটর গ্যারেজে কাজ নেন তিনি। যাত্রাবাড়ী জনপদ মোড়ে মেজবা টায়ার শপ নামে নিজেই একটি মোটর গ্যারেজ চালু করেন। গ্যারেজের পাশেই একটি মেসে বসবাস করতেন।

তার পরিবার র‌্যাবকে আরো জানায়, ২০১৫ সালের দিকে মেজবার মধ্যে হঠাৎ আমূল পরিবর্তন দেখা দেয়। স্থানীয় মসজিদের ইমামের ইমামতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এক পর্যায়ে জন বিচ্ছিন্ন হয়ে একা একাই নামাজ আদায় করা শুরু করেন। গত বছরের ২০ অক্টোবর মেজবা সর্বশেষ তার গ্রামের বাড়ীতে যান। এ সময় অপরিচিত দুই জন যুবক সঙ্গে যান। ওই দুজনই কি নাখালাপাড়ার জঙ্গি আস্তানায় নিহত অজ্ঞাতনামা দুজন কিনা সেটি এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি র‌্যাব। গত বছরের ১০ নভেম্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন মেজবা। ১৫/২০ দিন আগে মেজবা হঠাৎ তার স্ত্রী ও মাকে ফোন করে ক্ষমা চায় এবং জান্নাতে দেখা হবে বলে বিদায় নেয়। এ সময়ে তার স্ত্রী অন্ত:সত্তা বলে জানালে আল্লাহর রাস্তায় চলে যাচ্ছি বলে জানায় মেজবা। এ ঘটনার পর গত ১৯ ডিসেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করে তার পরিবার।
পরিবারের বরাত দিয়ে র‌্যাব আরো জানায়, যাত্রাবাড়ীতে মেজবার ম্যানেজার রিপন জানায়, ৫ আগস্ট মেস ভাড়া নেয় মেজবা। তিনি নিয়মিত নামাজ পড়তেন। স্বভাবও ভাল ছিল। মাঝে মধ্যে তাবলীগের কথা বলে নিরুদ্দেশ হয়ে যেতেন। তবে এসময়ে মেসের ভাড়া ঠিকই পাঠিয়ে দিতেন। সর্বশেষ গত ৭ নভেম্বর তাবলিগে যাওয়ার কথা বলে মেস ছাড়ার পর আর ফেরেননি। গত ৩ জানুয়ারি বাবা ঢাকায় এসে মেস থেকে মেজবার জিনিসপত্র নিয়ে যায় তার বাবা-মা।

এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, যাত্রাবাড়ীর মেস থেকে চলে যাওয়ার পর থেকে নাখালপাড়ার বাসায় আসার আগ পর্যন্ত মেজবা কোথায় ছিল সেটি বের করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া এই জঙ্গি গ্রুপটিকে অর্থায়নকারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো বলেন, জেএমবির সাংগঠিনক কার্যক্রম বর্তমানে খুবই নাজুক। এই গ্রুপটি নতুন করে জামিনে বের হওয়া জঙ্গিদের একত্রিত করে সাংঠনিক কার্যক্রম জোরালো করার চেষ্টা চালাচ্ছিল বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে। নাখালপাড়ার জঙ্গি আস্তানায় বেশ কিছু নথিপত্র পাওয়া গেছে সেগুলো যাচাই বাছাই করার চেষ্টা চলছে।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর নাখালপাড়ার রুবি ভিলায় র‌্যাবের অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হয়। জঙ্গি আস্তানাটি ছিল পুরান ন্যাম ভবনের পেছনের দিকে। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ওই আস্তানার দূরত্ব প্রায় দেড়শ গজের মতো। ষষ্ঠ তলা বাড়িটির পঞ্চম তলার মেসের একটি কক্ষে চলতি মাসে ভাড়া নিয়েছিল নিহত জঙ্গিরা। গত শনিবার রাতে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় ওই তিন জঙ্গিকে আসামি করে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে র‌্যাব-৩।

অভিযানের পর ব্যাব জানায়, তিন জঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করে। এদিকে আজ সোমবার পর্যন্ত নিহত অপর দুই জঙ্গির পরিচয় মেলেনি। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত