প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইট তৈরিতে কারচুপি : লাখে ২২ হাজার উধাও

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্মাণসামগ্রী ইট তৈরিতে চলছে নানা ধরনের কারচুপি। নির্দিষ্ট পরিমাপের চেয়ে ছোট আকারের ইট তৈরি করে ১ লাখের মধ্যে ২২ হাজার ইট কম দেয়া হচ্ছে। এতে করে ঠকছেন ক্রেতা আর মুনাফা লুটছেন মালিকরা। বিষয়টি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের নজরে আসে। দেশের বিভিন্ন ইটভাটায় পরিদর্শন করে এর প্রমাণ পেয়েছে অধিদফতর। এর ফলে জরিমানার কবলে পড়েছে প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান।

অধিদফতর বলছে, সতর্ক করা হয়েছে। সময় দেয়া হয়েছে এক মাস। সঠিক পরিমাপের ইট তৈরি না করলে চলবে অভিযান। বন্ধ করে দেয়া হবে প্রতিষ্ঠান।

সোমবার এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদফতর। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর, পরিচালক সৈয়দ তওহিদুল রহমান, মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী, উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতারা।

বৈঠকের বিষয়ে অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম লস্কর বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে দেখা যায় ছোট আকারের ইট তৈরি করে অর্থাৎ পরিমাপে কম দিয়ে ভোক্তাদের ঠকানো হচ্ছে। এ জন্য প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইটভাটা মালিক সমিতির সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে।

মহাপরিচালক বলেন, ইটভাটা মালিকরা সঠিক মাপের ইট তৈরির জন্য নতুন ফর্মা তৈরি করবে। এজন্য এক মাসের সময় চেয়েছেন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের সময় দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সঠিক পরিমাপের ইট তৈরি না করলে ইটভাটাগুলোতে আবার অভিযান শুরু করা হবে।

অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কাযার্লয়ের উপ-পরিচালক (উপসচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ইট তৈরির জন্য পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) সঠিক পরিমাপ নির্ধারণ করেছে।

সংস্থাটির পরিমাপ অনুযায়ী, প্রতিটি ইটের দৈর্ঘ্য ২৪ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ১১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার ও উচ্চতা ৭ সেন্টিমিটার। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো ইট তৈরিতে সঠিক পরিমাপ দিচ্ছে না। ইটের সাইজ ছোট করে প্রতিষ্ঠানগুলো ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে। এ পর্যন্ত আমরা যে কয়টা ইটভাটা পরিদর্শন করেছি সবকটিতে ইট তৈরিতে নানা কারচুপির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বর্তমানে যে সাইজের ইট তৈরি হচ্ছে তা সঠিক পরিমাপের চেয়ে ২২ শতাংশ কম। অর্থাৎ ১ লাখ ইটের হিসাব করলে ২২ হাজার ইট কম পাচ্ছে ক্রেতারা। এছাড়া ইটের গায়ে প্রতিষ্ঠানের নাম বা লোগো বেশি বড় করে খোদাই করায় নির্মাণের সময় বালি ও সিমেন্টের পরিমাণ বেশি লাগছে। আমরা মালিকদের সতর্ক করেছি। সঠিক পরিমাপের ইট তৈরির না করলে চলবে অভিযান। আর এভাবে চলতে থাকলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইটের পরিমাপ ও ভোক্তা আইনের বিষয়টি জানতাম না। এজন্য আমরা সময় চেয়েছি। অধিদফতর আমাদের এক মাস সময় দিয়েছে।’ জাগো নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত