প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কী হবে ঢাকা উত্তর সিটিতে

তারেক : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের ভোট নিয়ে নানামুখী শঙ্কা দেখছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। ইসির কর্মকর্তারাও ভোট নিয়ে নানামুখী শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে নির্বাচনী তৎপরতা থাকলেও ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদের উপনির্বাচন আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, উপ-নির্বাচন নিয়ে জনমনে শঙ্কা আছে। শঙ্কার বিষয়টি জেনেও বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশ নেবে। তিনি বলেন, এই সরকারের অধীনে নির্বাচন মানে ভোটারদের অধিকার হরণ করা। তারপরও বিএনপি স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, সিটি করপোরেশনের আইন সংশোধন করে নতুন ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মেয়াদকাল নির্ধারণ না করলে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে। এতে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচনসহ ৩৬ ওয়ার্ডের নির্বাচন ঝুলে যেতে পারে। সেই সঙ্গে ইসি বলেছে, নতুন ভোটারদের প্রার্থিতার সুযোগ নেই। কিন্তু তারা ভোট দিতে পারবেন। আর এই বিষয় সমাধান না করে ভোট করলে মামলা হওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করছেন খোদ ইসির কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ৩১ জানুয়ারি যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘোষণা হবে, সেখানে স্থান পাওয়া নতুন ভোটাররা ভোট দিতে পারলেও প্রার্থী হতে পারবেন না। এতে নতুন ভোটারদের অনেকেই ক্ষুব্ধ হতে পারেন।

মহানগর নেতাদের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীর তালিকা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক ওয়ার্ডে একক প্রার্থী দেয়ার চেষ্টা করছে দুই দল। কেউ বিরোধিতা করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনারের অধীনে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনসহ কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। কারণ বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের নিরপেক্ষতার পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। তারা সরকারের কর্মচারী হিসেবে হুকুমের দায়িত্ব পালন করেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না জেনেও বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বাচন মানে ভোটারদের ভোটের অধিকার হরণ করা। এই সরকারের অধীনে বিগত স্থানীয় সরকারের নির্বাচনসহ কোন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তা সত্ত্বেও বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে কারণ, এটা আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের অংশ।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে ভোটাধিকার নিশ্চিতে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে বলেন, ২০১৫ সালের ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দেখেছি। সেখানে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এছাড়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দানবীয় কায়দায় ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। যা এখনও দুঃস্বপ্ন হয়ে আছে। শেখ হাসিনার আমলে গণতন্ত্রের কোন স্থান নেই। এই স্বৈরাচারী সরকার লোক দেখানোর জন্য নির্বাচনের আয়োজন করছে। তারপরও আমরা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। এ সময় তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে কাজ করার আহ্বান জানান।

এর আগে সকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপ-নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দেন দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য তাবিথ আউয়াল। তাবিথ আউয়াল ছাড়াও সাবেক এমপি মেজর (অব) আখতারুজ্জামান, বিএনপি সহ-প্রকাশনা সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এমএ কাইয়ুম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সোমবার বিকেল চারটার মধ্যে তারা মনোনয়নপত্র জমা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আমরা এসব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই করে একজন প্রার্থীকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেবে এবং তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে। আমরা আশা করছি, সোমবার মনোনয়ন বোর্ডের সাক্ষাৎকারের পর চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য এই মেয়র পদে ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। ২১ ও ২২ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ জানুয়ারি। জনকণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত