প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধি নিয়ে বিতর্ক

জাফর আহমদ: গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির জন্য মজুরি বোর্ড গঠন নিয়ে বিতর্ক থামছে না। মজুরি বোর্ডে যার নামই প্রস্তাব করা হচ্ছে শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হচ্ছে। শ্রমিকদের দাবি যিনি তৈরি পোশাক শিল্পের সাথে যুক্ত তাকেই শ্রমিক প্রতিনিধি করা প্রয়োজন। তবে মালিক প্রতিনিধি নিয়ে শ্রমিক বা মালিক পক্ষ থেকে কোন দ্বিমত নেই।

রোববার ১৪ জানুয়ারি শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যুনতম মজুরি বোর্ড ঘোষণা করা হয়। মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী বোর্ডের মালিক পক্ষের প্রতিনিধি করা হয় তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানকে এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি করা হয় শ্রমিকলীগের মহিলা সম্পাদক সামসুন্নাহার ভুইয়াকে। শ্রমিক প্রতিনিধি সামসুন্নাহার ভুইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়- তিনি তৈরি পোশাক খাতের লোক নয়, সরকারী দল শ্রমিকলীগের লোক হিসাবে তাকে প্রতিনিধি করা হয়েছে। এর আগে শ্রমিকলীগের সভাপতি শুকুর মাহমুদের নাম প্রস্তাব করা হলে সমালোচনা মুখে তার নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপর সামসুন্নাহারের নাম চুড়ান্ত করে সরকার। তিনি দেশের প্রধান শিল্প খাত তৈরি পোশাক শিল্পের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের মজুরির নির্ধারণ শ্রমিকের প্রতিনিধিদ্ব করবেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’র (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম এক বিবৃতিতে গার্মেন্ট শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঘোষিত মজুরি বোর্ডকে একপেশে বলেছেন। নেতৃবৃন্দ সরকারকে মালিকদের আজ্ঞাবহ উল্লেখ করে বলেন, মজুরি বোর্ডে মালিক পক্ষের আধিপত্য স্পষ্ট এবং প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়নি। বরাবরের মতো সরকার দলীয় শ্রমিক নেতাকে সদস্য মনোনিত করে মজুরি বোর্ড ঘোষিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিক প্রতিনিধি হিসাবে সঠিক লোককে রাখা হয়েছে। বিদায়ী বোর্ডের আগের বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি সামসুন্নাহারকে এবারও শ্রমিক প্রতিনিধি করা হয়েছে। তবে বিজিএমইএ এর সভাপতিকে বোর্ডে প্রতিনিধি করার মধ্যে দিয়ে বোর্ডে বিজিএমইএ সর্বোচ্চ সক্ষমতা দেখানোর সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) মতে, প্রতিবারের মত এবারও মজুরি বোর্ডে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। মালিক পক্ষের চরম আধিপত্বই হয় মজুরি বোর্ডে। এবারও মজুরি বোর্ডে মালিক পক্ষের একক আধিপত্বের আশংকা করছেন তারা। গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, সামসুন্নাহার তৈরি পোশাক শিল্পের লোক নয়। তার মাধ্যমে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা হবে না।

এই বোর্ডের উপর আস্থা নেই বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড ইন্ডাস্টিয়াল শ্রমিক ফেডারেমনের সভাপতি বাবুল আক্তারের। তিনি বলেন, বিধি-বিধান মেনে শ্রমিক প্রতিনিধি নেওয়া হয়নি। তবে আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণ করা হবে।

বস্ত্র ও পোশাক শিল্প ফেডারেশনের সভাপতি কামরুল আনাম বলেন, এটা সম্পুর্ণ বেআইনি হয়েছে। এর আগের বোর্ডেও তিনি ছিলেন, এবার কেন আপত্তি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তখন শ্রমবিধি ছিল না। এখন বিধিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। এখন আর সেটা করার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, স্থায়ী ন্যুনতম মজুরি বোর্ড রয়েছে। যখন যে খাতের মজুরি বোর্ড গঠন করা হয় তখন সেই খাতের দুইজন প্রতিনিধি যুক্ত করা হয়। তারাই হলেন উল্লেখিত দুইজন। এর বাইরে বোর্ডে চারজন সদস্য থাকে। বোর্ডের স্থায়ী চারজনের প্রথমজন হলেন- সিনিয়র জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। বাকী তিনজন-মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ এমপ্লোয়ার্স ফেডারেশনের শ্রম উপদেষ্টা কাজী সাইফুদ্দীন আহমদ, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি ফজলুল হক মন্টু, তিনি বাংলাদেশ শ্রমিকলীগের কার্যকরী সভাপতি। আর নিরপক্ষে প্রতিনিধি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যাপলয়ে অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন ।

সর্বাধিক পঠিত