প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাশ্মীরে গুলির লড়াইয়ে ৭ পাকসেনা ও ৬ জঙ্গি নিহত

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি: উত্তপ্ত কাশ্মীর। সোমবার ভোররাত থেকে দুটি পৃথক ঘটনায় সাত পাকিস্তানী সেনাসহ ৬জন জৈশ ই মোহম্মদ জঙ্গি নিহত হয়েছে।

সাতসকালে আচমকাই হামলা চালিয়েছিল পাক সেনা। সেই হামলার ভারতীয় জবাবে নিহত হলেন ৭ পাক রেঞ্জার্স। আহত ৩। অন্য একটি ঘটনায় কাশ্মীরের দুলানজা-উরি সেক্টরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৬জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, সোমবার সকালে প্রথমে বিনা প্ররোচনায় পাক সেনারা নিয়ন্ত্রণরেখায় গুলিবর্ষণ শুরু করে। চলে মর্টার হামলাও। এরপরই ভারতীয় সেনা পাল্টা জবাব দেয়। ভারতীয় সেনার প্রত্যাঘাতে রীতিমতো ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে পাক সেনারা। এদিন সকালে সেনা দিবসের অনুষ্ঠানে দিল্লিতে ভারতীয় সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত পাকিস্তানকে সংঘর্ষ-বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘‘পাকিস্তান নিয়মিত সংঘর্ষ-বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। আমরা তার উপযুক্ত জবাব দিচ্ছি।’’  তার ঠিক আগেই পাক রেঞ্জার্সদের ছাউনি লক্ষ্য করে হামলার পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় সেনা। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কোটলি সেক্টরে এই সংঘর্ষের খবর মিলেছে। যদিও পাক সেনার মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুরের দাবি, সাত জন নয়, নিহত হয়েছেন চার জন সেনা কর্মী। পাশাপাশি, তাদের হামলায় তিন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেছেন গফুর। জখম হয়েছেন আরও কয়েক জন।

দিন কয়েক আগেই সেনাপ্রধানের এক মন্তব্য ঘিরে দু’দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে চাপান-উতোর চলছিল। এক সাক্ষাৎকারে সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়ত বলেছিলেন, ‘‘নির্দেশ পেলে আমরা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানেও অভিযান চালাতে পারি। পরমাণু অস্ত্র থাকা নিয়ে দীর্ঘদিন মিথ্যা প্রচার চালিয়ে আসছে ইসলামাবাদ। প্রয়োজনে সেই মিথ্যেও ভেঙে দেওয়া হবে।’’ সেনাপ্রধানের এই মন্তব্যের পরই রে রে করে ওঠে পাকিস্তান।

পাক সেনার মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর মন্তব্য করেন, ভারত কোনও বেপরোয়া পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তার জবাব দেওয়া হবে। এরই মধ্যে এদিন হামলার এই ঘটনা ঘটল। সংখ্যায় ছয় জন। অন্যদিকে ,ঠিক পঠানকোটের ধাঁচে আরও একটা বড়সড় আত্মঘাতী হামলার জন্য তৈরি হয়েই এসেছিল তারা। ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম হয়েছে ছয় জঙ্গিই।

এ দিন সকালে কাশ্মীরের দুলাঞ্জা-উরি সেক্টরে এই ঘটনা ঘটেছে । জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিজি এস পি ভৈদ জানিয়েছেন, জঙ্গিরা প্রত্যেকেই জৈশ-ই-মহম্মদের সদস্য। নিহতদের কাছে থেকে প্রচুর অস্ত্র এবং বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।হামলার খবর পাওয়ার পরই দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসেন জম্মু-কাশ্মীর রাইফেলস, আধাসেনা বাহিনীর জওয়ানেরা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘‘আগের ঘটনাগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি শিবিরের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ফিদায়েঁ হামলা মোকাবিলার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।’’ সেনা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত