প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদ বহাল রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় : মান্না

আনিস রহমান: সংসদ বহাল রেখে জাতীয় নির্বাচন কোনোভাবেই সুষ্ঠু করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের উচ্চ আদালত এখন চলছে একজন শপথহীন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির অধীনে। অন্যদিকে মাসদার হোসেন মামলার রায়ে দিক নির্দেশনা না মেনে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ ও শৃঙ্খলাবিধিতে সরকারের কর্তৃত্বই বহাল আছে। এই বিধিতে বিচার বিভাগের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সরকারের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করেছিলেন।

মান্না বলেন, ‘গত চার বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন প্রশ্ন ফাঁসের রেকর্ড। ২০০৯ সালে এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশ্নফাঁস রোগের শুরু হয়। বাড়তে বাড়তে গত চার বছরে মহামারি আকারে ধারণ করেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রশ্নফাঁস হবার ঘটনা অবিশ্বাস্য।’

মান্না আরও বলেন, ‘বরাবরের মতোই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেগা সব প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে উন্নয়নের প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন তার ভাষণে। এক পদ্মাসেতুর ব্যয়ের তথ্য আমাদের জানিয়ে দেয় এসব মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাট হচ্ছে। আগের ব্যয়ের চাইতে ১/২ হাজার কোটি টাকা বাড়লে সেটা নিয়ে কেউ কিছু বলতো না। কিন্তু ব্যয় তিন গুণ হয় কিভাবে? এতেও কি সেতু শেষ হবে?’

২০১৪ সালে আসলেই কোনও নির্বাচন হয়েছিল কিনা প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগেই যখন সরকার গঠনের জন্য আবশ্যক ১৫১ জনের বেশি (১৫৩ জন) সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যান, তখন ৫ জানুয়ারি যা হয়েছে সেটা প্রহসনের চাইতে বেশি কিছু না। এই সরকার টিকে আছে  রাষ্ট্রের জনগণের ওপর বল প্রয়োগের মাধ্যমে।’

মান্না বলেন, ‘সরকারের অর্জন বোঝাতে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দারিদ্র্য হ্রাসের কথা বলেছেন। আগের একটা সালের সঙ্গে বর্তমান দারিদ্র্য হারের তুলনা করে দেখিয়েছেন। এখানেও শুভঙ্করের ফাঁকি আছে। একটা দেশ যখন অর্থনৈতিকভাবে নিয়মিত উন্নতি করে তখন এর স্বাভাবিক নিয়মে দারিদ্র্য কমারই কথা। দারিদ্র্য হ্রাসে সরকারের কর্তৃত্ব না, বরং ব্যর্থতাই দেখছি আমরা।’

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ‘দেশে জবলেস গ্রোথ’ হচ্ছে। দেশে তরুণদের বেকারত্বের হার বাড়ছেই। অথচ ঘরে ঘরে চাকুরী দেবার মিষ্টি প্রতিশ্রুতি শুনেছিলাম আমরা। ২০১৩-১৪ ও ১৪-১৫ দুই বছরে মাত্র ৬ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, অথচ এই সময়ে প্রতি বছর দেশের কর্মবাজারে প্রবশ করেছে প্রায় ২৭ লাখ মানুষ। অর্থাৎ ২ বছরে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে ৪৮ লাখ।

গত বছর দেশ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে উল্লেখ করে মান্না বলেন, হাতেগোনা অল্প কিছু খেলাপির কাছেই আছে সিংহভাগ ঋণ। এই মানুষগুলো দেশের ব্যাংকিং সেক্টরকে একেবারে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। এর সঙ্গে যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজন জড়িত সেটা স্পষ্ট।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত