প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংবিধানে নির্বাচনি সরকারের বিধান নেই

মোবায়েদুর রহমান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১২ জানুয়ারি শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে রাজনীতির ময়দানে তার ফাইনাল শটটি খেলেছেন। তিনি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা করবে। বাংলাদেশের সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে তিনি এই মর্মে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, কোনো কোনো দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করা হবে।

তিনি যেসব কথা বলেছেন, সেসব কথা তিনি এবং তার দলের অন্যান্য নেতা অনেকদিন থেকেই বলছেন। এবং তারা খুব জোরের সাথেই বলছেন। এবং তাজ্জবের ব্যাপার হলো, অসংখ্য বার প্রত্যাখ্যাত হওয়া সত্বেও বিএনপিও অসংখ্য বার আলাপ আলোচনা ও সংলাপের জন্য সরকারের কাছে আবেদন নিবেদন করে যাচ্ছে। এই বার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচনি বছরে জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে বিএনপির আবেদনকে ফাইনালি প্রত্যাখ্যান করলেন। এখন বিএনপি কি করবে? প্রধানমন্ত্রীর এই সর্বশেষ হার্ড লাইন নেওয়ার পরেও প্রদত্ত প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফের সংলাপ এবং আলোচনার কথা বলেছেন। বিএনপির একজন স্ট্রং সাপোর্টার ড. দিলারা চৌধুরী একটি টেলিভিশন টকশোতে বলেছেন যে, সংলাপ এবং আলোচনার জন্য বিএনপি সরকারের কাছে ‘বেগ’ করছে, অর্থাৎ অনুনয় বিনয় করছে। কিন্তু তারপরেও সরকারের তথা আওয়ামী লীগের মন গলাতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ শোনার পর সংবিধান তন্ন তন্ন করে ঘাঁটা ঘাঁটি করা হলো। পঞ্চদশ সংশোধনীও খুটি নাটি পড়া হলো। কিন্তু কোথাও নির্বাচনকালীন সরকার গঠন সম্পর্কে কোনো অনুচ্ছেদ বা উপ অনুচ্ছেদ খুঁজে পাওয়া গেল না। কিভাবে কোনো সূত্রে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বললেন, সে কথা বোঝা গেল না। তাহলে এই কথার ফল দাঁড়াচ্ছে এই যে, বর্তমান দলীয় সরকার অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তৃতার পটভূমিতে এখন বিএনপির সামনে দুটি পথ খোলা আছে। একটি হলো, নিঃশর্তে সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীর টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া। আর না হলে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে শুধু বিরত থাকাই নয়, সেই নির্বাচন যাতে অনুষ্ঠিত হতে না পারে সেজন্য দেশের কোটি কোটি মানুষকে সাথে নিয়ে দুর্বার, শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক, গণ আন্দোলনে নেমে পড়া। আজ একটি সমাবেশে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, রাস্তায় আন্দোলন নয়, আপনাকে পদত্যাগ করার জন্য সামনের দিনে কি আন্দোলন আসছে, সেটা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।

নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জেল ভেঙে আনব এ কথা বলি না। তবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন না, যাতে জেল ভেঙে আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।এসব কথা থেকে ধারণা করাটা অযৌক্তিক হবে না যে, এবারের নির্বাচন সম্ভবত ২০১৪ সালের জানুয়ারীর নির্বাচনের মতো হবে না। গতবারেও এটি নিয়ে মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছিল। একদিকে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট, অন্যদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট। আওয়ামী লীগের পেছনে ছিল ইন্ডিয়ার সলিড সাপোর্ট। পক্ষান্তরে বিএনপি বা ২০ দলীয় জোটের পেছনে এই ধরনের কোনো বৃহৎ শক্তির সমর্থন ছিল না। এবারেও যে মেরুকরণ হচ্ছে, সেখানে ইন্ডিয়ার কি ভূমিকা হয় সেটি দেখার জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল গভীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছেন।

পরিচিতি : সহযোগী সম্পাদক, দৈনিক ইনকিলাব/ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত