প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি যৌক্তিক

রাজেকুজ্জামান রতন : শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা আন্দোলনে আছে বিগত কয়েকদিন ধরে। বাংলাদেশে প্রায় ২৬ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। যেখানে বছরের পর বছর শিক্ষকরা শুধুমাত্র এমপিওর টাকাটার উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা জীবনের শুরুতে যে অংকের টাকাতে ঢোকেন রিটায়ার্ড করার আগ পর্যন্ত সে আয়েই তাদের থাকতে হয়। তাদের বছর বছর বেতন বাড়ে না। ইনক্রিমেন্ট নেই। উৎসব বোনাস নেই, বাড়ি ভাড়া ৫০০ টাকা। পাঁচ লাখ শিক্ষক প্রায় দুই কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের সাথে যারা যুক্ত। সেই মানুষদের জীবনের স্বচ্ছলতার কোনো সম্ভাবনা নেই। অপমান বোধে তাড়িত হয়ে এই শিক্ষকরা বার বার সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

শিক্ষকদের জাতীয়করণ করা হোক। এটা করলে সরকারের যে ব্যয় হবে, সেটা সরকার আদায় করতে পারবে ছাত্র ছাত্রীদের দেওয়া বেতন ও পরীক্ষার ফি থেকে। ২৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে অবকাঠামো আছে, সে অবকাঠামোটা তারাই তৈরি করেছিলেন। রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহৃত হতে পারত। রাষ্ট্রের একটা দায়িত্ব, শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে, রাষ্ট্রের শুরুতেই যে শিক্ষা জাতীয়করণের অঙ্গীকার ছিল, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতীয়করণ করতে হবে। মানব সম্পদ সৃষ্টির প্রধান ক্ষেত্র। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ শেষ হয়ে যাবে কিন্তু মানব সম্পদ শেষ হবে না। শিক্ষা জীবনের প্রতি পদে কাজে লাগবে।

শিক্ষক তাই অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। মানব সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিয়োজিত শিক্ষকরা কেন মানবেতর জীবন যাপন করবে? আমরা দাবি জানাই, আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অধিকার আদায়ের। সরকার কথায় কথায় বলছে যে, আমরা উন্নয়নকে স্থায়ীত্ব দিতে চাই। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি দেখতে চাই। নিরাপদ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। মধ্যম আয়ের মধ্যে আমাদের দেশ, এর বাজেট থেকে শিক্ষকরা যেন বাদ না পড়ে।

পরিচিতি : কেন্দীয় কমিটির সদস্য, বাসদ
মতামত গ্রহণ : সানিম আহমেদ
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত