প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাণিজ্যমেলায় ছাড়ের হিড়িক

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় চলছে ছাড়ের হিড়িক। ছাড় রয়েছে সব ধরনের পণ্যে। খাদ্যদ্রব্য থেকে রান্নাসামগ্রী, ফার্নিচার, পোশাক, ইলেকট্রনিকস পণ্য, কসমেটিকস সব কিছুতেই। ইতিমধ্যে মেলার সময়কাল অর্ধমাসে গড়িয়েছে। দিন যত কমে আসছে মেলাও তত জমজমাট হচ্ছে। ছুটির দিনে মেলাঙ্গন থাকে লোকে লোকারণ্য।

মেলায় ছাড় থাকায় প্রতিদিনই দর্শক-ক্রেতা ভিড় করছেন। এক স্টলের সঙ্গে অন্য স্টলের চলছে প্রতিযোগিতা। কে কার থেকে বেশি ছাড় দিয়ে ক্রেতা ভিড়াবে চলছে তারই প্রতিযোগিতা। কারো পণ্য বিক্রি করে বাড়ি ফেরার তাড়া রয়েছে। কেউ বা আবার লাভ-লোকসানের হিসাব কষছে। ছাড়ের ধরনেও স্টলে স্টলে রয়েছে পার্থক্য। ডিসকাউন্ট, কুপন, নগদ টাকা ছাড়, ক্র্যাচকার্ড, র‌্যাফেল ড্র’সহ নানা নামে এসব অফার দেয়া হয়েছে। আবার একটি পণ্য কিনলে তার সঙ্গে আরো একাধিক পণ্য ফ্রি দেয়া হচ্ছে। আকর্ষণীয় এসব অফার দিয়ে পণ্য বিক্রি করাই থাকে সবার লক্ষ্য। সাধারণ মানুষ ছাড়ে পণ্যের মূল্য কিছুটা কম পেয়ে হরদম কেনাকাটা করছেন। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য যে যার মতো করে কিনছেন। মেলায় সব থেকে বেশি ছাড় চলছে স্যুট-ব্লেজারের দোকানে।

তাদের বিভিন্ন রকমের অফারের মধ্যে একটি হচ্ছে ‘আখেরি অফার’। তবে খাবারের স্টলগুলো ছাড় দিচ্ছে ভিন্ন আঙ্গিকে। তারা একাধিক পণ্য এক সঙ্গে প্যাকেট করে প্যাকেজ আকারে ডিসকাউন্ট দিচ্ছেন। থ্রি-পিছেও রয়েছে বাহারি অফার। দুবাই কালেকশন প্যাভিলিয়নের স্বত্বাধিকারী হানিফ জাবের বলেন, মেলায় সব থেকে বেশি ছাড়ে আমরা পণ্য বিক্রি করছি। আমাদের স্টলে বেশ কয়েকটি ডিসকাউন্ট অফার রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে তিন সেট থ্রি-পিস ৫৯৯ টাকা, তিন সেট থ্রি-পিস ৯৯৯ টাকা এবং তিন সেট থ্রি-পিস ১০৯৯ টাকা। ব্যবসা কম করে আমরা সেল বেশি করি। মেলায় উদ্দেশ্য থাকে সব মাল বিক্রি করে যাওয়ার। এবছর মেলায় হোম টেক্সটাইল তাদের সকল পণ্য বিক্রি করছে ৩০ শতাংশ ছাড়ে। এ স্টলের বিক্রয়কর্মী রাসেল বলেন, মেলার প্রথম দিন থেকেই ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করেছি। ক্রেতাদেরও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। অন্যদিকে মেলায় ভিশন ইলেকট্রনিক্স পণ্য ক্রয় করলেই দেয়া হচ্ছে ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট। সঙ্গে রয়েছে একটি ক্র্যাচকার্ড। যেটি ঘষে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা পর্যন্ত মূল্য ফেরত পাচ্ছেন ক্রেতারা। এমএস আরমান ট্রেডিং দিয়েছে ‘ফাটাফাটি অফার’। এ স্টলে বড়দের একটি ব্লেজার বিক্রি হচ্ছে।

১৭০০ টাকা। আর বাচ্চাদের ব্লেজারের মূল্য ১১০০ টাকা। এ দোকানের ম্যানেজার দুলাল বাবু বলেন, মেলায় আমরা সব মাল কমমূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছি। এখানে বেশি বিক্রি করতে পারলেই আমাদের লাভ। আমরা কোনো মাল ফেরত নিতে চাই না। এজন্য এবছর মেলায় আগেভাগেই ছাড় দিয়ে দিলাম। ছাড়ের ছড়াছড়িতে এবছর বাদ যায়নি আতর, টুপি ও মধুর দোকানও। অলওয়েল মার্কেটিং লিমিটেডের ট্রপিকা মধু কিনলেই দেয়া হচ্ছে নগদ ৩০-১০০ টাকা মূল্য ছাড়। এছাড়াও ১৫০০ টাকার পণ্য কিনলে বিমান টিকিটসহ আরো তিনটি পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা রয়েছে। ইনভেস্ট কসমেটিকস মেলা উপলক্ষে দিচ্ছে মেগা অফার। তাদের স্টল থেকে ৫০০ টাকার যেকোনো পণ্য কিনলেই থাকছে একটি মেকআপ বক্স ফ্রি। মেলায় নানা রকম ছাড়ের আওতায় যেমন রয়েছে ছোট থেকে মাঝারি মানের স্টল। তেমনি বড় বড় ব্র্যান্ডের স্টলেও বিভিন্ন রকম ছাড় দেয়া থেকে বাদ যায়নি। বাণিজ্যমেলা উপলক্ষে রেড এবং উইনার তাদের পোশাকের ওপর দিচ্ছে ৫০ শতাংশ ছাড়। উইনারের স্টল ম্যানেজার মোদাব্বির আদনান জানান, মেলা উপলক্ষে ক্রেতা বেশি আসে বলে তাদের স্টলে বিক্রি বেশি হয়। এজন্য ক্রেতাদের নিকট কমমূল্যে পণ্য বিক্রি করেন। তিনি আরো জানান, এবছর তাদের বিক্রি অনেক বেশি। ক্রেতারা ছাড় দেখে সবসময় ভিড় করছেন তাদের স্টলে। মেলার দিন যত কমে আসবে মেলায় দর্শক ক্রেতাও বৃদ্ধি পাবে। আর স্টল মালিকদের লক্ষ্য থাকে মেলায় নিয়ে আসা সকল পণ্য বিক্রি করে যাওয়ার। মেলার সামনের দিনগুলোয় ছাড়ের হার আরো বাড়বে বলে জানান একাধিক স্টলের বিক্রয়কর্মীরা। মেলা স্টলে নিয়ে আসা কোনো পণ্যই ফেরত নিয়ে যেতে চান না তারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত