প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জেরুজালেম ইস্যু
নেতানিয়াহু কি সমর্থন পাবেন মোদির!

ডেস্ক রিপোর্ট : নিজের প্রটোকল ভেঙে নয়া দিল্লির বিমানবন্দরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এসময় তিনি ‘বিবি’ বলে সম্বোধন করা নেতানিয়াহুকে আলিঙ্গন করেন। একে অন্যকে বন্ধু বলে আখ্যায়িত করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যা ‘বিবি-মোদি রসায়ন’ শিরোনামে প্রকাশিত হতে থাকে।

ছয় দিনের জন্য রোববার ভারত এসেছেন নেতানিয়াহু। নরেন্দ্র মোদির ঐতিহাসিক ইসরায়েল সফরের পাল্টা সফর হিসেবে নেতানিয়াহুর এই সফর। সঙ্গে স্ত্রীসহ ১৩০ সদস্যের বড় একটি প্রতিনিধি দলও রয়েছে। ২৫ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে কোনও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এটি দ্বিতীয় ভারত সফর। এর আগে ২০০৩ সালে সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন ভারত সফর করেন। ১৯৯২ সালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।

এমন এক সময়ে নেতানিয়াহু ভারত সফর করছেন যখন জেরুজালেম ইস্যুতে ইসরায়েলের বিপক্ষে জাতিসংঘে ভোট দিয়েছে ভারত। মধ্যপ্রাচ্যে এখনও জেরুজালেম ইস্যুতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেকেই ধারণা করছেন এই সফরে দেশ দু’টির সম্পর্কে সৃষ্টি হওয়া দূরত্ব কমে আসতে পারে। যদিও ভারত এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের পক্ষেই অবস্থান নিয়ে আসছে। ফিলিস্তিন ইস্যু ছাড়াও এই সফরে কৃষি, পানি, সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে উভয় দেশের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এই সফরে নয়টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেন মোদি ও বিবি। এর মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক, শিল্প সহযোগিতা চুক্তি, সাইবার সহযোগিতা চুক্তি, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য চুক্তি, ফ্লাইট হালনাগাদ করতে চুক্তি, যৌথ চলচ্চিত্র প্রযোজনা চুক্তি ও মহাকাশ বিষয়ক একটি চুক্তিও রয়েছে।

ইসরায়েলি বার্তা সংস্থা ওয়াইনেট-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের জন্যে এই সফর ভারতের চেয়ে ইসরায়েলের জন্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাস আগে ইসরায়েল সরকার প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা নেয়। যার লক্ষ্য ২০২০ সালের মধ্যে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক বাড়ানো।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি নেতানিয়াহুর ভারত সফরের অন্যতম আলোচনার বিষয়। আর এটাকে গুরুত্ব দিয়েই ১৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৌঁছেছে দিল্লি। উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বাড়ানো এই দলের মূল লক্ষ্য ।

গত কয়েক বছর ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অনেক উন্নতি হলেও এতে জড়িয়ে আছে জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজ উভয় দেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েলের সঙ্গে ভারত সম্পর্ক চায়, কিন্তু ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়াতে চায় না। এর কারণ হচ্ছে, উভয় দেশ উগ্রবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তাদের অগ্রাধিকার তালিকা ভিন্ন। পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন ইসরায়েল। দেশটি তা খর্ব করতে চায়। বিশেষ করে সিরিয়া ও লেবাননে ইরানি প্রভাব ঠেকাতে মরিয়া ইসরায়েল।

অন্যদিকে, ইরানকে কৌশলগত কারণে মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে ভারত। ইরানের ছাবাহার বন্দরকে কাজে লাগিয়ে আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতে চায় দিল্লি।

চীন ইস্যুতেও উভয় দেশের অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড (ওবোর)-এ অংশগ্রহণ করতে উদগ্রীব ইসরায়েল। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি নিয়ে দিল্লির উদ্বেগকে আমলে নিতে রাজি নয় তেলআবিব। সর্বোপরি ফিলিস্তিনি ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। সম্প্রতি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যানে জাতিসংঘের ভোটে ফিলিস্তিনের পক্ষ নিয়েছে ভারত।

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ফেলো মনোজ জোশি লিখেছেন, ইসরায়েল পারমাণবিক শক্তি হতে পারে কিন্তু তাদের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যেই নিহিত। যদিও ভারতের একটা বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মিত্রতা অনুভব করে। কিন্তু এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের জটিল এজেন্ডা রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বিবেচনা করে আসছে। এছাড়া দেশটি ইসরায়েল, ইরান ও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক সমন্বয় করে চলে। কিন্তু ভারতকে এক্ষেত্রে সতর্কভাবে এগুতে হয়। আর এ জন্যই হয়ত, নেতানিয়াহুর সফরের পরই মোদি আগামী মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিস্তিন ও জর্ডান সফর করবেন।

ভারতের রাজনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অশরিত বিরভাদকার লিখেছেন, ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র ও সৌদি-মার্কিন-ইসরায়েলি অক্ষশক্তির সম্পর্ক স্পষ্ট হওয়ার কারণে ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন। তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে ফিলিস্তিন ইস্যুটি মাত্র একটি অংশ মাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইসরায়েলের সঙ্গে ভারত সম্পর্ক গড়ে তুলবে, এটা ভাবা কঠিন। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন, হারেৎজ, দ্য হিন্দু

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত