প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘অ্যান্টি টেররিজম’ ইউনিটের খসড়া বিধি প্রণয়ন
অনুমোদনের অপেক্ষায়

ডেস্ক রিপোর্ট : সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে গঠিত ‘পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম’ ইউনিটের জন্য খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ বিধিমালা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এখন মন্ত্রণালয় খসড়া বিধিমালা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনুমোদন দেবে। এ বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে ‘পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম’ ইউনিটের সব কার্যক্রম। এ বিধিমালার অধীনে পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের কোনো সদস্য দায়িত্ব পালনকালে সরল বিশ্বাসে করা কোনো কাজে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ওই কর্মকর্তা বা সদস্যের বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ‘পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম’ ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো জঙ্গি আস্তানা কিংবা কোনো সন্ত্রাসীদের আস্তানায় অভিযানকালে কোনো সাধারণ মানুষ হতাহত হয় সে ক্ষেত্রে দায়মুক্তি চাওয়া হয়েছে। যে কোনো অভিযানে পুলিশ নিরীহ মানুষের জানমালের হেফাজত করতে সব সময় সচেষ্ট থাকে। কিন্তু ঘটনাক্রমে সাধারণ মানুষও অভিযানকালে আক্রান্ত হলে সে ক্ষেত্রে দায়মুক্তি চাওয়া হয়েছে। এটাই সরল বিশ্বাসে কৃত কাজ। আক্রান্ত ব্যক্তি পুলিশের টার্গেট ছিল না।

জানা গেছে, বিধিমালার অধীনে ‘পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম’ ইউনিট সন্ত্রাসে অর্থায়ন, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসী চক্র জড়িত এ রূপ বিস্ফোরকদ্রব্যসংক্রান্ত অপরাধ, জঙ্গি ও কিংবা সন্ত্রাসী চক্র জড়িত এ রূপ অস্ত্র মামলা, সব ধরনের সাইবার অপরাধ, ফরেন টেররিস্ট ফাইটার্সসংক্রান্ত অপরাধ, জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসী চক্র কর্তৃক হত্যা মামলা এবং জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসী চক্র কর্তৃক ডাকাতি, দস্যুতা এবং খুনসহ ডাকাতির অপরাধের মামলা অনুসন্ধান ও তদন্ত করতে পারবে। এগুলো হলো ‘পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম’ ইউনিটের তফসিলভুক্ত অপরাধ। এ ছাড়া সরকার, আদালত এবং আইজিপি কর্তৃক নির্দেশিত অপরাধের তদন্ত কার্য পরিচালনা করতে পারবে।

অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের তফসিলভুক্ত অপরাধ সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনা সংঘটনের সঙ্গে সঙ্গে অথবা মামলা রুজু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) থানার ওসিসহ নিকটস্থ ‘পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম’ ইউনিটের কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে। প্রাথমিক ক্রাইমসিন ম্যানেজমেন্ট থেকে মামলা হস্তান্তর হওয়া পর্যন্ত থানাপুলিশ ঘটনাস্থল সংরক্ষণ, প্রাথমিক তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার করতে পারবে।

‘পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম’ ইউনিট কোনো মামলার তদন্ত শুরু করলে আইজিপির লিখিত অনুমোদন ছাড়া অন্যকোনো সংস্থায় ওই মামলা হস্তান্তর করা যাবে না। ‘পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম’ ইউনিট এবং পুলিশের অন্য কোনো ইউনিট কর্তৃক একই সময়ে কোনো মামলা তদন্তের বিষয় উত্থাপিত হলে ‘পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম’ ইউনিট ওই মামলা গ্রহণ করবে। পুলিশ কমিশনার বা ক্ষেত্রমত জেলা পুলিশ সুপারকে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের তফসিলভুক্ত মামলা অধিগ্রহণের অনুরোধ করা হলে অনতিবিলম্বে পুলিশ কমিশনার বা ক্ষেত্রমত জেলা পুলিশ সুপার অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের তদন্তের জন্য মামলা হস্তান্তর করবে। তবে পুলিশের অপর বিশেষায়িত ইউনিট র্যাব ‘পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম’ ইউনিটের তফসিলভুক্ত অপরাধের কোনো ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকলে তারা চাইলে ওই ঘটনার দায়ের করা মামলা তদন্ত করতে পারবে। অন্যদিকে পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে অগ্রণী ভূমিকা হিসেবে কাজ করবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, পুলিশ অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন মেট্রোপলিটন ও জেলায় মোতায়েন ও কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে। আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত