প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বস্তি বসিয়ে বাণিজ্য

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রশাসনিক এলাকা হিসেবে খ্যাত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড। পশ্চিম আগারগাঁও, আগারগাঁও স্টাফ কোয়ার্টার, তালতলা স্টাফ কোয়ার্টার, মহাকাশ বিজ্ঞান ভবন, শাপলা হাউজিং, শ্যামলী ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর রোড, ভুইঞা গলি, আওয়ামী লীগ টেক, কাজি অফিস, আশা গলি নিয়ে গঠিত এই ওয়ার্ড। দক্ষিণে মাহবুব মোরশেদ সরণি, উত্তরে কল্যাণপুর খাল, পূর্বে রোকেয়া সরণি ও পশ্চিমে মিরপুর রোড। আর মাঝে দুই লাখেরও বেশি জনসংখ্যার বসবাস। যার অন্যতম একটি অংশ বহিরাগত বস্তিবাসী। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন প্রায় দুই লক্ষাধিক বহিরাগতের আনাগোনা থাকে ওয়ার্ডজুড়ে।

উত্তর রাজধানীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড় অংশই সরকারি জায়গা। ওয়ার্ডজুড়ে প্রশাসনিক কার্যালয় ও অধিদপ্তর। অথচ এখানে সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বস্তিঘর। আর এই বস্তি থেকে ভাড়া তুলে ভাগবাটোয়ারা করছেন প্রভাবশালীরা। টাকা যাচ্ছে প্রশাসনের পকেটেও।

জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরাই চালাচ্ছে এই বস্তি বাণিজ্য। জমজমাট অন্যান্য দখল বাণিজ্যও। কর্তৃপক্ষ জেনেও না জানার ভান করে আছে। অথচ অবৈধ ভাড়া তুলে পকেট ভারী করে চলেছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসলামিক ফাইন্ডেশনের পাশেই বিশাল বস্তি এলাকা। পুরো বস্তি অঞ্চল ঘিরেই খেটে খাওয়া মানুষের ঘনবসতি। ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে তোলা হয়েছে ৬ কিংবা ৮ বর্গফিটের ছোট ছোট ঘর। সব মিলিয়ে শতাধিক ঘরবাড়ি এক একটি জমিতে।
স্থানীয়রা জানান, জায়গাটি সরকারি হলেও স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে এই বস্তি। এখান থেকে তোলা হয় মোটা অঙ্কের ভাড়া।

বস্তির বাসিন্দা রাইসুল বলেন, থাকার জায়গা নাই তো, তাই এইখানে একটু কম খরচে পাইয়া ভাড়া থাকি। এইখানে ঠিকঠাক টয়লেট ও গোসলখানার ব্যবস্থা নেই। পানি পাই না পর্যন্ত। তারপরও মাস শেষে ভাড়া ঠিকই দিতে হয়। বিভিন্ন রেটে ভাড়া আদায় হয় এখানে।
এদিকে ওয়ার্ডের আরেক বস্তি বাণিজ্যের নাম টঙ বস্তি। কাজি অফিসের পাশেই সরকারি জমিতেই গড়ে তোলা হয়েছে এই বস্তি। সেখানেও একই হাল। সরু অলিগলি দিয়ে ঘেরা ছোটখাটো ছাপড়া বসতবাড়ি। ভাড়া তোলায় সেখানেও চলছে একই হিসাব। আবর্জনারও কোনো ঠিকানা নেই এখানে, রয়েছে মাদকেরও প্রকোপ। বিএনপি বাজারের ঠিক পাশেও রয়েছে বস্তিঘর। বাদ নেই শ্যামলী ১ নম্বর ও ২ নম্বর রোডও।

সর্বাধিক পঠিত