প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কে হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি-নানা জল্পনা

তারেক : কে হচ্ছেন দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি। এ নিয়ে সুপ্রীমকোর্ট অঙ্গনসহ দেশের সর্বত্র চলছে নানা জল্পনাকল্পনা। প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে উচ্চমহলেও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সব মিলিয়ে শীঘ্রই প্রধান বিচারপতিসহ আপীল ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হতে পারে। এদিকে আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। তিনি যখন নিয়োগ দেবেন তখনই প্রধান বিচারপতি নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। তবে খুব শীঘ্রই সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ করা হবে। সেই সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগেও কিছু বিচারপতি নিয়োগ করা হবে। গত বছরের ১০ নবেম্বর দুর্নীতি ও অর্থপাচারসহ ১১ অভিযোগ মাথায় নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠান। এরপর থেকেই দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি হিসেবে মোঃ আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এসকে সিনহার মেয়াদ ছিল ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ১১ নবেম্বর অবসরে যাবেন। দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাসহ আপীল বিভাগে ৫ বিচারপতি রয়েছেন।

এরা হলেনÑ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোঃ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। এদের মধ্যে দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা এ বছরের ১১ নবেম্বর অবসরে যাবেন। বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর, বিচারপতি মোঃ ইমান আলী ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর এবং বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অবসরে যাবেন। এদের মধ্য থেকেই শীঘ্রই ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। এ বছরের ৩১ জানুয়ারি সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার অবসর গ্রহণের কথা থাকলেও দুর্নীতি ও অর্থপাচারসহ ১১ অভিযোগ মাথায় নিয়ে তিন মাস আগেই পদত্যাগ করেন। বর্তমান প্রধান বিচারপতির দায়িত্বপালন করছেন বিচারপতি মোঃ আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা। কবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হবে এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়িত্বে থাকা বর্তমান প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনে বাধা নেই। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। তিনি যখন নিয়োগ দেবেন তখনই প্রধান বিচারপতি নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। এ বিষয়ে তাঁর কোন এখতিয়ার নেই এবং তাই এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতেও পারবেন না। তবে তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির পদটি বেশিদিন খালি রাখবেন না।

আপীল বিভাগ ছাড়াও হাইকোর্ট বিভাগে রয়েছেন ৮৭ জন। যদিও আপীল বিভাগে এর আগে সর্বোচ্চ ১১ বিচারপতি বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এছাড়া বর্তমানে ৩ বিচারপতি কাজ করছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। বিচারক সংকট রয়েছে নিম্ন আদালতেও। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সরকার ১০জনকে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে ২ বছরের জন্য নিয়োগ দেয়। তাদের মধ্যে গত ডিসেম্বরে একজন মারা গেছেন। আর একজনকে বাদ দিয়ে বাকি ৮জনকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয় সরকার। বর্তমানে স্থায়ী নিয়োগ না পাওয়া দুই বিচারপতির রিট আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে আপীল বিভাগে। ২০১৫ সালের পর গত আড়াই বছরেও উচ্চ আদালতে আর কাউকে বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়নি। সব মিলিয়ে এ বছর প্রধান বিচারপতি এমনকি আপীল ও হাইকোর্ট বিভাগেও নতুন বছরেই বিচারপতি নিয়োগ হবে বলে জানা গেছে।

গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এ বছরই জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের আগে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ সর্বোচ্চ আদালতে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির ভূমিকা সরকারকে বিতর্কিত অবস্থার মধ্যে ফেলবে কিনা তাও ভাবতে হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন প্রকার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে চায় না সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী নেতাদের এবং আওয়ামী লীগ ঘরানা সাবেক বিচারপতিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হচ্ছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, প্রধান বিচারপতি কে হবেন তা নির্ভর করছে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের ওপর। রাষ্ট্রপতি কাকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন তা তিনিই জানেন। আমাদের সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রপতির। অন্যদিকে আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, ‘আমাদের সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে, অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি প্রধান বিচারপতির অনুরূপ ক্ষমতা পালন করতে পারবেন। অনুরূপ মানে হচ্ছে প্রধান বিচারপতি যা যা করতে পারতেন তিনি (অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি) সেটাই করবেন। একটু পেছনে তাকালে দেখা যাবে, ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ কেয়ারটেকার সরকারের চীফ এ্যাডভাইজার হয়েছিলেন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন। তখন একজন এ্যাক্টিং চীফ জাস্টিস ছিলেন। তিনি এ্যাপয়েন্টমেন্টও দিয়েছেন। শপথও পড়িয়েছেন। এটা যে নজির নেই তা নয়। নজির আছে। অনুরূপ কথার ওপরে জোর দিতে হবে। যিনি এখন অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি তিনি কিন্তু একটা শপথ নিয়েছেন, আপীল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে। অনুরূপ মানে হচ্ছে, চীফ জাস্টিসের সব ক্ষমতা তিনি পালন করতে পারবেন। সেখানে কিন্তু তিনি কী করতে পারবেন, কী পারবেন না, তার কোন বিভাজন করে দেয়া হয়নি। প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব যিনি পালন করছেন তিনি শপথ পড়াতে পারবেন। জনকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত