Skip to main content

যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক উন্নয়নে কাটা পড়বে ২৫০০ শতবর্ষী গাছ

যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক উন্নয়নে কাটা পড়বে ২৫০০ শতবর্ষী গাছ
হ্যাপী আক্তার: সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের দু’পাশে থাকা শত বছর পুরনো প্রায় ২৫০০ গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। একে উদ্ভিদ ও জীব বৈচিত্রের জন্য অশুভ সংকেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চারগুণ বেশি চারাগাছ লাগানোর কথা জানিয়েছে সড়ক উন্নয়ণ সংশ্লিষ্টরা। যশোর মহাসড়কের প্রায় ৮০ কিলোমিটার রাস্তা জুড়েই চোখে পড়বে বট, অশ্বথ, শিরীষ, শিশু, মেহগনিসহ কয়েক হাজার শতবর্ষী গাছ। ১৮৪০ সালে জমিদার কালিপোদ্দার ২ লাখ ৫৮ হাজার কড়ি ব্যয়ে সড়কের দু’ধারে গাছগুলো রোপণ করেছিল। এই পথ ধরেই একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয় ভারতে। এশিয়ান হাইওয়ে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করাতে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে অালোচনায় আসে গাছগুলো। পরে সুধী সমাজের সাথে প্রশাসনের মতবিনিময় শেষে উন্নয়নের স্বার্থে শতবর্ষী এই গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। গত ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এরপর সংসদ সদস্য, সড়ক বিভাগ এবং জেলা পরিষদের মধ্যে কয়েক দফায় বৈঠকও হয়ে গেছে। মহাসড়কের উন্নয়ন ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ঝিকরগাছা থেশে শার্শা পর্যন্ত গাছ না কাটার বিকল্পে জমি অধিক গ্রহণ করে সড়ক প্রশস্ত করার যে প্রক্রিয়া সময় এবং অর্থসাপেক্ষ। সেজন্য ফসলি জমি আর বসত-বাড়ি নষ্ট হবে অনেকের। তাই গাছ কাটার বিষয়টিকে স্থানীয়রা সহজভাবে নিলেও তারা বলছেন শতবর্ষী এই গাছগুলোর অভাব পূরণ হবার নয়। যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান বলেন, সবাই একমত পোষণ করেছেন, গাছ কাটার পরে পুনরায় আবার বনায়ন করা হবে। যাতে করে পরিবেশ তার আগের রুপ ফিরে পায়। ইন্দো বাংলার চেম্বারের মতিউর রহমান বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পটি বাস্তাবায়ন না করা হলে, উন্নয়নের যে ফান্ড রয়েছে তা বাতিল হয়ে যাবে। যশোরে চার লেনের পাশাপাশি দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও স্থলবন্দরের কাজও চলছে। যশোর থেকে বেনাপোল পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটারের এই মহাসড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২৮ কোটি টাকা। আগামী মাসেই শুরু হবে এ প্রকল্পের কাজ। সূত্র: যমুনা টিভি

অন্যান্য সংবাদ