প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুলিশের কাজ অপরাধী সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও সাক্ষী সংগ্রহ করা

নূরুল আনোয়ার : বাংলাদেশে বর্তমান পুলিশের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ। যা আমাদের পাশের দেশ ভারত, পাকিস্তান থেকেও বেশি। তাই আমাদের জনগণের পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশাও বেশি। পুলিশ বৃদ্ধি করার কারণ হচ্ছে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তারা কাজ করবে। জনগণের চাহিদা পূরণ করার জন্য তারা কাজ করবে। সে ক্ষেত্রে আমরা কতটুকু নিরাপত্তা পাচ্ছি? এটি এখন সময়ের প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি এই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক।

তাই আপনাদের এতকিছু দিলাম, বিনিময়ে পুলিশ কি দেবে? কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুলিশের সফলতা অনেক। তবে পুলিশ যে পরিমাণে সরকার থেকে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে, সে পরিমাণে জনগণকে সেবা দিতে পারেনি। জঙ্গি দমন ও ইনভেস্টিগেশনে পুলিশের সফলতা অনেক। তবে অপহরণ, গুম, ক্রসফায়ার, মামলা না নেওয়া, মামলা তদন্ত যথাযথভাবে না করা, মানুষকে হয়রানি করাসহ এই অভিযোগগুলো আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি। এই বিষয়গুলো পুলিশ প্রশাসনের নিরপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এর কারণ অনেক। এই কারণগুলো যেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকার প্রধান দেখেন, এটি আমাদের জনগণের প্রত্যাশা। এর থেকে উত্তরণের পথ হচ্ছে জবাবদিহিতা। একজন লোককে ধরে নিয়ে এসে নির্যাতন করে তার পরিবার থেকে অর্থ দাবি করা হয়। অর্থ না দিলে ক্রস ফায়ার করে মেরে ফেলা হয়। মারার পরে সেই শরৎচন্দ্রের ভাষায় একটি কথা বলে দেওয়া হয়, ‘হ্যাংগ দ্যা ডগ অ্যান্ড গিভ ইউ ব্যাড নেইম’।

এই নীতি চলেছে আমাদের পুলিশে। মেরে ফেরার পরে বলে যে, মাদক ব্যবসায়ী ছিল, ডাকাত ছিল, খুনি ছিল। আমরা বিশ্বাস করি সবই ছিল। কিন্তু তার বিচার হবে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে। সে যদি অন্যায় করার পরে কোনো সাজা হয়, পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পরে মেরে ফেললেও পুলিশের সেই সাজা হবে। এটিই স্বাভাবিক। আমাদের দেশের কোনো আইনেতো তাদের এমন সুবিধা দেওয়া হয়নি। তারা তো আইনের বাইরে কাজ করে একই অপরাধ করল। তারাও অপরাধী। পুলিশের কাজ এটি নয়। পুলিশের কাজ হচ্ছে অপরাধীকে ধরবে। তার সম্পর্কে তথ্য যোগাড় করবে। সাক্ষী যোগাড় করবে। তারপর আদালতে তাকে বিচারের জন্য সমর্পণ করবে। আসামী অপরাধী প্রমাণিত হলে আদালত তাকে সাজা দিবে। পুলিশের নিজ থেকে এমন কিছু করার সুযোগ নেই।

পরিচিতি : সাবেক আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশ
মতামত গ্রহণ : গাজী খায়রুল আলম
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ