প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আরও অনেক মিজান রয়েছে এই সমাজে

ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন : ডিআইজি মিজান পুলিশের একজন কুলাঙ্গার অফিসার। সে অত্যন্ত গর্হীত কাজ করেছে। কোনো মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে কেউ বিয়ে করতে পারে না। সে যেটা করেছে তার জৈবিক চাহিদা মেটানোর জন্য একটা বিবাহ নাটক সাজিয়েছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। ইংল্যান্ডের আইনে আছে, কোনো ইউনিফর্মধারী যদি কোনো অপরাধ করে সেটা সাধারণ কোনো মানুষের একই অপরাধের শাস্তির দ্বিগুন। আমি মনে করি, তাকে প্রত্যাহার করাই যথেষ্ঠ নয়, তাকে নারী নির্যাতনের মামলা করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। সেই মহিলা মরিয়ম ইকোকে আমি ধন্যবাদ জানাই তার সাহসিকতার জন্য।

সে সাহস করে এগিয়ে এসেছে বলেই আমরা তা জানতে পেরেছি। তার সাহসিকতার জন্য এই কাপুরুষ নরপশুর মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। শুধু এই মিজান না, খুঁজলে আরও অনেক মিজান পাওয়া যাবে পুলিশ বিভাগে। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, লোভ দেখিয়ে, ভয় দেখিয়ে বিভিন্নভাবে এক্সপ্লয়েট করে মেয়েদের ওপর অত্যাচার করে। একটু খুঁজলেই পাওয়া যাবে। মিজানের অনৈতিকতার যে কাহিনীটি বেরিয়ে এসেছে সেটা মনে করি জীবনের কাহিনী। পুলিশ বাহিনী নিয়ে অনেক সন্দেহ আছে। একটা পুলিশ বাহিনীকে যদি জনমুখী করতে হয়, পুলিশের ভেতরের সকল অনৈতিক অপরাধকে জিরো টলারেন্সে নিয়ে আসতে হবে। একজন মানুষ যখন অন্যায় করবে, সে ভালো কিছু করতে পারে না।

যেখানেই সুযোগ পাবে সে এই রকম মেয়েদের প্রতি অত্যাচার করবে। সে সব সময় তার নিজের স্বার্থ দেখবে এবং ঘুষ বাণিজ্য করবে। মিজানের কাহিনী প্রমাণ করে যে, একটি রাষ্ট্র যদি পুলিশের মাধ্যমে চালানো হয় তখন সেই সরকার এই ধরনের ইনডিসিপ্লিন পুলিশের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারে না। অথচ আমরা দেখি, এই পুলিশ বাহিনী যখন আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করে তারা অত্যন্ত পেশাদারীত্ব নিয়ে কাজ করে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যখন পুলিশকে দিয়ে তার রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়, তখনই এই ধরনের দুষ্ট চরিত্রহীন পুলিশ অফিসাররা এই সব ঘটাবেই। জনগণ তাদেরকে বেতন দেয়। তাদের দায়িত্ব জনগণের সেবা করা। জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন করা।

যখন পুলিশ এর ওপরে নিজের ক্রেডিট নেয় বা বলে আমি এটা করেছি, তখন বুঝতে হবে পুলিশি সিস্টেম ভেঙে পড়েছে। এই রকম খুঁজলে শত শত মিজান বেরিয়ে আসবে একদিন। আপনারা জানেন, হলিউডের প্রত্যেকটি নায়িকা মুখ খুলেছে একজন নায়কের বিরুদ্ধে। এই রকম কোনো মহিলা যদি থাকেন,আমি তাকে লিগ্যাল অ্যাকশনে সাহায্য করব, এজন্য তাকে ফিস দিতে হবে না।

পরিচিতি : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা।
মতামত গ্রহণ : সানিম আহমেদ
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ