প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিরোধী দলের দুর্বল আন্দোলনের কারণে সরকার সংলাপে যাচ্ছে না

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া : ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে সংলাপের জন্য আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু এখন আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির দুর্বলতার কারণেই সরকারের ভিতরে সংলাপের কোনো চিন্তা ভাবনা দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দীন আহমেদ। বিবিসি বাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার টিভি ভাষণে নির্বাচনকালীন সময় নিয়ে যে কথা বলেছেন তার ব্যাখ্যায় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারই হবে নির্বাচনকালীন সরকার, আর সেখানে বিএনপির কোনো জায়গা হবে না।’ এদিকে বিএনপি চায় এমন একটি সরকার যারা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। শেখ হাসিনা বলছেন, এই বছরের শেষের দিকেই নির্বাচন হবে। কিন্তু এখনো দুইটি দল নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে একমত হতে পারেনি।

তাহলে কী নির্বাচন নিয়ে ২০১৪ সালের মতো একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে?

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, কথাবার্তার দিক থেকে ২০১৪ সালের মতো পরিস্থিতি দিকেই যাচ্ছে দুই দল। কিন্তু সেই সময়ে বিএনপির একটি ভালো অবস্থান ছিল। তারা সেই সময়ে মাঠে আন্দোলন করেছিল, কিন্তু এবার মাঠে কোনো আন্দোলন নেই। তবে কথাবার্তাগুলো একইরকম আছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে সরকার এবং বিরোধী দল যে ভাষায় এবং যে ভঙ্গিতে কথা বলেছিল, এখন একইরকম কথাবার্তা হচ্ছে। কিন্তু ২০১৪ সালের যে একদলীয় নির্বাচন হয়েছিল সেটা মনে হয় এবার হবে না। কারণ দুই পক্ষেরই একটা কম্পালশন আছে। রুলিং পার্টির কম্পালশন হলো বার বার বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন সম্ভব হবে না। আর আমরা মনে হয় না বিএনপিরও বার বার নির্বাচন বর্জন করা সম্ভব হবে না। কারণ দল টিকিয়ে রাখতে হবে, এছাড়া দলের সবাই নির্বাচন চাচ্ছে এবং সবচেয়ে ভাল দিক যেটা সেটা হলো এনটি ইনকাম ব্যান্সিং ফ্যাক্টর বিরোধী দলের পক্ষে আছে।
বিএনপি এমন একটি নির্বাচন চায় যারা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোয়াফেল আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ব্যাখ্যা করে বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।

তাহলে সবার অংশগ্রহণমূলক যে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে সেই সহায়ক পরিস্থিতি কী তৈরি হচ্ছে?

জবাবে তিনি রিয়াজ উদ্দীন আহমেদ বলেন, এইরকম যে হবে সেটা বিরোধী দলও জানে কিন্তু তারা আন্দোলন এবং সরকারের উপর যতটা সম্ভব চাপ সৃষ্টি করবে এবং ২০১৪ সালেও চাপ সৃষ্টি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে কথা বলেছিলেন। কিন্তু এবার এই রকম পরিস্থিতি হবে কিনা এখনো বলা যাচ্ছে না, তবে হলেও হতে পারে। কিন্তু তারা যেটা বলছে সেটা সাংবিধানিক কথা, কারণ সংবিধানে আছে বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার।

২০১৪ সালে দেখেছিলাম নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে সংলাপের জন্য আহ্বান জানিয়েছিল। এখনো এমন কোনো চিন্তা ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু আওয়ামী লীগের এমন মনোভাব কেনো?

জবাবে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিরোধী দল আওয়ামী লীগের উপর আন্দোলনের মাধ্যমে যে চাপ সৃষ্টি করেছিল, সেটা কিন্তু এবার মাঠ পর্যায় দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু এখনো শেষ হয়ে যায়নি, এখনো এক বছর আছে। এর মধ্যে সরকারে উপর অনেক চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং সরকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ টি সিটে নির্বাচিত হয়েছিল, এটা যে সরকারের জন্য একটা দুর্বলতা, এই দুর্বলতার অনুভূতিটা কিন্তু সরকারের ভিতরে আছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত