Skip to main content

আমার চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্রের আমি

ইলিয়াস কাঞ্চন : আমার চলচ্চিত্র জীবনের ৪০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম ২৬ শে মার্চ, ১৯৭৭। আমার প্রথম ছবির নাম ‘বসুন্ধরা’। সহশিল্পী ছিলেন ববিতা। আমার চলচ্চিত্র থেকে অনেক কিছু পাওয়ার আছে আবার অনেক কিছু না পাওয়ারও আছে। যেমন আমাদের সৃষ্টিকর্তা যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে একটা পজেটিভ দিক আছে আবার একটা নেগেটিভ দিক আছে। ঠিক তেমনিভাবে চলচ্চিত্রের মধ্যে আমার পাওয়া আছে, আবার না পাওয়ার বেদনাও আছে। কষ্ট আছে ,আবার আনন্দ আছে, সব কিছু মিলিয়ে আমি চলচ্চিত্র থেকে অনেককিছু পেয়েছি। যেমন জীবন কিন্তু এক গতিতে চলে না। এ জীবন চলার পথে একজন ব্যক্তি যে সব কিছু পাবে, তাহলে সে পাওয়ার মাঝে আর মজা থাকে না । পাওয়ার মাঝে বাধা আসবে, সেই বাধার ভিতরে সবকিছু অর্জন করতে হবে। চলচ্চিত্র থেকে যেটা পাওয়া, আজ আমি সেই ইলিয়াস কাঞ্চন। যা কিছু বা যেটা মানুষ আমায় এখন দেখছে সব কিছু চলচ্চিত্র থেকে পাওয়া। যেমন মানুষের প্রতি দরদ, দেশের প্রতি দেশপ্রেম, মানব কল্যাণের জন্য যে কাজ করছি, সব কিছু চলচ্চিত্র থেকে পাওয়া। আমি ইউনির্ভাসিটিতে পড়া অবস্থায় চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করি। অনেক সময় চলচ্চিত্র থেকে না পাওয়ার অনেক কিছ ুআছে। যেমন: একটা সিনেমা করেছি, সেই সিনেমাটা ব্যবসায়ে অনেক সফল হয়েছে কিন্তু আমাকে টাকা দেয় নি। তারা বলেছেন, তুমি একজন বড় ডিরেক্টরের সাথে কাজ করতে পারছ, এটা তোমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। তুমি আবার কিসের জন্য টাকা চাচ্ছ ? আমি অভিনয় করি টাকার জন্য এবং সে টাকা দিয়ে আমার চলতে হয়। আবার অনেক সময় দেখা গেছে, যে টাকার কন্ট্রাক্ট হয়েছে সে পরিমান টাকা আমাকে দেয়নি। আমি যখন প্রথম সময়ের দিকে সিনেমা শুরু করি, আমাকে সিনেমায় নেওয়া হয়েছে কিন্তু পরে দেখা গেছে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে । পরিচালক আমাকে বলেনি। শুটিংয়ে গিয়েছি, মেকআপ নেবো। তখন একজন আর্টিষ্টকে দেখে ভাবলাম এই শিল্পী এখানে কেন? তাহলে কি আমার স্থানে তাকে নিলো? শেষ মেষ তাই ঘটলো। তখন আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি। এমনকি আমি কেঁদেছি। এসব কষ্ট আমাকে আবার শক্তিও দিয়েছে। আবার জিদও হয়েছে। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে কেন জিদ দিয়েছে, রাগ কেন দিয়েছে? রাগ মানে নেগেটিভ। তখন ভাবলাম, রাগটাকে পজেটিভলি নিয়ে আমাকে এমন কিছু করতে হবে যেন আমাকে নিয়ে সবাই প্রশংসা করে এবং আমাকে নিয়ে সবাই কাজ করে । সেটা আমি করতে পেরেছি । যে কাজই মানুষ করুক না কেন, নিজে যদি কাজটাকে নিয়ে চিন্তা না করে, তাহলে উন্নতি হয় না। যত মানুষ ভাববে এই কাজটা কিভাবে করবো? ওভাবে করলে কি হয়? এর থেকে বেটার কিভাবে করা যায়? যত চিন্তা করবে তত ভালো হবে কাজটা। পরিচিতি : চলচ্চিত্র অভিনেতা সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ সম্পাদনা : সানিম আহমেদ

অন্যান্য সংবাদ