তাজা খবর



ঋণের জামানত হিসেবে চেক রাখা যাবে না

আমাদের সময়.কম
প্রকাশের সময় : 14/01/2018 -10:19
আপডেট সময় : 14/01/ 2018-10:19

ডেস্ক রিপোর্ট: নাগরিকের আর্থিক লেনদেন সহজ করা এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত এনআই অ্যাক্ট অর্থাৎ ‘দ্য নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট-১৮৮১’ সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১৩৬ বছরের পুরনো এ আইনটি স্বাধীনতার পর চতুর্থবারের মতো সংশোধন করে নতুন একটি আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

খসড়ায় ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে কোনো চেক না রাখার প্রস্তাবসহ এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য আদালতের এখতিয়ার পরিবর্তন ও জেলা-জরিমানা বিষয়ে ৬টি সংশোধনী আনা হয়েছে। এর ফলে চেক ডিজঅনারসহ এ সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলা অনেকাংশে কমার পাশাপাশি নাগরিকের ভোগান্তিও লাঘব হবে।

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও কমিশনের অপর সদস্য বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর নতুন এ আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেন। এর পর গত সপ্তাহে কমিশন থেকে ১৬ পৃষ্ঠার সুপারিশমালাসহ ‘দ্য নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট-২০১৮’ (সংশোধিত) খসড়া আইনটি আইন ও অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। এখন সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় খসড়াটি পর্যালোচনা করে তা কার্যকরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেন, ‘কর্মরত বিচারক, আইনজীবীসহ ভুক্তভোগী নাগরিকের মতামত এবং দেশি-বিদেশি রায় ও আইনের আলোকে প্রচলিত এনআই অ্যাক্ট সংশোধন করে নতুন খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরে এটি সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। আশা করি, সংশ্নিষ্টরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

সংশোধিত আইনটি কার্যকর হলে নাগরিকের সুবিধা প্রসঙ্গে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, অধিকাংশ মামলায় দেখা যায়, ঋণের বিপরীতে গ্রাহকের কাছ থেকে ব্ল্যাংক (ফাঁকা) চেক রাখা হয়। অথচ আইনে ব্ল্যাংক চেক অর্থাৎ শুধু স্বাক্ষরিত চেক জামানত হিসেবে রাখার আইনি কোনো ভিত্তি নেই। এ নিয়ে বাদী-বিবাদীদের ভোগান্তিও কম নয়। নতুন আইন কার্যকর হলে এ সংক্রান্ত ভোগান্তি কমবে এবং আদালতেও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখবে।

আইন কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, এ আইনের মূল উদ্দেশ্য আর্থিক লেনদেন সহজ ও দ্রুততর করা; কাউকে শাস্তি প্রদান নয়। কারণ দেশে প্রচলিত ঋণ আদায় সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনে সর্বোচ্চ দ্বিগুণ পরিমাণ জরিমানার বিধান রয়েছে। তা ছাড়া দেশের অধস্তন আদালতও মামলাজটে ভারাক্রান্ত।

সুপারিশে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার নেপালে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে চেক ডিজঅনারজনিত অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ ৩ মাস কারাদণ্ড অথবা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, শ্রীলংকাসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত দায় ফৌজদারি অপরাধের দায় হিসেবে বিবেচিত হয় না, বরং দেওয়ানি দায় হিসেবে গণ্য করা হয়। এ অবস্থায় বাংলাদেশেও কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ঋণ প্রদানকারী এনজিও কর্তৃক ঋণ প্রদানকালে ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে কোনো চেক রাখা যাবে না- এ মর্মে বিধান রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে শাস্তির মাত্রা কমিয়ে এ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

খসড়া আইনটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এতে প্রচলিত আইনের ৬টি বিষয় সংশোধন ও সংযোজন করা হয়েছে। সংশোধিত খসড়ায় প্রচলিত আইনের ১৩৮ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে কোন ব্যাংক চেক না রাখার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রচলিত এনআই অ্যাক্ট-১৮৮১ এর ১৪১ ধারার (সি) অনুযায়ী, দায়রা আদালতকে চেক ডিজঅনারসহ এ-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নতুন সংশোধিত আইনের খসড়ায় দায়রা আদালতকে প্রদত্ত এখতিয়ার সংশোধনক্রমে প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে এখতিয়ার প্রদান করার কথা বলা হয়েছে।

সুপারিশমালায় আইন কমিশন বলছে, এর ফলে একদিকে দায়রা আদালতগুলো ভারমুক্ত হয়ে জটিল মামলা নিষ্পত্তি করে মামলাজট হ্রাস করতে সক্ষম হবে; অন্যদিকে ১৩৮ ধারার মামলাগুলো কম সময়ে নিষ্পত্তি হয়ে বিচারপ্রার্থী ও আসামির ভোগান্তি লাঘব করবে।

দণ্ড ও অপরাধ আপসযোগ্য :প্রচলিত আইনের ১৩৮ ধারায় বর্ণিত অপরাধ আপসযোগ্য নয়। বিদ্যমান আইনে চেক প্রতারণা সংক্রান্ত মামলায় এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সংশ্নিষ্ট চেকে বর্ণিত টাকার তিন গুণ পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় প্রকার দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আইনে ১৩৮ ধারা সংশোধন করে জরিমানা দ্বিগুণ করার পাশাপাশি কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বছর থেকে কমিয়ে ছয় মাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে সংশোধিত নতুন আইনে ১৩৮ ধারা সংশোধন করে আপসযোগ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এর ৩৪৫ ধারায় বর্ণিত যেসব অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছর বা তার নিচে, সেগুলো আপসযোগ্য হবে। এ বিষয়ে কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, ১৩৮ ধারার অপরাধটি আপসযোগ্য হলে দ্রুততার সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তি হয়ে পক্ষগণের দুর্ভোগ লাঘব হবে। অন্যদিকে দেশের ফৌজদারি আদালতগুলোর মামলাজটও হ্রাস পাবে।

সূত্র: সমকাল

এক্সক্লুসিভ নিউজ

বিএনপির নির্বাচনি রূপরেখা দেখার অপেক্ষায় আছি: ওবায়দুল কাদের

আনিস রহমান: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও... বিস্তারিত

পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

হ্যাপি আক্তার: বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শান্তি... বিস্তারিত

চোখের জলে শেষ হলো আখেরি মোনাজাত

ওমর শাহ: দুনিয়াতে কল্যাণ ও আখেরাতে মুক্তি কামনায় শেষ হলো... বিস্তারিত

বিএনপি সংলাপের মুখোশ পরে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে: তথ্যমন্ত্রী

আনিস রহমান: বিএনপি সংলাপের মুখোশ পরে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে... বিস্তারিত

মানসম্মত বাংলায় রেডিও অনুষ্ঠান করার নির্দেশ

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া : রেডিও স্টেশনগুলোকে মানসম্মত বাংলা ব্যবহার করে অনুষ্ঠান... বিস্তারিত

রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয়দের জন্যও ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন: বিশ্বব্যাংক

ওমর শাহ: বিশ্বব্যাংকের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা বলছেন, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে... বিস্তারিত





আজকের আরো সর্বশেষ সংবাদ

Privacy Policy

credit amadershomoy
Chief Editor : Nayeemul Islam Khan, Editor : Nasima Khan Monty
Executive Editor : Rashid Riaz,
Office : 19/3 Bir Uttam Kazi Nuruzzaman Road.
West Panthapath (East side of Square Hospital), Dhaka-1205, Bangladesh.
Phone : 09617175101,9128391 (Advertisement ):01713067929,01712158807
Email : editor@amadershomoy.com, news@amadershomoy.com
Send any Assignment at this address : assignment@amadershomoy.com