প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুশীল আর ব্যবসায়ী, মানব সেবায় রাজনীতির বিকল্প নেই

রবিউল আলম : সুদীর্ঘকাল ধরে রাজনীতি চলছে এবং রাজনীতি চলবেও দীর্ঘকাল। তবে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত থামানো যায়নি, যাবেও না। রাজনীতির শুরু থেকে দলগুলো নগর মহানগর শক্তি অর্জনে ব্যস্ত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও সে থেকে আলাদা নয়, মুসলিম লীগের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঝান্ডা নিয়ে মাঠে নামেন আফেজ মুসা, রফিক শেঠ, কালু শেঠরা। পরে মেয়র হানিফসহ একাধিক ঢাকাবাসী। জাতির জনকের কাছে ঢাকাবাসীর কদর ছিল আকাশ ছোঁয়া। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও ঢাকার কদর আলাদা, বার বার প্রমাণ করেছেন, ঢাকাবাসীর কাছে জাতির জনকের গ্রহণযোগ্যতা দেখে। যাদের অবদানে জনতার মঞ্চ হয়েছে ১৯৯৬ সালে নেত্রী তাদের অস্বীকার করেননি।

নেত্রী মুক্তি আন্দোলনে যে সকল নেতৃবৃন্দ অবদান রেখেছেন, তাদেরকে কোনো না কোনো ভাবে মূল্যায়ন করেছেন। অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে, লেখার শেষ হবে না। ভালো মানুষের কত কদর শেখ হাসিনার কাছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না, লালবাগের আবুল হাসনাতকে খুঁজে এনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি করা হয়। ঢাকার ছেলে আলহাজ্ব মো. সাদেক খাঁনকে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদনের দায়িত্ব দেওয়া হয়, সভাপতি করা হয় এ.কে.এম রহমত উল্লাকে। এই প্রথম ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সভানেত্রীর স্বাক্ষরে প্রধান কার্যালয় ধানমন্ডি থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার দায়িত্ব দেওয়া হয় ৫ সদস্যকে। প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার কমিটি করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মতামত নেওয়া হয়। কমিটি শতভাগ শুদ্ধ হবে, করতে পারবে একথা হলফ করে কেহ বলতে পারবে না। কখনো হয়েছে, তাও না। তবে এ কথা হলফ করে বলতে পারি, বর্তমান ঘোষিত কমিটি অনেকাংশে ভালো হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের সম্মেলন ও কাউন্সিল মারামারি, কিলাকিলি ছাড়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

এই প্রথম ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উত্তরের কমিটি ঘোষণা হয়েছে। তবে একেবারে প্রতিবাদ হয়নি, সে কথা বলা যাবে না। আমরা যারা দল করি, একবার পদ পেলে আজীবন থাকতে পারবো মনে করি না। নতুন মুখ আসুক, তরুণ-যুবক থাকুক, আমরা মেনে নিতে পারব না। আমার বাপে দল করেছেন, আমরা বংশগত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন আন্দোলনে অবদান আছে, জেল খেটেছি, পদ নেই মানতে পারছি না। একথাও বুঝতে পারছি না, দলে যতক্ষণ আমার কর্মশক্তি আছে, ততক্ষণ আমার পদ-পদবি আছে। পদ পদবির অর্থ কর্মদক্ষতার প্রয়োজন, লোক সমাগমের প্রয়োজন, সবদিক বিবেচনা করে পদ পদবি দেওয়া হয়। শুধু রক্ত দিলাম, জীবন দিলাম, কমিটিতে আজীবন রাখতে হবে, থাকতে হবে কেন? যারা দলকে ভালোবাসেন, তারাইতো পদের, পদবির ছাড় দিবেন। নতুন মুখ আসবে, নতুন পরিকল্পনায় দল গঠন হবে, দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকতে ও রাখতে হলে। অনেকেরই অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়েছে। এতে কিছু ভুলও হতে পারে। যাদের যোগ্যতা আছে, ফিটনেস আছে, ক্রিকেট খেলোয়ারের মত পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তী কমিটিতে আসতে পারবেন। মুজিব প্রেমী সেই সূর্য্য সন্তানরা গণতন্ত্রের লেখায় স্থান পাবে।

বিগত মেয়র দলীয় কর্মীদেরকে কি পুরোপুরি কাছে টানতে পেরেছিল, তবে চেষ্টা ছিল সময় পায়নি। বর্তমানে নির্বাচন হবে দুই বছরের জন্য, দলের বাহিরের প্রার্থী হলে, পরিচয় হবে কখন, কর্পোরেশনের ফাইল বুঝবেন কখন, নেতাকর্মীদের মিলন মেলায় ঐক্যবদ্ধতা সৃষ্টি করবেন কখন এবং তার নিজের ব্যবসা চালাবেন কখন। ব্যবসা দিয়ে রাজনীতি হয় না। যারা ৪০-৫০ বছর রাজনীতি করলেন, কর্পোরেশনের সেবা করলেন, অভিজ্ঞতা অর্জন করলেন, তাদের কাজে লাগাবেন কখন। ১৯৭৭ সাল থেকে আলহাজ্ব মো. সাদেক খাঁন কর্পোরেশনের সাথে যুক্ত। বর্তমানে ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন, কর্মীপ্রিয় এই নেতার বারবার প্রমাণ দিয়েছেন নেত্রীর সামনে। শেখ হাসিনা, উত্তর শ্লোগানে শ্লোগানে গগণ বিদারী আওয়াজ, নেত্রী হাসেন। জানিনা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাজে লাগাবেন কিনা। সুশীল সমাজ আর ব্যবসায়ী বলেন, রাজনীতির একটি ক্ষুদ্র কর্মীও তার চেয়ে অনেক ভালো এবং মর্যাদাশীল।

লেখক : ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত