প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৮ কিশোরীর পলায়ন
আনসেফ সেফ হোম

ডেস্ক রিপোর্ট : চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদে অবস্থিত সরকারি সেফ হোম থেকে এক রাতে পালিয়েছে আট কিশোরি। এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে বিভিন্ন মহলে। পালানো কিশোরীর মধ্যে একজনকে উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ। বাকি সাতজনের হদিস শনিবার পর্যন্ত মেলেনি। সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সেফ হোমে রাখতে হয় কিশোরীদের। নিরাপদে রাখার জন্যই সেফ হোম। কিন্তু সেই সেফ হোম এখন আনসেফ। সেফ হোমের দায়িত্বশীলদের চরম অবহেলায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

আদালত সূত্র জানায়, সমাজে এমনকি পরিবারেও যাদের নিরাপত্তার সমস্যা দেখা দেয় তাদের জন্য সেফহোমে নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ করে অসহায় শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এ ধরনের সেফহোম চালু আছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদে সমাজসেবা অধিদপ্তরের দীর্ঘদিন ধরে চালু আছে একটি সেফ হোম। সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালনায় শিশু-কিশোরী মহিলা, প্রতিবন্ধী হেফাজতিদের জন্যও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সেফ হোম এখন আনসেফে পরিণত হয়েছে।

৯ জানুয়ারি গভীর রাতে সেফ হোমের পেছনের রান্নাঘরের গ্রিল কেটে ৮ কিশোরী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পালিয়ে যাওয়া এক কিশোরীকে উদ্ধার করলেও চারদিন পার হলেও বাকি সাত কিশোরীকে এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় সেফ হোমে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও কর্মীদের গাফিলতির প্রমাণও মিলেছে। বর্তমানে সেফ হোম নিরাপদ না হওয়ায় বাকি কিশোরীরা আতঙ্কে রয়েছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ফরহাদাবাদের এই সেফফোমে ৫৬ জন কিশোরী রয়েছে। এর মধ্যে গেল ৯ জানুয়ারি গভীর রাতে ৮ জন কিশোরী পালিয়ে যায়। পরদিন এক কিশোরীর সন্ধান পাওয়া গেলেও অন্যদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে ঘটনা তদন্তে সমাজসেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক নাজনীন কাউসারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, আদালত নিরাপদে থাকার জন্য সেফহোমে পাঠায়। কিন্তু এক সঙ্গে আট কিশোরীর পলায়নের ঘটনায় সেফ হোমের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পালানোর ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে সেফ হোম মোটেই সেফ নয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেফ হোমের ভবনে রাতে দুই শিফটে দুইজন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। দুইজনের মধ্যে একজন রাত ১০ থেকে ২টা পর্যন্ত ও অন্যজন রাত ২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১০টা থেকে যার দায়িত্ব পালনের কথা ছিল তিনি ৬টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন না করে ঘুমিয়ে ছিলেন। আর যিনি ২টা থেকে ৬টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের কথা ছিল তিনি ভোর ৬টা ৫২ মিনিটে এসে ২ মিনিট অবস্থান করে চলে যান। একজন আনসার সদস্য কাজে না এলেও অপরজন তাদের সাথে কোন যোগাযোগ করেনি। এছাড়া সেফ হোমে ২ নারী কর্মী নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন। ওইদিন দুই নারী দায়িত্ব পালন না করে ঘুমিয়ে ছিলেন। যার কারণে পালানোর ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে সেফ হোমে দায়িত্বরত আনসার ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া কিশোরীরা কোনো দালাল চক্রের খপ্পড়ে পড়েছে কিনা তা পুলিশকে দিয়ে তদন্ত করতে সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক নাজনীন কাউসার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। মহাপরিচালক যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই হবে। তিনি বলেন, এই সেফ হোমে ৫৬ জন কিশোরীর মধ্যে ৮ জন রান্নাঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। পরদিন একজনকে উদ্ধার করা হলেও বাকি ৭ জন কিশোরী এখনও পলাতক। সেফ হোমের কম্পাউন্ডে একটি পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও ভবনে সার্বক্ষণিক আনসার সদস্যরা পাহারায় থাকেন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে আনসার ও দায়িত্বরত কাজের লোকদের গাফিলতি পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর বলেন, দেশের প্রত্যেক থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বৃহস্পতিবার থানায় সেফ হোম কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেন। পরে ২ আনসার সদস্যসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরপর আদালত তাদের কারাগারে পাঠান। তিনি বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট থানায় বার্তা প্রেরণ করেছি। এরপর উদ্ধার তৎপরতায় যা করার সংশ্লিষ্ট থানা করবে। আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ