প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আটকে আছে রেলওয়ের চার অঞ্চলের ভাগ প্রক্রিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট : জনবল সংকটের কারণে রেলওয়ে চার অঞ্চলের ভাগ প্রক্রিয়া আটকে আছে। সারাদেশের প্রত্যেক জেলাকে রেলের নেটওয়ার্কে আনতে চারটি অঞ্চলে ভাগ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-সিলেট জেলাসমূহ নিয়ে পূর্বাঞ্চল, পাকশি ও লালমনিরহাট নিয়ে পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা-ময়মনসিংহ নিয়ে উত্তরাঞ্চল এবং রাজবাড়ি-খুলনা বিভাগ নিয়ে গঠিত হবে দক্ষিণাঞ্চল। এতে চট্টগ্রাম হবে পূর্বাঞ্চলের সদর দফতর, উত্তরাঞ্চলের ময়মনসিংহ, পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী এবং দক্ষিণাঞ্চলের সদরদফতর হবে ফরিদপুরে। বর্তমানে পূর্ব ও পশ্চিম নামে দুটি অঞ্চলে পরিচালিত হচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম, ঢাকা, পাকশি ও লালমনিরহাট বিভাগের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। রেলওয়ে চারটি অঞ্চলে ভাগ হলে সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজবাড়ী ও খুলনা নতুন করে বিভাগীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চার অঞ্চলের নাম ঘোষণা করা হলেও জনবল সংকটের কারণে গত ১ বছরেও চূড়ান্ত প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। চার অঞ্চলের জনবল কাঠামো ও গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার জন্য একটি পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, রেলওয়ে চার অঞ্চল বিভক্তির বিষয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে। ইতিমধ্যে অঞ্চল বিভক্তির বিষয়ে পরামর্শক নিয়োগ দিয়ে রেলওয়ে বিভাগ। জনবল কাঠামো, বেতন ও অবকাঠামো নির্ধারণ করার পর প্রস্তাবটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আশা করি দ্রুতই অঞ্চল বিভক্তি প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে জানান তিনি জানা গেছে, সারাদেশের ২ হাজার ৮৭৭ দশমিক ১০ কিলোমিটার রেলপথ পূর্ব ও পশ্চিম নামের দুটি অঞ্চলে পরিচালিত হচ্ছে ব্রিটিশ আমলে থেকেই। তাই রেলওয়েকে ঢেলে সাজানোর জন্য ২০১৪ সালে ২৩ অক্টোবর রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলওয়েকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করার নির্দেশ দেন। এজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে পরামর্শ দেন রেলপথ মন্ত্রণালয়কে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর রেলওয়েকে ৪টি বিভাগে ভাগ করতে রেল মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমল কৃষ্ণকে আহ্বায়ক একটি কমিটি গঠন করে রেলপথ মন্ত্রণালয়। কমিটি চট্টগ্রাম-সিলেট জেলাসমূহ নিয়ে পূর্বাঞ্চল, পাকশি ও লালমনিরহাট নিয়ে পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা-ময়মনসিংহ নিয়ে উত্তরাঞ্চল এবং রাজবাড়ি-খুলনা বিভাগ নিয়ে দক্ষিণাঞ্চল গঠনের একটি প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম হবে পূর্বাঞ্চলের সদর দফতর, উত্তরাঞ্চলের ময়মনসিংহ, পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী এবং দক্ষিণাঞ্চলের সদরদফতর হবে ফরিদপুরে। এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ে পূর্বাঞ্চল এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়ে পশ্চিমাঞ্চল পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল। এক্ষেত্রে পূর্বাঞ্চলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম এবং পশ্চিমাঞ্চলে পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগ বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি নবগঠিত ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের সমন্বয়ে উত্তরাঞ্চল এবং বরিশাল ও খুলনা বিভাগের সমন্বয়ে দক্ষিণাঞ্চল গঠনের সুপারিশ করা হয়। এক্ষেত্রে সিলেটে উত্তরাঞ্চলের হেড অফিস ও ময়মনসিংহ পরিচালন বিভাগ এবং ফরিদপুরে দক্ষিণাঞ্চলের হেড অফিস ও রাজবাড়ী, যশোর, বরিশালে তিনটি পরিচালন বিভাগ সৃষ্টি করার সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ের কমিটি। তবে এ নিয়ে রেলপথ ও রেল বিভাগ ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছিলেন।

রেলওয়েকে চার অঞ্চলে বিভক্ত করায় বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন রেল বিভাগ। এর পরিবর্তে নতুন দুইটি বিভাগ সৃষ্টির সুপারিশ করা হয়েছিল রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার রেলওয়ে পরিচালন (অপারেটিং) ব্যবস্থার তুলনা ধরা হয়। বাংলাদেশে ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার রেলপথের জন্য দুইটি অপারেটিং জোন ও ৪টি বিভাগ রয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি জোনে রয়েছে ১ হাজার ৪৩৮ ও প্রতি বিভাগে ৭১৯ কিলোমিটার রেলপথ। আর ভারতে ৬৫ হাজার ৮০ কিলোমিটারের জন্য ১৬টি জোন ও ৬৮টি বিভাগ রয়েছে। গড়ে প্রতি জোনে ৪ হাজার ১১৩ ও বিভাগে ৯৩১ কিলোমিটার রেলপথ। পাকিস্তানে ৭ হাজার ৭৯১ কিলোমিটারের জন্য জোন ১টি ও বিভাগ ৭টি রয়েছে। অর্থাৎ গড়ে বিভাগপ্রতি ১ হাজার ১১৩ কিলোমিটার রেলপথ। আর শ্রীলঙ্কায় ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার রেলপথ ১টি জোনের আওতায়ই পরিচালিত হয়।

রেলওয়ে বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় বর্তমানে রেলওয়ে জোনের আওতায় অনেক কম রেলপথ রয়েছে। এর মধ্যে নতুন জোন সৃষ্টি করা হলে সংস্থাটির পরিচালন ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাড়বে রেলের লোকসান। তাই রেলওয়েকে চারটি অঞ্চলে বিভক্ত না করে বিদ্যমান কাঠামোতেই রাখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে খুলনা ও ময়মনসিংহ নামে দুইটি রেলওয়ে বিভাগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। রেলওয়ের প্রস্তাবে আরও বলা হয়, বর্তমানে সারাদেশে ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে তা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কিলোমিটার। সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণে নতুন দুইটি বিভাগ সৃষ্টি করলেই চলবে। এক্ষেত্রে খুলনা বিভাগ পশ্চিমাঞ্চলের আওতায় ও ময়মনসিংহ বিভাগ পূর্বাঞ্চলের আওতায় আসবে। ঢাকা বিভাগের আওতায় থাকবে ৭২৭ কিলোমিটার, চট্টগ্রামের আওতায় ৮৫৭, ময়মনসিংহের আওতায় ৫৮৩, পাকশীর আওতায় ৮৬৯, লালমনিরহাটের আওতায় ৬৯৫ ও খুলনা বিভাগের আওতায় ৯৬৯ কিলোমিটার রুট রেলপথ। কিন্তু রেলওয়ে ওই মতামত গ্রহণ না করে বাংলাদেশ রেলওয়ের দুটি অঞ্চলকে ভেঙে চারটি এবং চারটি বিভাগকে আট বিভাগে গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব এখনও জনপ্রশাসনে পাঠানো হয়নি। কারণ অঞ্চল ও বিভাগ বাড়ালে রেলের খরচ এবং জনবলের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রত্যেক জেলাকে রেলের নেটওয়ার্কে আনতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল। রেল মন্ত্রণালয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়েকে চার অঞ্চলে বিভক্ত করার। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ৪০ হাজার জনবল রয়েছে। নতুন দুটি অঞ্চলের জন্য অতিরিক্ত আরও ১৫ হাজার জনবল নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। নতুনভাবে দুটি সদর দফতর ও চারটি বিভাগীয় কার্যালয়ে অবকাঠামো এবং জনবল নিয়োগ করতে হবে। তবে বর্তমানে রেলের বিদ্যমান অবকাঠামোতেই কার্যালয় করা সম্ভব হবে। কেবল কিছু অতিরিক্ত স্থাপনা প্রয়োজন হবে। তাই ?বিভক্তির জন্য জনবল কাঠামো এবং অন্যান্য যেসব বিষয় আছে সেগুলো নির্ধারণের জন্য কমিটি কাজ করছে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।

এ ব্যাপারে রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশকে রেল নেটওয়ার্কে আনতে চারটি অঞ্চলে ভাগ করা হচ্ছে। পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ নামে চারটি অঞ্চলের একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সূত্র : সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত