প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে
সাড়ে ৩৬ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

ডেস্ক রিপোর্ট : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন অধিদফতর, দফতর ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কাছে ৩৬ কোটি ৩৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, ‘ডিপিডিসি, ডেসকো’র এক শ্রেণীর অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষ আদায়ের জন্যই বিদ্যুৎ বিল বকেয়া দেখাচ্ছেন।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছয়টি কোম্পানি ও সংস্থার এই বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গত ১৮ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইনের কাছে উপানুষ্ঠানিকপত্র দেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

চিঠিতে ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের নিকট বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পরিচালনা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ ডিসেম্বর ১৪টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য তাগাদাপত্র দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি), প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট, এনটিআরসিএ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, নায়েম, সকল শিক্ষা বোর্ড, এনসিটিবি (পাঠ্যপুস্তক বোর্ড), ব্যানবেইস, বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি), পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্ট।

জানতে চাইলে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু বলেন, ‘আমাদের কোন বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নেই।’

এ বিষয়ে ইইডি’র প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মো. হানজালা সংবাদকে বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ বিল দেই না। আমাদের অফিস শিক্ষা ভবনে, বিদ্যুৎ বিল দেয় মাউশি কর্তৃপক্ষ।’

জানতে চাইলে মাউশি’র উপপরিচালক (প্রশাসন) শফিক আহম্মেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘গত নভেম্বর পর্যন্ত আমাদের বিদুৎ বিল পরিশোধ করা আছে। এক টাকাও বকেয়া নেই। এরপরও মন্ত্রণালয় থেকে কোন চিঠি আমাদের হাতে আসলে এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নেয়া হবে।’

বিদ্যুৎ সচিবের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) বকেয়া তিন কোটি ১৮ লাখ দুই হাজার টাকা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বাপবিবো) তিন কোটি ৬৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, ডিপিডিসি’র ২৫ কোটি ৭৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা, ডেসকো’র ৩৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) এক কোটি ৭৮ লাখ ৫২ হাজার এবং নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) বকেয়া রয়েছে এক কোটি ৫৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা। মোট বকেয়া ৩৬ কোটি ৩৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

এই বকেয়া বিলের ব্যাপারে শিক্ষা সচিবকে দেয়া উপানুষ্ঠানিক পত্রে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব আরও বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা/ কোম্পানিসমূহ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করে গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করে থাকে। সরকারি দফতর/সংস্থায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার ফলে বিতরণকারী কোম্পানি/প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একদিকে যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, অন্যদিকে বিতরণকারী কোম্পানি/সংস্থা তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারছে না। ফলে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ (ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ) বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা উন্নত ও সচল রাখা তথা দেশের সমন্বিত উন্নয়নের স্বার্থে সঠিক সময় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা একান্ত অপরিহার্য।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আমার জানা মতে, এনসিটিবি’র কোন বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নেই। আমরা গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিল সবসময় আপ-টু-ডেট রাখি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশি’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘মাউশি বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করে আসছে। বিলের কাগজপত্রও সংরক্ষণ করা রয়েছে। কিন্তু যারা বিল গ্রহণ করছেন, তারা যদি কাগজপত্র সংরক্ষণ না করেন এর দায়দায়িত্ব তো গ্রাহকদের নয়। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের এক শ্রেণীর অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্যই বিদ্যুৎ বিল বকেয়া দেখিয়ে আমাদের হয়রানি করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।’

সূত্র : সংবাদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত