প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মালয়েশিয়ায় ১৭২ বাংলাদেশি আটক

ডেস্ক রিপোর্ট : মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের আটক করতে ফের অভিযান শুরু করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক দিনে দেশটিতে ১৭২ বাংলাদেশি আটক হয়েছে। কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের তরফে এটাকে রুটিন অভিযান বলা হলেও অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা। কর্মকর্তারা বলছেন, ৩১শে ডিসেম্বর রি-হায়ারিং কর্মসূচির আওতায় বৈধতার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দফায় দফায় এ অভিযান চলছে। যাতে বাংলাদেশি সহ বিভিন্ন দেশের অনিয়মিত লোকজনকে আটক করা হয়েছে। বাংলাদেশি হিসেবে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের ভেরিফিকেশন সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটিতে কূটনৈতিক অ্যাসাইনমেন্টে থাকা বাংলাদেশি কর্মকর্তারা।

তাদের সরবরাহ করা তথ্য মতে, রি-হায়ারিংয়ের আওতায় সর্বোচ্চ সংখ্যক অবৈধ বা অনিয়মিত বাংলাদেশি বৈধতার জন্য অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন করেছেন। সেই সংখ্যা ৫ লাখের বেশি হবে এমন ধারণা দিয়ে দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, নিবন্ধিতদের মধ্যে যারা রি-হায়ারিংয়ের শর্তাবলী যথাযথভাবে পূরণ করতে পারবেন তারা বৈধতা পাবেন- এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে নিবন্ধন করেছেন কিন্তু কাগজপত্র ঠিক নেই- এমন সংখ্যা প্রায় ৫ পার্সেন্টের কাছাকাছি হবে দাবি করে এক কর্মকর্তা বলেন, নিবন্ধনের আওতায় আসেননি বা আসতে পারেননি এমন অনেকে রয়েছেন। তাদের নিয়েই যত শঙ্কা। তবে রি-হায়ারিং কর্মসূচির ডেটলাইন শেষ হওয়ার পর নতুন করে অবৈধদের বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগ মালয়েশিয়া দেবে কি-না? সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এবং কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পৃথক অভিযানে মালয়েশিয়ায় আটক ১৭২ বাংলাদেশির মধ্যে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্যরাও রয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মালয়েশিয়া সেকশন ২৮ শাহ আলম এলাকা থেকে ৫১ জন এবং সুবং জয়াত থেকে ১২১ জনকে আটক করা হয়। দেশটির অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মুস্তফা এ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আবদুল রউফ নামে এক বাংলাদেশিকে তারা আটক করেছেন, যার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে লোকজন পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ‘এবং বাংলা’ নামে পরিচিত মানবপাচারের হোতা রউফ ২০১৩ সালে ইটভাটায় কাজ করতে ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় যান। তার বিরুদ্ধে মানবপাচারবিরোধী আইনে মামলা হবে জানিয়ে মহাপরিচালক জানান, আটককৃত বাকিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনে মামলা হবে।

রউফসহ মানবপাচার চক্রের মোট ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে দাতুক সেরি মুস্তফা জানান, আটককৃতদের বয়স ২০-৪৫-এর মধ্যে। তাদের কাছ থেকে ৪৮টি পাসপোর্ট এবং ১৩ হাজার রিঙ্গিত উদ্ধার করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, পাচারকারীরা বাংলাদেশিদের প্রথমে বিমানে করে ঢাকা থেকে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় নিয়ে আসেন। পরে সেখান থেকে তাদের মালাক্কা প্রণালীর এক জায়গায় এনে রাখা হয়। সুযোগ ও সময়মতো তাদের সেখান থেকে মালয়েশিয়ায় ঢোকানো হতো। এ জন্য প্রত্যেক বাংলাদেশির কাছ থেকে ১৫-২০ হাজার রিঙ্গিত (তিন লাখ ১৪ হাজার টাকা থেকে চার লাখ ১৮ হাজার টাকা) নেয়া হতো।

কেউ টাকা দিতে না পারলে তাকে সেখানেই রেখে দেয়া হতো। টাকা বুঝে পাওয়ার পরই তাদের মালয়েশিয়ার নিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেয়া হতো বলে জানান অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট ও অবৈধ সেক্টরে কাজ করার দায়ে সুবং জয়াতে আলাদা এক অভিযানে ১২১ বাংলাদেশি, ৬০ ভারতীয় ও দুই পাকিস্তানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান মুস্তফা। মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত