প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রাম্পের মন্তব্যে ‘বর্ণবাদ’, বিশ্বব্যাপি প্রতিক্রিয়া

মরিয়ম চম্পা : হাইতি, এল সালভাদর ও আফ্রিকান দেশগুলোকে নোংরা বলায় বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য তাকে আফ্রিকার নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত আফ্রিকান ইউনিয়নের দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ট্রাম্প প্রশাসন আফ্রিকান জাতিকে এখনো উপলব্ধি করতে পারেননি। আফ্রিকান মিশন থেকে আরও বলা হয়, আমেরিকার মত বৈচিত্রময় নাগরিকের দেশে এমন মন্তব্য মানুষের মর্যাদা ও বিশ্বায়নের জন্য বাধা এবং রীতিমত অসম্মানজনক।’

কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে অভিবাসন নীতি নিয়ে এক বৈঠকে হাইতি, এল সালভাদর এবং আফ্রিকার কিছু দেশকে ‘শিটহোল’ বা পায়খানার গর্তের সঙ্গে তুলনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এমন মন্তব্যকে বর্ণবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন। এর জের ধরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করা অসম্ভব বলে পদত্যাগ করেছেন পানামার নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জন ফিলি। তবে তার এই পদত্যাগের সঙ্গে আফ্রিকার দেশগুলো ও হাইতি নিয়ে করা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি।

পুলিৎজার পুরষ্কার বিজয়ী আলবার্ত স্ক্যাডিনো বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হচ্ছেন সর্বোচ্চ মাত্রার উন্মাদ, যাকে এখনই উপযুক্ত চিকিৎসা করানো উচিৎ। যদিও ইতোমধ্যে অনেকেই ধারণা করছেন ট্রাম্পের মন বলে কিছু নেই, উন্মাদ তো অনেক পরের কথা।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির মন্তব্য সাবেক কিং কান্ট্রি নরওয়েকে থুথু দিয়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়ে সরকার। নরওয়ের অফিসিয়াল এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘থ্যাংকস, বাট নো থ্যাংক, নরওয়ের কোন নাগরিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাবেনা।’ নরওয়ের নাগরিকদেরকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণের বিষয়টি প্রত্যাখান করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডেমোক্রেট নেতা হিলারি ক্লিনটন এক টুইট বার্তায় বলেন, ট্রাম্পের একাধিকবার শিটহোল মন্তব্য, কান্ডজ্ঞানহীন ও বণবার্দী আচরণের প্রমান দেয়। হাইতিতে গত ৮ বছর আগে যে ভয়াবহ ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হেনেছে, তা নিঃস্বন্দেহে মানবিক ও স্পর্শকাতর বিষয়। বিপদগ্রস্থ দেশগুলোকে সাহায্যের পরিবর্তে তার এই বিরূপ মন্তব্যই প্রমান করে যে, তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে কতোট অযোগ্য।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ডিক ডারবিন বলেন, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, প্রেসিডেন্ট যে শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন, হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে, ওই ওভাল অফিসে বসে এর আগে কখনো কোন প্রেসিডেন্ট তা বলেছেন। সিএনএন, বিবিসি, টাইম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত