প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একাদশ নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক : বাণিজ্যমন্ত্রী

ফাহিম ফয়সাল : বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়েই আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই নির্বাচনে বিএনপিও অংশগ্রহণ করবে।

শনিবার ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও এটিএন বাংলার যৌথ আয়োজনে রাজধানীর এফডিসিতে ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্টের গ্র্যান্ড ফাইনালে ছায়া সংসদ বিতর্ক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে শুধু নির্বাচিত সরকার নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারও বিতর্কিত হয়েছে। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমরাও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা ও নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। বিএনপিও ৯৬ এবং ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচিন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এই সরকার বৈধ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো সহায়ক সরকার নয়, এই সরকারই আগামী নির্বাচনকালীন সময়কালে তিনমাস অন্তবর্তীকালীন সরকার হিসেবে কাজ করবে। তবে তারা কোথাও নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবে না, নির্বাচন কমিশনই স্বাধীনভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। নির্বাচন নিয়ে সব দেশেই বিতর্ক রয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, এই সরকারের বিগত সময়ে ৫টি বৃহৎ সিটি করপোরেশনের সবগুলোতেই আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে বিএনপি জয়ী হয়। বর্তমান সিইসির অধীনে যে দুটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেখানেও আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়েছে। সরকারের কট্টর সমালোচকরাও বলেছে নির্বাচন ভালো হয়েছে। তবে এ দেশের জনগণই হলো সবচেয়ে বড় বিচারক। তারা চুপ থাকে এবং সময়মতো জন আদালতে জবাব দিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, গত ৪ বছরে দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের যে উত্থান তার ভিত তৈরি করে গেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, নির্বাচনে যারা জয়লাভ করে তাদের মধ্যে সবকিছুই নিয়ে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই প্রবণতায় বিজয়ীরা ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। অন্যদিকে পরাজিতরা হয়রানি জেলজুলুম-এর শিকার হয়। এককথায় উইনার টেক্স অল। যে কারণে নির্বাচনে কেউ পরাজিত হতে চায় না। তাই একাদশ নির্বাচন নিয়ে এখনও কোনো জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। জাতীয় নির্বাচনকে নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই অবস্থান থেকে দেশের মানুষ পরিত্রাণ চায়। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্যে যত দ্রুত সম্ভব প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য দূর করে প্রয়োজনীয় আলোচনা করা উচিত। তা না হলে কোনো ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষ ও অস্থীতিশীলতার দায় রাজনৈতিক দলগুলোকে বহন করতে হবে।

প্রতিযোগিতায় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়ন হয়। রানার আপ ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি এবং প্রাইম ইউনিভার্সিটি। ২০১৭ সালের এই প্রতিযোগিতায় দেশের সরকারি-বেসরকারি ৩২টি বিশ^বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেটসহ চ্যাম্পিয়ন দলকে নগদ ২ লক্ষ, রানার আপ দলকে ১ লক্ষ এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী দলকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত