প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৮ ব্যাংকে অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় অব্যবস্থাপনা

ডেস্ক রিপোর্ট : অনেক নাটক ও বিতর্ক, অব্যবস্থাপনাসহ কেন্দ্রে বিক্ষোভ-ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে সমন্বিতভাবে সরকারি আট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ‘সিনিয়র অফিসার’ পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে দুপুর সাড়ে তিনটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত পরীক্ষা হয়। ১ হাজার ৬৬৩টি শূন্যপদের জন্য পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়।

রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত হজরত শাহ আলী মহিলা কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আসন না থাকায় পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি। তারা সবাই কলেজের মাঠে অবস্থান করেন। সেখানে ৮ হাজার শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল।

ভোরের কাগজ’র প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে বসানো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না কলেজে। সেখানে প্রতি বেঞ্চে ৫-৬ জন করে পরীক্ষার্থী বসানো হয়। অনেকের বসারই আসন ছিল না। যারা কোনোমতে বসেছেন- তারা এত কম জায়গায় পরীক্ষা দিতে পারছিলেন না। অনেকে পরীক্ষা দিতে লাইব্রেরিতে চলে যান। সেখানেও আসন মেলেনি। এ অবস্থায় পরীক্ষা দেয়া যায় না, ক্রমেই ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে শিক্ষার্থীদের মনে। প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন তারা। ভাঙচুর শুরু করেন কলেজে। একপর্যায়ে অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এখন ওই একটি কেন্দ্রের পরীক্ষা বাতিলের কারণে পুরো পরীক্ষাই বাতিল হয় কিনা তা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা।

এদিকে বিকেলে এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম ও ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সদস্য সচিব মোশারফ হোসেন খান পরীক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলাকালে পরীক্ষার্থীদের কলেজ থেকে বের করে দেয়া হয়। এ সময় তারা কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বৈঠক শেষে মোশাররফ হোসেন খান এ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা আগামী ২০ তারিখ আলাদাভাবে নেয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি জানান, সামান্য অব্যবস্থাপনার কারণে আজ এত পরীক্ষার্থীকে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। এ জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এই কেন্দ্রের ৫ হাজার ৬০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম ৪ হাজার জন সরকারি বাঙলা কলেজে এবং ১ হাজার ৬০০ জনের পরীক্ষা শাহ আলী মহিলা কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

এ অব্যবস্থাপনার কারণ জানতে চাইলে কেন্দ্রটির অধ্যক্ষ ময়েজ উদ্দিন বলেন, আমাদের কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, ৪০ শতাংশ অনুপস্থিত ধরে আসনের ব্যবস্থা করতে আমরা সেভাবেই করেছি। কিন্তু উপস্থিতি বেশি হওয়ায় এ সমস্যা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে পরীক্ষা পরিদর্শনে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক বলেন, কখনো দেখিনি ৪০ শতাংশ অনুপস্থিত ধরে আসনের ব্যবস্থা করা হয়। আমরা কয়েক দিন আগে ওই কলেজের অধ্যক্ষের কাছে আসন ব্যবস্থার কথা জানতে চাইলে তিনি এ কথাটাই বলেছিলেন। তখন আমরা নিষেধ করেছিলাম কিন্তু তিনি উল্টো আমাদের ওপর খেপে যান। আজ এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী এই কলেজের অধ্যক্ষ।

এদিকে পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, এবারের ব্যাংকের পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। বাংলা, সাধারণ জ্ঞান, ইংরেজি সহজ হলেও গণিত একটু কঠিন হয়েছে। সারা দেশ থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা ঢাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রার্থীদের এক ঘণ্টাব্যাপী ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা হয়।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছর ১,৬৬৩টি শূন্যপদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সোনালী ব্যাংক লিমিটেডে ৫২৭টি, জনতা ব্যাংক লিমিটেডে ১৬১টি, রূপালী ব্যাংক লিমিটেডে ২৮৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে ৩৯টি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ৩৫১টি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ২৩১টি, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনে একটি ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশে (আইসিবি) ৭০টি পদ শূন্য আছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত