প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদ্যুতের বকেয়া বিল বাড়ছে

ডেস্ক রিপোর্ট : বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির বকেয়া বিলের পরিমাণ বাড়ছে। গত অক্টোবরে বকেয়ার পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসেই বকেয়া বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা। বিতরণ কোম্পানিগুলো বকেয়া আদায়ে সরকারের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র বলছে, মূলত সরকারি-আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরগুলোতে বকেয়ার পরিমাণ বেশি।

সূত্র জানিয়েছে, ছয় বিতরণ কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিল বকেয়া পড়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি)। প্রায় সোয়া দুই কোটি গ্রাহকের এ কোম্পানির পাওনার পরিমাণ দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা। এরপর রয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তাদের বকেয়ার পরিমাণ এক হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। এছাড়া, ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ৫৭০ কোটি টাকা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) এক হাজার ১৬ কোটি টাকা, ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ৩৭৬ কোটি টাকা এবং নর্দান পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (নেসকো) বকেয়া ৫৯৩ কোটি টাকা।

বকেয়া আদায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিতরণ কোম্পানিগুলো। গত নভেম্বরে ছয় বিতরণ কোম্পানি বকেয়া আদায়ে ৯৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। এতে ১৪২ জনকে সাজা প্রদানের ঘটনা ঘটে এবং ৬৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সূত্র জানায়, গত নভেম্বরে পিডিবি ২৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে। এতে ৩১ জনকে সাজা ও ৩৭ লাখ ৭৮ হাজার জরিমানা আদায় হয়। আরইবি ২০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১১ জনকে সাজা এবং প্রায় ৯ লাখ জরিমানা আদায় করে। ডিপিডিসি ও ডেসকো ৩ ও ৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও কোনো সাজা প্রদানের ঘটনা ঘটেনি। এর মধ্যে ডেসকো আট লাখ ৫৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। ওজোপাডিকো আটটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একজনকে সাজা দিয়েছে। জরিমানা আদায় হয়েছে ৪১ হাজার টাকা। নেসকো ৩৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৯৯ জনকে সাজা দিয়েছে। একই সঙ্গে ১৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

বকেয়া থাকায় নভেম্বরে ৬৫ হাজার ৪৪৮টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এসব সংযোগের বিপরীতে বকেয়ার পরিমাণ ১৫৬ কোটি নয় লাখ টাকা। এরমধ্যে পিডিবির পাঁচ হাজার ৩২৫টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এসব গ্রাহকের কাছে সংস্থাটির পাওনা ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা। আরইবির ৪৪ হাজার ৫২০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এসব গ্রাহকের কাছে বকেয়ার পরিমাণ ১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। ডেসকো ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বকেয়ার জন্য তিন হাজার ৭০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। ডিপিডিসি ১০৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বকেয়ার জন্য ৫ হাজার ৮৫০টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। ওজোপাডিকো দুই কোটি ৮৩ লাখ টাকা বকেয়ার জন্য দুই হাজার ৯২৬টি এবং নেসকো চার কোটি ৩৮ লাখ টাকা বকেয়া থাকায় চার হাজার ১৫৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।

জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোতে বকেয়ার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কাছে পাওনা বেশি। জনগণের জন্য কাজ করে বলে এসব প্রতিষ্ঠানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাও কঠিন। তারপরও বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোর বকেয়ার আলাদা তালিকা করা হচ্ছে। দেশের থানাগুলোর বকেয়া বিল আদায়ে পৃথক তালিকা হচ্ছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়ে এই তালিকা পাঠানো হবে। বেসরকারি অনেক কারখানা ও ব্যক্তির কাছেও বকেয়া জমেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলো আদায়ে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত