প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কিছুটা কমলেও এখনো চড়া পিয়াজের দাম

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর বাজারগুলোতে পিয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। তবে সে অনুযায়ী দাম কমছে না। ফলে পিয়াজের বাজার এখনো চড়া-ই আছে। গত বছর জানুয়ারি মাসে প্রতি কেজি পিয়াজের দাম ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা। ফলে পণ্যটির দর এখনো হাতের নাগালে আসেনি বলে মনে করেন ক্রেতা সাধারণ। এদিকে পিয়াজের মতো সবজির দামও বেশ খানিকটা কমে স্থির অবস্থায় রয়েছে।

গতকাল কাওরানবাজার হাতিরপুল বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে দেশি পিয়াজের কেজি ৬০-৬৫ টাকা। আর খুচরা বাজারে এই পিয়াজের কেজি ৭০-৭৫ টাকা। পাইকারি বাজারে ভারতীয় পিয়াজ ৫৫-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে দেশি ও ভারতীয় পিয়াজের দাম প্রায় সমান হয়ে গেছে।

জানা গেছে, দেশে গত নভেম্বরে টানা বৃষ্টিতে পিয়াজের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে পিয়াজের আবাদ নষ্ট হয়। এতে উৎপাদন কমে যায়। এতে বাংলাদেশের বাজারে দেশি পিয়াজ কেজিপ্রতি ১৪০ টাকা এবং ভারতীয় পিয়াজ ৯০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সেই হিসেবে বাজারে দর এখন বেশ কম। গত সপ্তাহে দেশি নতুন পিয়াজ কেজিপ্রতি ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হয়। এখন তা কমে ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবছর জানুয়ারিতে বাজারে নতুন পিয়াজের সরবরাহ বাড়ে। পাশাপাশি ভারত থেকেও নতুন মৌসুমের পিয়াজ আমদানি হয়। ফলে দাম বেশ কমে যায়। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত বছর এ সময়ে প্রতি কেজি পিয়াজের দাম ছিল ২০-৩০ টাকা।

টিসিবি হিসাবে, গত এক মাসে দেশি পিয়াজের দাম কমেছে ৪২.৮৬ শতাংশ। তবে বছরের ব্যবধানে এখনো পণ্যটির দাম ১৮০ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।

পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের পাইকারি পিয়াজ বিক্রেতা নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, দাম না কমার কারণ ভারতে দাম বেশি এবং দেশি পিয়াজের সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়।

কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে কোনো সবজির কমতি নেই। টমেটো, শিম, লাউ, কাঁচা-পাকা মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি (শালগম), পেয়াজের কালি, বেগুন, মুলা, লাল শাক, পালং শাক, লাউ শাক সবকিছুই বাজারে ভরপুর। সবজি বাজারে তেমন কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি। তবে টঙ্গিতে বিশ্ব ইজতেমা শুরু হওয়ায় এর প্রভাবে সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

কিছু সবজি ছাড়া বেশির ভাগ সবজির দাম ছিল অপরিবর্তিত। টমেটো, সিম, বেগুন, শসা ও করলাসহ বেশির ভাগ সবজি ছিল ৪৫-৫০ টাকার মধ্যে। আলু ২৫ টাকা মুলা ২০ টাকা এবং পেয়াজের ফুল এক আটি ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মটরশুঁটি ১৮০ টাকা, পটোল ১০০ টাকা এবং ঝিঙ্গা কেনাবেচা হয় ৮০ টাকা দরে। এদিকে চালের দামেও তেমন কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি। গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহে মোটা চাল ৪৫-৪৮ টাকা এবং চিকন চাল ৬০-৬২ টাকা দরে বেচাকেনা হয়।

এদিকে দামের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে কয়েকটি সবজির দরে। ফুলকপি বেশ কিছুদিন ধরেই প্রতি পিস ২০-৩০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছিল। সেই ফুলকপির দাম বেড়ে হয়েছে ৩৫-৪০ টাকা। ২০-২৫ টাকা দামে বিক্রি হওয়া পাতাকপির দাম বেড়ে হয়েছে ৩০-৩৫ টাকা। ৩০-৩৫ টাকা দামে বিক্রি হওয়া শিমের দাম বেড়ে হয়েছে ৪০-৫০ টাকা। আর বিচিসহ শিমের দাম বেড়ে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০-৫৫ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০-৩০ টাকা কেজি। ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া টমেটোর দাম বেড়ে হয়েছে ৫০-৬০ টাকা।

কাওরানবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আতিক বলেন, শীতের সময় সব সবজির দামই কম থাকে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সবজির দাম বেশ কমই ছিল। কিন্তু টঙ্গির বিশ্ব ইজতেমার কারণে এখন সামান্য দাম বেড়েছে। তবে এখন বাজারে কোনো সবজির অভাব নেই। মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত