প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকার দুর্নীতিকে রাষ্ট্রীয়করণ করেছে : ড. রেজওয়ান সিদ্দিকী

ইসমাইল বাবু : আওয়ামী লীগ সরকারের চার বছরে অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, ব্যাংকগুলো লুট হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে সকল খাতের অবনতি হয়েছে। সরকার দুর্নীতিকে রাষ্ট্রীয়করণ করেছে। সুতরাং আমার দৃষ্টিতে রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া ছাড়া এই সরকারের আর কোনো সাফল্য নেই। বর্তমান সরকারের ৪ বছরের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দৈনিক দিনকালের সম্পাদক ড. রেজওয়ান সিদ্দিকী আমাদের অর্থনীতিকে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কোনো সরকার ক্ষমতায় থাকলে, তার কিছু না কিছু সফলতা থাকেই। সরকার জনগণকে দৃশ্যমান কিছু দেখাতে চেষ্টা করে। যেমন, সরকার অনেকগুলো ফ্লাইওভার করেছে। কিন্তু এই ফ্লাইওভার দ্বারা যানজটের অবসান ঘটবে, এটা বাংলাদেশের কোনো স্থপতিই একমত প্রকাশ করেননি। নগর পরিকল্পনা করেছিলেন স্থপতি নজরুল ইসলাম। তাদের মূল পরিকল্পনায় এই ফ্লাইওভার ছিল না। আন্ডারপাস ও মেট্রোরেল এগুলোও ছিল না। কিন্তু সরকার উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখানোর জন্য এই ফ্লাইওভার তৈরি করেছে। আগে যে পথ ২০ মিনিটে অতিক্রম করা যেত, এখন সেখানে যেতে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। কিন্তু সরকার এটাকে তার সফলতা বলে মনে করতে পারে। পদ্মা সেতুতে একটা স্প্যান তুলেছে এবং সেটাই আমাদেরকে দেখাচ্ছে যে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হয়ে গেছে।

কিন্তু সেতুটির নিচে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটা কতদিনে সমাধান হবে তা প্রকৌশলীরা এখনো বলতে পারছেন না। এই সমস্যাগুলো সরকার দেখানোর চেষ্টা করে না। এখন আমি যদি এরশাদের আমলের সাথে তুলনা করি, তখন কিন্তু মহাসড়কগুলোর ব্যাপক উন্নতি হয়েছিল। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত সারা দেশের মহাসড়কগুলোর উন্নতি হয়েছিল। কোথাও কোথাও মহাসড়কের উন্নতি হয়েছে। উন্নতি হলেও সেটা সারাদেশে সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, কোথাও কোনো রাস্তাঘাট ঠিক নেই। আবার কোনো কোনো জায়গায় ২০-৩০ কিলোমিটার রাস্তা ভালো হয়েছে, এগুলোকে সরকার তার সাফল্য বলে দাবি করতে পারে। কিন্তু সরকারের ব্যর্থতা প্রতীয়মান যে এটাতে কোনো সন্দেহ নেই।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান তো নতুন করে এসেছে। নতুন সমস্যা বাদই দিলাম। হবিগঞ্জের বন্যা, হাওর এলাকায় যে বন্যা হলো, এই বন্যাটা মূলত দুর্নীতির কারণেই হয়েছে। এই ধরনের দুর্নীতিও সরকার হতে দিল। সরকার আজ পর্যন্ত সেখানকার দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। খাদ্যের এত সংকট। এই সংকটের মধ্যেও কত কথা আমরা শুনেছি তাদের মুখ থেকে। তারা দশ টাকা দামের চাল খাওয়াবে, আরও কত কিছু। কিন্তু বিএনপি সরকারের আমলে যে চাল আঠারো টাকা কেজি ছিল এখন সেই চাল ৭০ থেকে ৭২ টাকা। ৬০ থেকে ৭০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। এগুলো তো চূড়ান্ত ব্যর্থতার ফল। বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ফেলেছে। বাচ্চাদের পিএসসি, জেডিসি, আরও কত কিছু। এসব নাকি পরীক্ষা। এভাবে সমস্ত পরীক্ষায় বাচ্চাদের এমনভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে যে, তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা শিক্ষা ব্যবস্থাকে গোড়া থেকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে।

ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে অনার্স-মাস্টার্সের ভর্তি পরীক্ষা এবং চাকরি নিয়োগ পরীক্ষাও হচ্ছে এই প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে। নাহিদ নামক একজন ব্যক্তি শিক্ষামন্ত্রী, যে কিনা এগুলো নিয়েই বিরাট স্বপ্ন দেখছেন। একইভাবে, অর্থমন্ত্রীই কী কোনো অর্থ কেলেঙ্কারি রোধ করতে পেরেছেন? হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুট হয়ে গেছে। কয় পয়সা উদ্ধার করতে পেরেছেন? পারেননি তারা। বরং লুট করতে সাহায্য করেছেন। এই যে নতুন নতুন ব্যাংক হলো, ব্যাংকে টাকাও রেখেছে জনগণ। যেমন: ফারমার্স ব্যাংকে টাকা জমা রেখেছেন, সরকার টাকা চাচ্ছে। এখন সেই টাকা লুট হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের যে রিজার্ভ চুরি এর কোনো সমাধান হয়নি এখনো। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত টাকা না পাওয়া যাবে ততদিন পর্যন্ত তদন্তের রিপোর্ট দেওয়া হবে না। তাহলে এখানে অর্থমন্ত্রীর ইন্টারেস্টটা কি? তাহলে কি সরকারের মদদ আছে এই চুরিতে? সরকারের এমন কেউ আছে এর পিছনে, যে টাকা সরাতে ইন্ধন জুগিয়েছে, সাহায্য করেছে। কিংবা সরকার এই টাকার ভাগিদার কিনা এই কথা তো নিশ্চিত করে বলা যায় না। এগুলোতো সরকারের চূড়ান্ত ব্যর্থতা।

তিনি বলেন, সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে পাপ করেছে, তাতে কি হয়, ক্লোজড হয়। শাস্তির নামে এই যে ক্লোজড দেওয়া হয় এর মানে হলো তাকে হেড অফিসে বসিয়ে বসিয়ে বেতন দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। তারপর অন্য কোথাও পোস্টিং দেওয়া হয়। এর নাম হলো ক্লোজড। তো তাতে কি শাস্তি হলো? এই যে ডিআইজি মিজান, সে একজন নারীর সর্বনাশ করল। আরও কত নারীর সর্বনাশ করেছে। কিন্তু কি হয়েছে তার? কোনো শাস্তির আওতায় নেওয়া হয়নি। গ্রেফতার করা হয়নি। এমনিভাবে এরা যখন ডাকাতি করতে যায়, মানুষ যখন ধরে গণপিটুনি দেয়, তখন তাদের প্রত্যাহার করা হয়, ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আজকের পত্রিকায় দেখলাম ১২ জন কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরকার এমন প্রশ্রয় দিচ্ছে। তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে সরকার পুলিশ বাহিনী দিয়ে দেশ পরিচালনা করছে, যা গণতন্ত্রের ধ্বংসের নামান্তর।

এই সম্পাদক আরও বলেন, জঙ্গি দমনে সরকার যে ব্যর্থ, সেটা আমি বলব না। কিন্তু যে হারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, সাধারণ মানুষ জঙ্গি দমনের নামে প্রাণ দিয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। কল্যাণপুরে জঙ্গি নামে যাদের ধরা হয়েছে তাদের সকলের ঘাড়ে এবং পিঠে গুলি করা হয়েছে। তার অর্থ কি? অর্থাৎ তাদের দেয়ালের দিকে মুখ করে ধরে বা বেঁধে পিছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এটা মেডিকেল রিপোর্ট। তা যে সত্য নয় এর প্রমাণ হয়, যখন আমরা দেখি সরকার এটা চাপা দিতে চাচ্ছে। আমরা কিভাবে বুঝলাম সরকার এটা চাপা দিতে চায়। কারণ ঢাকা মেডিকেলের কোনো ডাক্তার ফরেনসিক রিপোর্ট সাংবাদিকদের প্রকাশ করতে পারবে না এমন একটা আইন করে দিয়েছে। তাহলে কি হলো? জঙ্গি দমন হলো নাকি গণহত্যা হলো? এই হলো আওয়ামী লীগ সরকারের চার বছর। সম্পাদনা : মারুফ হাসান নাসিম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত