প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৪
বাস্তবায়নের বাকি অনেক হাতে আছে ১ বছর

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাচনী ইশতেহারে দেখানো আশার আলো ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দল বেশ কিছু বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু ভোটের চার বছর পরও এর অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়নি। গ্যাস সংকট দূর হয়নি। সরবরাহ লাইনের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাফল্যও ম্লান। চালের দাম কমেনি, উল্টো বেড়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়নি। বন্ধ হয়নি দুর্নীতি। গুম-খুন সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। বেড়েছে সাংবাদিক নির্যাতন। শিক্ষা ব্যবস্থায় ধস নেমেছে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস রোধে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তবে কিছু ক্ষেত্রে আশার আলো একেবারেই নিভে যায়নি। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু হচ্ছে। নিম্নমধ্য আয়ে উন্নীত হয়েছে দেশ। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। দেশের অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন হয়েছে। অর্থনীতিতে সাফল্য আছে। তবে ব্যাংকিং খাতের লুটপাট বন্ধ করতে পারেনি সরকার।

‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৪ ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু চার বছর শেষে সেই ইশতেহার আশানুরূপ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তাদের মতে, প্রতিশ্রুতির ৫০ থেকে ৬০ ভাগই বাস্তবায়ন হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, গণতন্ত্র ও সুশাসন শক্তিশালী না হওয়ায় ধীরগতিতে ইশতেহার বাস্তবায়ন হচ্ছে। শেষবেলায় সরকার তড়িঘড়ি করে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। তবে সরকারের প্রতিনিধিরা বলছেন, চার বছরে সাফল্য-ব্যর্থতা থাকতেই পারে। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনেকাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি সব এ সরকারের মেয়াদেই হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের চার বছরে সাফল্য-ব্যর্থতা থাকতেই পারে। তবে ভুল থেকে আমরা শিক্ষা নিই। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে বলবেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ মনে করেন, আওয়ামী লীগ যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, তার বেশিরভাগই বাস্তবায়িত হয়েছে। যতটুকু বাস্তবায়ন হয়নি, তা এ সরকারের মেয়াদেই হবে। তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত সবক’টি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। সর্বশেষ রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমন হয়েছে। দেশের মানুষ শান্তিতে আছে।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুদার। সরকারের চার বছর পূর্তি ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে বুধবার তিনি বলেন, সকারের প্রথম প্রতিশ্রুতি ছিল সুশাসন, গণতন্ত্রায়ণ ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। এখানে সবটাই ব্যর্থ হয়েছে সরকার। তিনি বলেন, সরকারের চার বছরে উন্নয়নে এগিয়ে গেলেও আমরা গণতন্ত্রে পিছিয়ে আছি। দুর্নীতি বেড়েছে; সমান তালে বেড়েছে উগ্রবাদ।

সরকারের প্রতিশ্রুত বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে মজুমদার বলেন, গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী না হওয়ার কারণে সরকার অনেক ক্ষেত্রে সফল হতে পারছে না। সুশাসনেও পিছিয়ে পড়ছে।

সরকারের চার বছরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু হচ্ছে, অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এটাকে অনেকেই ফায়দা হিসেবে ব্যবহার করছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের সফলতা নেই। বিদ্যুতে সফলতা থাকলেও তা অতি উচ্চমূল্যে।

সরকারের ইশতেহারে অন্যতম আকর্ষণ ছিল রূপকল্প ২০৪১। এছাড়া ইশতেহারে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল সুশাসন, গণতন্ত্র, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীয়করণ, কৃষি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, দারিদ্র্যের হার ১৩ শতাংশে নামিয়ে আনা, নগরায়ণ, পরিকল্পতি উন্নয়ন, ১০ হাজার থেকে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। সেই সঙ্গে ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রে বাংলাদেশকে উন্নীত করার মেগা প্রতিশ্রুতিও আছে ইশতেহারে। কিন্তু গত চার বছরে সবক্ষেত্রে সফলতা দেখাতে পারেনি সরকার। অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। সফলতার জায়গাও আছে।

সুশাসন, গণতন্ত্রায়ণ ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ : সরকারের চার বছরে শান্তি স্থিতিশীলতা পুরো বাস্তবায়ন হয়নি। জঙ্গিবাদ দমনে সরকার সফল হলেও সন্ত্রাস, গুম, খুন কমাতে পারেনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সরকার সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে। তবে বিচার বিভাগ নিয়ে বেশ টানাটানিতে ছিল সরকার। এ নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা বিধান, তাদের কাজ ও চলাফেরার মৌলিক অধিকার অনেকাংশই নিশ্চিত হয়নি।

সংবিধান সুরক্ষা হলেও গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকার বাস্তবায়নে ঘাটতি ছিল। বর্তমান সরকারের আমলে ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তবে সরকারের চতুর্থ বছরে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা, রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ায় ইসির ওপর জনগণের আস্থা বেড়েছে। দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। সুশাসনও প্রতিষ্ঠা হয়নি। সরকারের চার বছরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল বেপরোয়া।

কঠিন নির্দেশনা দিয়েও সংসদ কার্যকর করতে পারেনি সরকার। কোরাম সংকট ছিল বেশ কয়েকবার। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শিষ্টাচার গড়ে তোলার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। সম্ভব হয়নি দলীয়করণমুক্ত অরাজনৈতিক প্রশাসন গড়ে তোলা। বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতেই সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। যোগ্যতা, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার বিচার করা হয়নি। বেকারত্ব কমানের কথা থাকলেও তা আরও বেড়েছে। তবে শক্তিশালী হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য : ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য কমানোর কথা থাকলেও তা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। চালের দামে ও কাঁচাবাজরে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। দফায় দফায় পেঁয়াজ-মরিচের দাম বৃদ্ধির কাছে মানুষ অসহায়, যেখানে ২০১২ সালে দেশ ছিল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০১৭ সালে খাদ্য আমদানি করেছে সরকার।

মানুষের গড় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। তবে দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চলছে কচ্ছপ গতিতে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারেনি। বেকারত্ব বেড়েছে। ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি : বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার সফলতা অর্জন করেছে। বিতরণ লাইনের কারণে এ সাফল্য ম্লান হয়ে পড়েছে। মেয়াদের পাঁচ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন মাত্রা ২০ হাজার মেগাওয়াটে নেয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে সরকার। ১০ হাজার মেগাওয়াট থেকে চার বছরে ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়াটে উন্নীত করেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালের আগেই নির্ধারিত ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে সক্ষম হবে সরকার। তবে গ্যাসের মজুদ কমে এলেও নতুন কোনো কূপ সন্ধান ও খনন কাজে ধীরগতি আছে। গ্যাস সংকট তীব্রতর হচ্ছে। এলপিজি আমদানির কথা থাকলেও চার বছরে দেশে এসে পৌঁছায়নি। এপ্রিল নাগাদ পৌঁছার কথা বলে জানা গেছে।

দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ : বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার এখন ২৪ দশমিক ৩। প্রতিশ্রুতি ছিল ২০২১ সালের মধ্যে শতকরা ১৩ ভাগে নিয়ে আসা। সরকারের চলতি মেয়াদে দারিদ্র্যের আনুপাতিক হার ১৫ শতাংশের নিচে নামানোর কথা ছিল। বাকি এক বছরে সেটির বাস্তব রূপ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। পল্লী উন্নয়নে সরকারের ব্যাপক পরিকল্পনা থাকলেও অনেকাংশে তা বাস্তবায়ন হয়নি। সার, বীজ, সেচসহ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি প্রদান, রেয়াতি সুদে প্রয়োজনীয় কৃষি ঋণ সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষক পর্যায়ে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হচ্ছে। কিন্তু এরপরও সে হারে উৎপাদন বাড়েনি।

শিক্ষা ও মানবোন্নয়ন : শিক্ষার মান ও উন্নয়নে বড় ধরনের ধস নেমেছে। প্রাথমিক শিক্ষার প্রশ্ন থেকে শুরু করে শিক্ষার সব পর্যায়ে প্রশ্ন ফাঁস সরকারকে বিব্রত করেছে। ভুলেভরা ছিল পাঠ্যপুস্তক। ধারাবাহিকভাবে সে ভুল হচ্ছেই। তবে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়ায় সরকার সফল। প্রতিটি জেলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, অপরাজনীতি, দলীয়করণ বন্ধ করতে পারেনি। নতুন করে সেশন জটে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত পাঁচ কলেজ।

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি : এ খাতে সরকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও এখন তথ্যসেবা পাচ্ছে। সফটওয়্যার শিল্পের প্রসার ঘটেছে। আইটি সার্ভিসের বিকাশ, দেশের বিভিন্ন স্থানে হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, আইসিটি ইনকুবেটর এবং কম্পিউটার ভিলেজ স্থাপনের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেগুলোও বাস্তায়ন শেষদিকে। এসবের চালিকাশক্তি ফোর-জি সেবা চালুর কথা থাকলেও তা এখনও শুরু করতে পারেনি সরকার।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ : ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সনাতন প্রসবের নিরাপদ সুযোগ-সুবিধা ও শিশু-মাতৃমঙ্গল সেবা নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার। এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত মহিলা ডাক্তার ও নার্স থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও চার বছরে তা বাস্তবায়ন হয়নি। ইউনিয়ন স্তরে থাকা মিনি স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে হাত গুটিয়ে নিচ্ছে সরকার। তবে ২০২১ সালের মধ্যে গড় আয়ুষ্কাল ৭২ বছরে উন্নীত করার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা এ সরকারের আমলেই বাস্তবায়িত হবে। বর্তমানে দেশের মানুষের গড় আয়ু ৭১ বছর ৬ মাস। সরকার চরাঞ্চলগুলোয় এখনও আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে পারেনি।

নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতা : নারীজাগরণ হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি, বৈষম্য বন্ধ করতে সরকার পুরোপুরি সফল নয়। বিদেশে যাওয়া নারী শ্রমিকরা ভালো নেই। তবে শিল্পবাণিজ্য ও সেবা খাতে নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বেড়েছে।

যোগাযোগ : যোগাযোগ খাতে উন্নয়ন ব্যাপক হলেও কমেনি যানজট। কাক্সিক্ষত পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। অর্ধেকের বেশি কাজ হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চার লেন নির্মাণ শেষ। পটুয়াখালীতে দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা বন্দরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়ে এখন চলমান আছে। বিমানে লোকসান অব্যাহতই আছে। ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালু করার কথা থাকলেও তা হয়নি।

মাদকাসক্তি প্রতিরোধ : মাদকাসক্তি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকলেও এটা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এমপি ও প্রভাবশালী নেতারা জড়িত থাকায় এ কাজে সফলতা আসছে না।

শ্রমিক ও প্রবাসী কল্যাণ : উল্লেখযোগ্য হারে বিদেশে কর্মসংস্থান বেড়েছে। দেশের রেমিটেন্স হার বেড়েছে। পোশাক শিল্পের ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হলেও কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।

নগরায়ণ : গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থান এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি ছিল। ইউনিয়ন সদর, উপজেলা সদর এবং শিল্পাঞ্চলগুলোয় পরিকল্পিত জনপদ ও গ্রামীণ-শহর গড়ে তোলার কথা দিয়েছিল সরকার। কিন্তু সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। ঢাকায় যে ৪টি উপশহর বা স্যাটেলাইট শহর নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল, তা-ও সম্পন্ন হয়নি। ফ্লাইওভার নির্মাণ হলেও যানজট কমেনি।

জাতীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতা : জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ হয়েছে। প্রতিশ্রুত প্রত্যেক উপজেলায় মুক্তমঞ্চ হয়নি। কোরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থী কোনো আইন বিগত চার বছরে প্রণয়ন হয়নি।

মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ও মুক্তিযোদ্ধার কল্যাণ : মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা তালিকা হালনাগদে অমুক্তিযোদ্ধারা ঢুকে পড়েছে। বাদ পড়েছেন অনেক সম্মুখযুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধা। সরকারের জন্য এটি একটি লজ্জাকর ঘটনা। যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত