শিরোনাম
◈ নবম পে-স্কেল: চুক্তিভিত্তিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে নতুন নিয়ম ◈ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ভুয়া ভোটার সন্দেহে আটক ৩ শিক্ষার্থী ◈ পুলিশের দায়িত্ব কেবল চাকরির পরিচয় নয় বরং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, ৩ আওয়ামী লীগ নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড ◈ সরকারি এলপিজির দাম ৭৭৭ টাকা, কোথায় যায় কারা পায়: ধরাছোঁয়ার বাইরে সাধারণ মানুষ ◈ ভুয়া এনআইডিতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফেরানোর চিন্তা ◈ বাকি টাকা মাগরিবের আগে পাঠান, না হলে বোটে আগুন জ্বালিয়ে দেব: যুবদল নেতার সঙ্গে মৎস্য কর্মকর্তার অডিও ভাইরাল ◈ গাজীপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসায় হামলা, আহত দম্পতির অভিযোগ মামলা নেয়নি পুলিশ ◈ ৯৯৯-এ কল পেয়ে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার, পকেটে আইফোন, হাতে ঘড়ি—যেভাবে শনাক্ত হলো ◈ হায়দরাবা‌দে টেনিসের জমিতে মসজিদ গড়ছেন সানিয়া মির্জা, বিতর্ক তুঙ্গে!

প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৯:৫০ সকাল
আপডেট : ১২ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৯:৫০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাস্তবায়নের বাকি অনেক হাতে আছে ১ বছর

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাচনী ইশতেহারে দেখানো আশার আলো ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দল বেশ কিছু বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু ভোটের চার বছর পরও এর অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়নি। গ্যাস সংকট দূর হয়নি। সরবরাহ লাইনের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাফল্যও ম্লান। চালের দাম কমেনি, উল্টো বেড়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়নি। বন্ধ হয়নি দুর্নীতি। গুম-খুন সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। বেড়েছে সাংবাদিক নির্যাতন। শিক্ষা ব্যবস্থায় ধস নেমেছে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস রোধে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তবে কিছু ক্ষেত্রে আশার আলো একেবারেই নিভে যায়নি। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু হচ্ছে। নিম্নমধ্য আয়ে উন্নীত হয়েছে দেশ। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। দেশের অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন হয়েছে। অর্থনীতিতে সাফল্য আছে। তবে ব্যাংকিং খাতের লুটপাট বন্ধ করতে পারেনি সরকার।

‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৪ ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু চার বছর শেষে সেই ইশতেহার আশানুরূপ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তাদের মতে, প্রতিশ্রুতির ৫০ থেকে ৬০ ভাগই বাস্তবায়ন হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, গণতন্ত্র ও সুশাসন শক্তিশালী না হওয়ায় ধীরগতিতে ইশতেহার বাস্তবায়ন হচ্ছে। শেষবেলায় সরকার তড়িঘড়ি করে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। তবে সরকারের প্রতিনিধিরা বলছেন, চার বছরে সাফল্য-ব্যর্থতা থাকতেই পারে। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনেকাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি সব এ সরকারের মেয়াদেই হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের চার বছরে সাফল্য-ব্যর্থতা থাকতেই পারে। তবে ভুল থেকে আমরা শিক্ষা নিই। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে বলবেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ মনে করেন, আওয়ামী লীগ যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, তার বেশিরভাগই বাস্তবায়িত হয়েছে। যতটুকু বাস্তবায়ন হয়নি, তা এ সরকারের মেয়াদেই হবে। তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত সবক’টি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। সর্বশেষ রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমন হয়েছে। দেশের মানুষ শান্তিতে আছে।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুদার। সরকারের চার বছর পূর্তি ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে বুধবার তিনি বলেন, সকারের প্রথম প্রতিশ্রুতি ছিল সুশাসন, গণতন্ত্রায়ণ ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। এখানে সবটাই ব্যর্থ হয়েছে সরকার। তিনি বলেন, সরকারের চার বছরে উন্নয়নে এগিয়ে গেলেও আমরা গণতন্ত্রে পিছিয়ে আছি। দুর্নীতি বেড়েছে; সমান তালে বেড়েছে উগ্রবাদ।

সরকারের প্রতিশ্রুত বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে মজুমদার বলেন, গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী না হওয়ার কারণে সরকার অনেক ক্ষেত্রে সফল হতে পারছে না। সুশাসনেও পিছিয়ে পড়ছে।

সরকারের চার বছরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু হচ্ছে, অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এটাকে অনেকেই ফায়দা হিসেবে ব্যবহার করছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের সফলতা নেই। বিদ্যুতে সফলতা থাকলেও তা অতি উচ্চমূল্যে।

সরকারের ইশতেহারে অন্যতম আকর্ষণ ছিল রূপকল্প ২০৪১। এছাড়া ইশতেহারে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল সুশাসন, গণতন্ত্র, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীয়করণ, কৃষি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, দারিদ্র্যের হার ১৩ শতাংশে নামিয়ে আনা, নগরায়ণ, পরিকল্পতি উন্নয়ন, ১০ হাজার থেকে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। সেই সঙ্গে ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রে বাংলাদেশকে উন্নীত করার মেগা প্রতিশ্রুতিও আছে ইশতেহারে। কিন্তু গত চার বছরে সবক্ষেত্রে সফলতা দেখাতে পারেনি সরকার। অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। সফলতার জায়গাও আছে।

সুশাসন, গণতন্ত্রায়ণ ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ : সরকারের চার বছরে শান্তি স্থিতিশীলতা পুরো বাস্তবায়ন হয়নি। জঙ্গিবাদ দমনে সরকার সফল হলেও সন্ত্রাস, গুম, খুন কমাতে পারেনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সরকার সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে। তবে বিচার বিভাগ নিয়ে বেশ টানাটানিতে ছিল সরকার। এ নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা বিধান, তাদের কাজ ও চলাফেরার মৌলিক অধিকার অনেকাংশই নিশ্চিত হয়নি।

সংবিধান সুরক্ষা হলেও গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকার বাস্তবায়নে ঘাটতি ছিল। বর্তমান সরকারের আমলে ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তবে সরকারের চতুর্থ বছরে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা, রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ায় ইসির ওপর জনগণের আস্থা বেড়েছে। দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। সুশাসনও প্রতিষ্ঠা হয়নি। সরকারের চার বছরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল বেপরোয়া।

কঠিন নির্দেশনা দিয়েও সংসদ কার্যকর করতে পারেনি সরকার। কোরাম সংকট ছিল বেশ কয়েকবার। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শিষ্টাচার গড়ে তোলার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। সম্ভব হয়নি দলীয়করণমুক্ত অরাজনৈতিক প্রশাসন গড়ে তোলা। বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতেই সরকারি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। যোগ্যতা, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার বিচার করা হয়নি। বেকারত্ব কমানের কথা থাকলেও